সামিরা মাখমালবাফ

অপরাজিতা আইচ

শনিবার , ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ at ৯:১৯ পূর্বাহ্ণ
82

সমকালীন নারী নির্মাতাদের মধ্যেই শুধু নয়, বরং সামগ্রিক বিবেচনায় জায়গা করে নিয়েছেন বিশ্ব চলচ্চিত্রকারদের তালিকায়। একজন প্রভাবশালী সিনেমা নির্মাতা হিসেবে তিনি এখন সুপ্রতিষ্ঠিত। ১৯৮০ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারিতে ইরানের তেহরানে জন্ম। তাঁর বাবাও আরেকজন স্বনামধন্য সৃজনশীল চলচ্চিত্র নির্মাতা। সিনেমার প্রতি প্রবল আগ্রহ থাকায় উচ্চবিদ্যালয়ের গন্ডিও পার হয়নি। পাঁচ বছর মেয়াদি সিনেমা নির্মাণের কোর্স করতে গিয়ে একাডেমিক পড়াশুনা ছেড়েছেন। কেবল দুটি ভিডিও প্রোডাকশন নির্মাণের পর মাত্র ১৭ বছর বয়সেই তিনি বিশ্বচলচ্চিত্রের অঙ্গনে হৈচৈ ফেলে দেন ‘আপেল’ সিনেমাটি নির্মাণ করে। এই সিনেমার পর বিশ্বের নানা প্রান্তের গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি ও পুরস্কার যোগ হয় তাঁর ক্যারিয়ারে। আপেলের পর তিনি ‘ব্ল্যাকবোর্ড’ নামের অন্য একটি সিনেমা নির্মাণ করেও পৃথিবীর সিনেমা জগৎকে একটা ঝাঁকি দেন। সেপ্টেম্বর ১১, এট ফাইভ ইন দ্য আফটারনুন এবং টু লেগড্‌ হর্স নামের সিনেমাগুলোও সমানভাবে সিনেমা ক্রিটিকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে। তিনি সামিরা মাখমালবাফ।
আরেক বিখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক সোফিয়া কপ্পোলার সাথে অনেক সময় সামিরার তুলনা করা হয়েছে। দুজনই বিখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক বাবা’র হাত ধরে চলচ্চিত্র জগতে এসেছেন। তাঁদের মধ্যে মিল আছে যথেষ্ট কিন্তু পার্থক্যগুলোও বেশ সুস্পষ্ট। ইরানে জন্ম নেয়া সামিরার চলচ্চিত্রে মধ্যপ্রাচ্যের মহিলাদের জটিল জীবনকে প্রতিফলিত করে। একজন নারীর আমেরিকার লস এঞ্জেলেসে সিনেমা নির্মাণ আর তেহরানে সিনেমা নির্মাণ এর মধ্যে প্রচুর পার্থক্য রয়েছে।
বাবার ছত্রছায়ায়ব প্রথম সিনেমা ‘আপেল’ নির্মাণের পর তাঁর পরবর্তী ছবি ‘ব্ল্যাকবোর্ডস’ যখন কান ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে পুরস্কার জেতে, তখন তিনি সেই পুরস্কারটি গণতন্ত্র ও উন্নত জীবনের জন্য লড়াই চালিয়ে যাওয়া তরুণদেরকে উৎসর্গ করে বিশ্ব-মিডিয়াতে সাড়া ফেলে দেন, এমনকি গদারও শ্রদ্ধা জানিয়েছিলেন তাঁকে। ১৪ বছর বয়সে স্কুল ছেড়ে আসা সামিরা একবার বলেছিলেন, আমি স্কুল অপছন্দ করি, তাঁর কারণ তারা কেবলই তোমার কাছে উত্তর প্রত্যাশা করে, কখনই তোমাকে প্রশ্ন করবার এবং একটা ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে ভাববার সুযোগ দেয় না।
সিনেমা তৈরির সেট-এ তিনি যথেষ্ট উদ্যমী এবং জানেন তিনি কি করতে চাইছেন এবং সেটা আদায় করে নিতে কঠোর হতেও দ্বিধা করেন না। মজার ব্যাপার হল, ভাইবোনেরা মিলে তাঁর চলচ্চিত্র নির্মাণশৈলীর উপর একটা তথ্যচিত্রও নির্মাণ করেছেন। এতে দেখা গেছে সামিরা কাবুলের রাস্তায় অপরিচিত লোকদেরও তাঁর সিনেমায় অভিনয়ের অনুরোধ জানাচ্ছেন, এতে তিনি সরাসরি উগ্রবাদীদের আক্রমণের শিকারও হয়েছিলেন। এট ফাইভ অফ দ্যা আফটারনুন তাঁর চতুর্থ ছবি, এ ছবি শুরুই হয় একটা জিজ্ঞাসা রেখে, আফগানিস্তানে কী সম্ভব একজন বেনজীর ভুট্টো কিংবা ইন্দিরা গান্ধীর আবির্ভাব? তিনি বলেছিলেন এক সাক্ষাৎকারে, ইরানে আমাদের নিজস্ব তালিবান আছে, আফগানিস্তানেও তাই, আমেরিকাতেও আছে। তাঁর সিনেমাগুলোতে তিনি দেখাতে চেষ্টা করেছেন বারবার কীভাবে একজন মধ্যপ্রাচ্যের নারীকে পিছিয়ে পড়তে হয়। তিনি আরও বলেছিনে, আমি সবসময় চেয়েছি মেয়েরা নিজ থেকেই এগিয়ে আসুক, প্রথা ভাঙ্গুক। কেউ একজন পথ দেখালে বাকি পথটা সহজ হয়ে যায়। একজন সাহসী ও বুদ্ধিমতী মানুষ নিজেই নিজের সিদ্ধান্ত নিতে পিছপা হন না। এই বিকল্প চিন্তার দৃষ্টিভঙ্গীই তাকে সবার চাইতে আলাদা করেছে, গুরুত্বপূর্ণ করেছে।

x