সাধ্যের সবটুকু দিয়েও না পারায় হতাশ ডি ব্রুইন

স্পোর্টস ডেস্ক

বৃহস্পতিবার , ১২ জুলাই, ২০১৮ at ১০:৫০ পূর্বাহ্ণ
42

বেলজিয়ামের সোনালি প্রজন্মের অন্যতম সেরা সৈনিক বলা হতো তাকে। দেশকে প্রথমবারের ফাইনালে ওঠানোর সুযোগ ছিল তার সামনে। কিন্তু ব্যর্থ হলেন। সেমিফাইনালে শক্তিশালী ফ্রান্সের বিপক্ষে ০১ ব্যবধানে হেরে বিদায় নেয় কেভিন ডি ব্রুয়েনের বেলজিয়াম। সেমিতে নিজেদের সবটুকু দিয়েই চেষ্টা করেছেন বলে ম্যাচ শেষে জানান এই ম্যান সিটি তারকা। অথচ কোয়ার্টার ফাইনালে দুর্দান্ত এক গোল করে বিদায় করে দিয়েছিল পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে। কিন্তু সেমিফাইনালে দলের এই অন্যতম সেরা তারকাটি ছিল একেবারে নিস্প্রভ। যার ফলটা পেয়েছে পুরো বিশ্বকাপে দুর্দান্ত খেলা বেলজিয়াম।

ফ্রান্সের বিপক্ষে হেরে যাওয়ার পর ম্যাচ শেষে ফিফার সঙ্গে কথা বলার এক পর্যায়ে ডি ব্রুইন বলেন, আমরা আমাদের সামর্থ্যের সবটুকু দিয়েই চেষ্টা করেছি । কিন্তু আজকের দিনটি আমাদের ছিল না। এভাবেই ফুটবল এগিয়ে যায়। যখন আপনি দেখবেন ম্যাচে ফিরে আসার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন তখন আসলে আর কিছু করার থাকে না। যেমনটি ছিলনা আমাদেরও। আমরা চেষ্টার কোর ত্রুটি রাখিনি।

ফ্রান্সের বিপক্ষে পুরো ম্যাচেই দারুণ খেলেছে বেলজিয়াম। ফ্রান্সের ৩৪৫টি পাসের বিপরীতে বেলজিয়াম ৫৯৪টি পাস দেওয়া নেওয়া করে নিজেদের ভেতর। বল দখলেও ছিল বেলজিয়াম এগিয়ে। ডি ব্রুইন বলেন, এটা ৫০৫০ ম্যাচ ছিল। আমরা জানতাম ম্যাচটা কঠিন হতে যাচ্ছে। কর্নার থেকেই আসলে গোলটা ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দিয়েছে। আর মনে রাখতে হবে এমন ম্যাচে সুযোগ আসবে খুব কম। যে সুযোগ আসবে সেটাকে কাজে লাগাতে হবে। আমাদেরও সুযোগ এসেছিল। কিন্তু আামরা পারিনি সে সুযোগ কাজে লাগাতে। ফলে আমাদের থামতে হয়েছে সেমিফাইনালে।

তবে ফ্রান্সের বিপক্ষে হারলেও ম্যাচে সতীর্থদের পারফরম্যান্সে খুশি ডি ব্রুইন। ‘এবারের বিশ্বকাপে আমরা যেভাবে পারফর্ম করেছি সেটা নিয়ে আমি গর্বিত। ফ্রান্স হয়তো কিছুটা রক্ষণাত্মক খেলেছে কিন্তু এটাই ফুটবলের সৌন্দর্য। আপনাকে বেছে নিতে হবে কী করতে চান। আমি এটাকে সম্মান জানাই। আমাদের উচিত ছিল তাদের সে রক্ষণাত্মক ভূমিকাটাকে কাজে লাগানো। কিন্তু আমরা পারিনি। তারা ম্যাচ জেতার জন্য যত ধরনের কৌশল ছিল সব ব্যবহার করেছে। আমরা তাদের চাইতে কিছুটা হলেও পিছিয়ে ছিলাম। আগামী শনিবার তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে দ্বিতীয় সেমিফাইনালের হেরে যাওয়া দলের বিপক্ষে মাঠে নামবে বেলজিয়াম। সেখানে জিতেই বাড়ির পথ ধরতে চায় বেলজিয়ামের সোনালি প্রজন্মের সেনানী কেভিন ডি ব্রুইন। বিশ্বকাপে বেলজিয়ামের সেরা সাফল্য ১৯৮৬ সালে চতুর্থ স্থান লাভ করা। এবারে অন্তত সেটাকে টপকাতে চাইবে বেলজিয়াম। এবার অন্তত তৃতীয় স্থান নিয়ে দেশে ফিরতে চাইবে বেলজিয়ামের সোনালী প্রজন্ম।

x