সাদিকা সুলতানা (গৃহশ্রমিকদের অধিকার)

মঙ্গলবার , ১ মে, ২০১৮ at ৪:০০ পূর্বাহ্ণ
61

 দাসপ্রথা পৃথিবীর ইতিহাসে সবচাইতে ঘৃণ্য বর্বরোচিত সমাজব্যবস্থা যেখানে মানুষকে মানুষ মনে করা হতোনা মনে করা হতো জীবন্ত বস্তু, কখনওবা প্রাণযুক্ত হাতিয়ার, যেখানে ব্যক্তি তার প্রকৃতি ও স্বভাবের বিরুদ্ধে অন্যের আজ্ঞাবহ, অন্যের সম্পত্তিতে পরিণত করে যে প্রথায় তার বিচারশক্তি ও ব্যক্তিত্ব হারিয়ে ফেলে, মানবীয় অধিকার থেকে বঞ্চিত হয় এমনকি বাঁচার অধিকার থেকেও সে বঞ্চিত। সেই দাসপ্রথা এখনও পুরোপুরি বিলুপ্ত হয়নি সমাজ থেকে। আমাদের গৃহে যে কাজ করে তাকে গৃহকর্মী, কাজের লোক, চাকর, চাকরানি বলি এবং তারা সেই দাস সমাজের দাসদাসীই রয়ে গেছে এখনও কোথাও কোথাও। এ গৃহকর্মীর অবদান একটি পরিবার, সমাজ, সংসার শান্তিময় করতে অসামান্য। কর্মজীবী নারীর ঘরের কাজে প্রধান সাহায্যকারীই শুধু নয় অনেক পরিবারে সন্তান লালনপালন দেখাশোনার কাজটাও করে গৃহকর্মী বা গৃহপরিচারিকা। দারিদ্র্যতা, নিরক্ষরতা, বেকারত্বেরর অসহায়ত্বে অনিবার্য পরিণতি হিসেবে এসব মানুষ অন্যের বাড়িতে খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান এর জন্য অনেক আশা নিয়ে কাজ করতে আসে বিশেষ করে গ্রাম থেকে শহরে। এর চেয়ে বেশী তাদের চাহিদা থাকে না। নারী, শিশু, বিধবা, বয়স্করাই বেশিরভাগ এই কাজে নিযুক্ত হয় বেশী যারা দরিদ্রের চাইতেও দরিদ্র এবং অসহায়। কিন্তু কিছু মুখোশধারী সুধীজন গৃহকর্মীর উপর নির্মম, আমানবিক নির্যাতন চালায়। টাকার বিনিময়ে ছোট শিশু গৃহকর্মীকে খাঁচায় বন্দি করে দরজায় তালা লাগিয়ে ঘরে বন্দি করে রাখে দিনের পর দিন। অনেক গৃহকর্মী শুধু আশ্রয়ের জন্য কাজ করে তাদের কোন বাড়তি টাকা দেয়া হয়না মজুরী হিসেবে। সেই অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান এর জন্য কাজ করে তার ন্যুনতমও এরা পায়না বেশিরভাগ গৃহকর্মী তার ওপর শারীরিক এবং মানসিক নির্যাতনের শিকার হয় প্রতিনিয়ত। তাই বর্তমানে সুধীসমাজের আলোচনার বিষয় হলো, কাজের লোক পাই না, কাজের লোক থাকে না কারণ দাসদাসী হয়ে থাকার চেয়ে অনেকে ভিক্ষা করা বা কারখানায় কাজ করতে ভালোবোধ করে। আরে সুধীজন একটু মানবিক হউন এদের প্রতি, ওদের নামটা ঠিক করে আদর করে ডাকুন জামালকে জামাল ডাকুন জামাইল্লা না, কুলসুম কে ওই নামে ডাকুন কুলসুমি না, নিজে যা খান যে রান্না করছে আপনার বাড়িতে তাকেও তাই খেতে দিন, শুধু পুরোনো কাপড় না দিয়ে ওকেও মাঝে মাঝে নতুন জামাকাপড় কিনে দিন সেওতো একজন মানুৃষ যার চাহিদা আপনার আমার শতভাগ হলে মাত্র একভাগ। সরকারকে অবিলম্বে আন্তর্জাতিক শ্রমসংস্থার আইএলও কনভেনশন ১৮৯ অনুসমর্থন এবং গৃহ শ্রমিকদের জন্য আইন প্রণয়নের দাবি জানিয়েছে জাতীয় গার্হস্থ্য নারী শ্রমিক ইউনিয়ন, সংগঠনটি বলছে গৃহশ্রমিকদের জন্য শোভনকাজ শীর্ষক আইএলওর কনভেনশন ১৮৯ প্রণয়ন করা হয়েছে কিন্তু বাংলাদেশে এখনও কনভেনশনটি অনুসমর্থন এবং আইনপ্রণয়ন করেনি ফলে গৃহশ্রমিকরা নানাভাবে বঞ্চিত হচ্ছে।

x