সাগরে ঈদ

আহমদ গিয়াস, কক্সবাজার

সোমবার , ১২ আগস্ট, ২০১৯ at ১১:৩৬ পূর্বাহ্ণ
228

কক্সবাজারের অর্ধলক্ষাধিক জেলে এবার ঈদ করছেন সাগরে।

৬৫ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞাসহ দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে গত প্রায় ৩ মাস সাগরে মাছধরা বন্ধ থাকায় আর্থিক অনটনের শিকার জেলেরা অনুকূল আবহাওয়ায় গত ৯ আগস্ট শুক্রবার সাগরে যাত্রা করেন।

ঈদের আগেরদিন ১১ আগস্ট পর্যন্ত কক্সবাজারের প্রায় আড়াই হাজার বোটের অর্ধলক্ষাধিক জেলে সাগরে মাছ ধরতে গেছেন এবং আজ সোমবার (১২ আগস্ট) তারা সেখানেই ঈদ করছেন বলে জানায় জেলা ফিশিং বোট মালিক সমিতি।

আজ সোমবার পবিত্র ঈদের দিন উপেক্ষা করে বঙ্গোপসাগরে জেলেদের মাছ ধরার এ দৃশ্য কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত থেকে খালি চোখেই দেখা যাচ্ছে বলে জানান উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দারা।

বোট মালিকরা জানান, সাগরে মাছধরার ওপর ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে গত প্রায় পক্ষকাল আগে ফের মাছ ধরা শুরু হলেও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে বার বার হোঁচট খাচ্ছে গভীর সাগর থেকে মাছ আহরণকারী ইলিশ জালের বোটগুলো। ফলে নিষেধাজ্ঞার আগে থেকে গত প্রায় ৩ মাসে সাগর থেকে আসেনি কোনো ইলিশ। তবে গত ৮ আগস্ট বৃহস্পতিবার থেকে সামুদ্রিক আবহাওয়ার অবস্থা স্বাভাবিক হয়ে আসায় ঈদের আনন্দকে পরোয়া না করেই গত শুক্রবার শত শত মাছ ধরার বোট সাগরে রওয়ানা দেয়।

এসব বোটের জেলেরা আজ সোমবার বঙ্গোপসাগরেই ঈদ করছেন বলে জানান কক্সবাজার জেলা ফিশিং বোট মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক মাস্টার মোস্তাক আহমদ।

মাস্টার মোস্তাক আহমদ বলেন, ‘কক্সবাজারের পাঁচ সহস্রাধিক বোটের লক্ষাধিক জেলের অধিকাংশই এখন সাগরে। সোমবার প্রায় আড়াই হাজার বোটের অন্তত অর্ধলক্ষাধিক জেলে সাগরে ঈদ করছেন। গভীর সাগরেই তারা পাশাপাশি বোট রেখে সকালে ঈদের জামাত করেছেন। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে মাছ ধরে তারা ঘাটে ফিরতে শুরু করবেন।’

তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে গত ২৪ জুলাই ফের মাছ ধরা শুরু হলে কক্সবাজারের জেলেরা ইলিশ ধরতে পক্ষকালের রসদ নিয়ে সাগরে রওয়ানা দেয় কিন্তু গভীর সাগরে পৌঁছে জাল ফেলার আগেই দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে মাছ না ধরেই ফিরে আসতে হয় তাদের। এর কয়েকদিন পর সাগর শান্ত হলে এ মাসের গোড়ার দিকে ফের সাগরে রওয়ানা দেন জেলেরা কিন্তু বার বার আগ্রহভরে সাগরে গিয়েও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে তারা বারংবার হোঁচট খান গভীর সাগর থেকে মাছ আহরণকারী ইলিশ জালের জেলেরা। ফলে নিষেধাজ্ঞার আগে থেকে গত প্রায় ৩ মাসে সাগর থেকে একটি ইলিশও ধরতে না পারায় লক্ষাধিক জেলে চরম আর্থিক অনটনে পড়েন। এমনই অবস্থায় ঈদের কয়েকদিন আগেই জেলেরা সাগরে রওয়ানা দেন।’

মাছের অভাবে সাগরপাড়ের এ শহরের প্রধান মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র ফিশারীঘাট গত প্রায় ৩ মাস ধরে খা খা প্রান্তরে পরিণত হয়েছে বলে জানান ফিশারীঘাটস্থ মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির পরিচালক জুলফিকার আলী।

জেলেরা জানান, সাগরে মাছধরা বড় নৌকায় ৩০ থেকে ৪০ জন এবং ছোট নৌকায় ৫ থেকে ১৭ জন জেলে থাকে। আবার কক্সবাজার শহরতলীর দরিয়ানগর ঘাটের ইঞ্জিনবিহীন ককশিটের বোটে থাকে মাত্র ২ জন জেলে। নৌকাগুলোর মধ্যে ইলিশ জালের বোটগুলো গভীর বঙ্গোপসাগরে এবং বিহিন্দি জালের বোটগুলো উপকূলের কাছাকাছি মাছ ধরে।

ইলিশ জালের বোটগুলো পক্ষকালের রসদ নিয়ে এবং বিহিন্দি জালের বোটগুলো মাত্র একদিনের রসদ নিয়ে সাগরে মাছ ধরতে যায়। বিহিন্দি জালের বোটগুলো সাগর উপকূলে ছোট প্রজাতির মাছ ধরে যাকে স্থানীয় ভাষায় ‘পাঁচকাড়া’ (পাঁচ প্রকারের) মাছ বলা হয়ে থাকে।

x