সাকিব-মাশরাফির বিকল্প দেখছেন না বিসিবি সভাপতি

স্পোর্টস ডেস্ক

শুক্রবার , ১২ জুলাই, ২০১৯ at ৮:২২ পূর্বাহ্ণ
86

এবারের বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সেরা পারফরমার সাকিব আল হাসান। শুধু তাই নয় অবিশ্বাস্য ফর্মে ছিলেন সাকিব। এক গাদা রেকর্ডের মালিকও হয়েছেন সাকিব বিশ্বকাপের এই আসরে। দলের সেরা পারফর্মারের বিকল্প যে নেই তা নিশ্চয় বলার অপেক্ষা রাখে না। অন্যদিকে বল হাতে অনুজ্জ্বল এক বিশ্বকাপ কাটিয়েছেন ওয়ানডে দলপতি মাশরাফি বিন মর্তুজা। বলা যায় দু’জনের পারফরম্যান্সে আশার পারদ দু রকমের। এক রকম একেবারেই উল্টো পথে হাঁটার মত। একজন যদি হন সুপার পারফরমার আর অন্যজন সুপার ফ্লপ। তারপরও মাশরাফির লড়াকু মনোভাবের জন্যই তার কোনো বিকল্প নেই বলে মনে করেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন।
মাশরাফির ফর্ম নিয়ে পুরো আসরেই সমালোচনায় মুখর ছিলেন টাইগার সমর্থকরা। ৮ ম্যাচে বোলিং করে মাত্র ১ উইকেট। তার নামের সঙ্গে একেবারেই বেমানান। অপরদিকে ব্যাট আর বল হাতে পুরো আসরের সবচেয়ে উজ্জ্বল পারফর্মার ছিলেন সাকিব। মাশরাফির ক্ষেত্রে ঘটনা পুরো উল্টো। প্রায়ই তিনি নিজের বোলিং কোটা পূরণ করতে পারেননি। তবে মাশরাফির ফর্ম যেমনই থাকুক না কেন, তার লড়াকু মানসিকতার প্রশংসা করলেন নাজমুল হাসান। লন্ডনে সংবাদ মাধ্যমকে তিনি বলেন, মাশরাফি খেলোয়াড় হিসেবে দলে আসেনি। কিন্তু আপনি যদি অধিনায়ক নিয়ে বলেন, তাহলে আমরা তার মতো দলনেতা খুঁজে পাইনি। আমি এটা সবসময়ই বলি। খেলোয়াড় হিসেবে সাকিব আর অধিনায়ক হিসেবে মাশরাফির কোনো বিকল্প নেই বাংলাদেশ দলে।
বিসিবি সভাপতি বলেন সাকিব ও মাশরাফি ছাড়া বাকি সবার বিকল্প আছে। মাশরাফি বিশ্বকাপে ভালো করেনি কিন্তু সে যে খুব একটা ভালো করবে না আর এটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। তা আমরা জানতাম। ইংল্যান্ডের মত এমন কন্ডিশনে তার ভাল করা নিয়ে আমরা খুব বেশি আশা করিনি। তাছাড়া সে আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনাল থেকে ইনজুরি বয়ে বেড়াচ্ছে। কিন্তু সে লড়াকু একজন সৈনিক। তাকে এক বা দু’বার বিশ্রামে রাখার কথাও আলোচনা করা হয়েছিল। সেও এমনটাই ভেবেছিল। কিন্তু এরপর সে ভাবলো, আমি সারা জীবন এই দেশের জন্য লড়েছি এবং এখন আমি শেষ দুই ম্যাচের জন্য নামবো। আমি ইনজুরি নিয়ে খেলে অভ্যস্ত। আমরা সবার কাছ থেকেই এমন মানসিকতা আশা করি। বিশ্বকাপের পুরো আসরেই মাশরাফির অবসর ভাবনা নিয়ে আলোচনা ছিল তুঙ্গে। প্রথম পর্ব শেষে বিদায় নেওয়ার পর সেই আলোচনা আরও বেগবান হয়। তবে এটাই নিজের ‘শেষ বিশ্বকাপ’ ঘোষণা দিলেও এখনই অবসর নেওয়ার কোনো ইচ্ছে নেই বলেই জানান মাশরাফি। তবে বিসিবি চাইলে সেটা অন্য কথা।
এদিকে মাশরাফির বিদায় নিয়ে প্রশ্ন করলে বিসিবি প্রধান বলেন, আমরা চেষ্টা করবো তার বিদায়টা যতো ভালোভাবে করা যায়। সবচেয়ে ভালো হয় যদি আমরা এটা নিজেদের মাটিতে করতে পারি। আমরা নিজেদের দেশে মাশরাফির একটি বিদায়ী ম্যাচ ভালোভাবে করতে চাই। কারন তাকে তার যথাযথ সম্মানটা দেওয়া দরকার। আমরা সবাই জানি মাশরাফি আমাদের দলটির জন্য কি করেছেন। তিনি সব সময় চেষ্টা করে গেছেন নিজের সেরাটা দিয়ে দলকে জেতাতে। সব সময় ভাল পারফর্ম করেনি মাশরাফি। কিন্তু তার আন্তরিকতা আর লড়াকু মনোভাবের কোন কমতি ছিলনা। সে সব সম শেষ পর্যন্ত লড়াই করে গেছে। যাতে দলতে জেতানো যায়। এমন নিবেদিত প্রান ক্রিকেটার পাওয়া আসলেই দুস্কর। তাই তাকে নিয়ে আমরা পরিকল্পনা করছি কিভাবে তার বিদায়টা স্মরণীয় করে রাখা যায়। মাশরাফি নিজেও চাইছেন দেশের মাটিতে বিদায় বলতে। সে চাওয়াটা আমাদেরও। আমরাও চাইছি কিভাবে তার বিদায়টাকে সুন্দর করা যায়। তবে এটা ঠিক মাশরাফি চলে গেলে সে শূণ্যতা দেখা দেবে সেটা পূরণ করা কঠিন হবে। তাই বলছি সত্যিকার অর্থে মাশরাফি সাকিবের বিকল্প খুঁজে পাওয়াটা বেশ কঠিন।

x