সাংসদ বাসন্তী চাকমার অপসারণ দাবি খাগড়াছড়িতে

জাতীয় সংসদে বিতর্কিত বক্তব্য

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি

রবিবার , ৩ মার্চ, ২০১৯ at ১০:৪৫ পূর্বাহ্ণ
127

তিন পার্বত্য জেলা থেকে মনোনীত সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য বাসন্তী চাকমার অপসারণের দাবিতে খাগড়াছড়িতে সংবাদ সম্মেলন করেছে পাহাড়ের দুই বাঙালি সংগঠন। গতকাল শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় খাগড়াছড়ি প্রেসক্লাবে এই দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করে পার্বত্য অধিকার ফোরামের কেন্দ্রীয় সংসদ ও পার্বত্য বাঙালি ছাত্র পরিষদ।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন পার্বত্য অধিকার ফোরামের কেন্দ্রীয় সভাপতি মাঈন উদ্দিন। এসময় তিনি অভিযোগ করে বলেন, ২৬ ফেব্রুয়ারি বাসন্তী চাকমা সংসদ অধিবেশনে পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত ৫১ শতাংশ বাঙালি ও রাষ্ট্রীয় বাহিনীকে জড়িয়ে অসত্য, বানোয়াট বক্তব্য প্রদান করেছেন। একজন সাংসদ হিসেবে একপেশে বক্তব্য পার্বত্য চট্টগ্রামের সকল জাতিগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব করতে পারে না। বাসন্তী চাকমার বক্তব্যে পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত বাঙালি ও অন্যান্য ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর লোকদের আশাহত করেছে। এছাড়া বাসন্তী চাকমা পার্বত্য চট্টগ্রামের বাঙালিদের ‘বহিরাগত’ এবং ‘সেটেলার’ বলে আখ্যায়িত করেছেন।
এসময় সংবাদ সম্মেলনে আরো অভিযোগ করে বলা হয়, পার্বত্য জেলা থেকে সংরক্ষিত নারী আসনের সাংসদ হয়েও তিনি এই অঞ্চলের নারী উন্নয়নের কোন কথা না বলে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ বাহিনীকে নিয়ে বিষোদগার করেছেন। যা সম্পূর্ণ মিথ্যা। তার এমন উগ্র সাম্প্রদায়িক বক্তব্য প্রত্যাহার করে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়ে তাকে স্বেচ্ছায় সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করার আহ্বান জানান বক্তারা।
সাংসদ পদ থেকে বাসন্তী চাকমার অপসারণের দাবিতে আজ জেলার শাপলা চত্বর এলাকায় মানববন্ধন কর্মসূচি ঘোষণা করে পার্বত্য অধিকার ফোরাম ও পার্বত্য বাঙালি ছাত্র পরিষদ। দাবি আদায় না হলে আরো কঠোর কর্মসূচি দেয়া হবে বলে জানানো হয়।
এ সময় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, পার্বত্য বাঙালি ছাত্র পরিষদের জেলা সভাপতি মো. লোকমান হোসেন, কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম মাসুদ, মাটিরাঙা উপজেলা সভাপতি রবিউল হোসেন, পার্বত্য অধিকার ফোরামের জেলা সভাপতি এসএম হেলাল প্রমুখ।
জাতীয় সংসদে রাখা বক্তব্য প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বাসন্তী চাকমা জানান, এই বিষয়ে প্রতিক্রিয়া তৈরি হওয়ার কথা না। আমি তো সেই ১৯৮৬ সালের কথা বলেছি। আমার মনে হয় না এগুলোর পুনরাবৃত্তি করা দরকার। আমি অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে এত দূর এসেছি। মানুষ সুখে থাকলে দুখের দিনের কথাগুলোও স্মরণ করা দরকার বলে আমি এসব জাতীয় সংসদে বলেছি।
বহিরাগত ও রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ বাহিনী নিয়ে দেয়া বক্তব্য সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি যে সময়ের কথা বলেছি তখন যে সেরকম পরিস্থিতি ছিল সেটা সবাই স্বীকার করবে।

x