‘সর্বরোগের’ ওষুধ কারখানা সিল, ২ কোটি টাকার ভেজাল ওষুধ ধ্বংস

রাউজান প্রতিনিধি

সোমবার , ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ at ১০:১৩ অপরাহ্ণ
386

দেশ হারবাল নামের একটি নকল বনাজি ঔষধের কারখানায় র‌্যাবের একটি দল অভিযান চালিয়ে দুই কোটি টাকার বেশি মূল্যমানের নকল ঔষধ জব্দের পর ধ্বংস করেছে।

এ অভিযানে ওই ভুয়া প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজারসহ চার কর্মচারীকে আটক করা হয়েছে। তবে প্রতিষ্ঠানের মালিক আবদুল হাকিম চৌধুরী এলাকায় না থাকায় তাকে গ্রেফতার করা যায়নি।

র‌্যাবের এই অভিযান চলে দক্ষিণ রাউজানে ব্রাহ্মনহাট ও নোয়াপাড়া পথেরহাটে আজ সোমবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত।

অভিযানে নেতৃত্ব দেয়া র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (সদর দপ্তর) নিজাম উদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, দেশ হারবাল নামের প্রতিষ্ঠানটি কলিকাতা হারবাল, টেলিওয়ান কল সেন্টারসহ বিভিন্ন নামে হারবাল ঔষধের প্রচারণা চালিয়ে সহজ-সরল মানুষকে ধোঁকা দিয়ে আসছিল। তারা গাছের ভুষি, আটা-ময়দাসহ বিভিন্ন ধরনের কেমিক্যাল ব্যবহার করে নকল ঔষধ তৈরি করতো। স্থানীয়ভাবে পরিচালিত ক্যাবল নেটওয়ার্কের চ্যানেলে তারা এসব ঔষধের প্রচারণা চালিয়ে মানুষকে আকৃষ্ট করতো। বিভিন্ন মাধ্যমে টাকা লেনদেন করে দেশের বিভিন্ন স্থানে ডাকযোগে এসব ঔষধ পাঠানো হতো যা খেয়ে মানুষ জটিল রোগে আক্রান্ত হয়।

র‌্যাব-৭ এর মেজর মেহেদী হাসান বিপিএম এ অভিযান সম্পর্কে বলেছেন এই ভুয়া ঔষধ তৈরির কারখানায় চলতি বছরের এপ্রিলের প্রথম দিকেও একবার অভিযান পরিচালনা করে অর্ধ কোটি টাকার নকল ঔষধ ধ্বংস করা হয়েছিল। বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল প্রতিষ্ঠানটি। ওই সময় প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ৪০ জনকে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে শাস্তি দেয়া হয়েছিল।তখন জরিমান আদায় করা হয়েছিল প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা।

র‌্যাবের সহকারী সুপার কাজী তারেক আজিজ বলেছেন, নকল ঔষধে কোটিপতি হওয়ার নেশায় অপরাধী আবদুল হাকিম সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে আবারও মানুষ মারার নকল ঔষধ তৈরি ও বিক্রি শুরু করেছে সংবাদ পেয়ে এ অভিযান পরিচালনায় নামে র‌্যাব।

অভিযানে উপস্থিত ছিলেন ঔষধ প্রশাসনের দুই তত্বাবধায়ক হোসাইন মোহাম্মদ ইমরান ও কামরুল হাসান।

স্থানীয়রা জানান, আজ দুপুরে র‌্যাবের অভিযানের বিষয়টি টের পেয়ে ভুয়া প্রতিষ্ঠানটির অনেক কর্মচারী পালিয়ে যায়।

র‌্যাবের সদস্যরা তিনটি দলে বিভক্ত হয়ে নোয়াপাড়া পথেরহাটের আমীর মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় দেশ হারবালের ঔষধ বিক্রি কেন্দ্র, পথেরহাটের পূর্ব পার্শ্বের ব্রাহ্মণহাটের কাছের প্রতিষ্ঠানটি, ঔষধের গুদাম ও পথেরহাটের পাশের নাছির বিল্ডিংয়ের চতুর্থ তলায় ঔষধ তৈরির কারখানায় অবস্থান নিয়ে রাত আটটা পর্যন্ত তল্লাশি চালায়।

এসময় তিনটি পৃথক স্থান থেকে জব্দ করা হয় প্রায় দুই কোটি টাকার নকল ঔষধ ও ঔষধ তৈরির উপকরণ।

র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিজাম উদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, এ প্রতিষ্ঠানের যে চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে তাদেরকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের মালিক আবদুল হাকিমের নামে মামলা রুজু করা হবে।

কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হচ্ছে ম্যানেজার জসিম উদ্দিন ইউছুপ(৩৫), কর্মচারী মোহাম্মদ হাসান(২৫), মোহাম্মদ ইমরান আলী(২৬) ও নাইম উদ্দিন(৩০)।