সর্দি-জ্বর নিয়ে চীনা নাগরিক হাসপাতালে

করোনাভাইরাস নিয়ে উদ্বেগ

আজাদী অনলাইন

সোমবার , ২৭ জানুয়ারি, ২০২০ at ৯:৪৫ অপরাহ্ণ

নভেল করোনাভাইরাস নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে রাজধানী ঢাকার একটি হাসপাতালে সর্দি-জ্বর নিয়ে ভর্তি হয়েছেন এক চীনা নাগরিক।

সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে তার রক্ত পরীক্ষার উদ্যোগ নিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

নতুন ধরনের করোনাভাইরাসটি চীনে প্রাণ সংহারের পর বিভিন্ন দেশ সতর্কতামূলক নানা পদক্ষেপ নিয়েছে।

বাংলাদেশেও বিমানবন্দরে থার্মাল স্ক্যানার বসানোসহ নানা ব্যবস্থা নেয়ার মধ্যে ওই চীনা নাগরিকের সর্দি-জ্বর নিয়ে হাসপাতালে ভর্তির খবর পাওয়া গেল। বিডিনিউজ

নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলে সর্দিজ্বর হয়, সেই সঙ্গে মাথা ব্যথা, কাশি, শরীরের অস্বস্তি বোধ হয় বলে চিকিৎসকরা ইতোমধ্যে জানিয়েছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ আজ সোমবার (২৭ জানুয়ারি) রাতে বলেন, ‘একজন চীনা নাগরিক সর্দি-জ্বর নিয়ে রাজধানীর একটি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর অতিরিক্ত সতর্কতা হিসেবে ওই নাগরিককে পরীক্ষা করবে। তিনি চীন থেকে এসেছেন। তার চীন ভ্রমণের ইতিহাস আছে। তিনি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন বিষয়টা এমন নয়। তবে যেহেতু ভর্তি হয়েছেন এ কারণে আমরা তার রক্ত পরীক্ষা করব। এটা আমাদের অতিরিক্ত সতর্কতা হিসেবে।’

করোনাভাইরাসে চীনে অর্ধ শতাধিক মানুষের মৃত্যুতে ওই দেশটি থেকে আসা সব বিমানযাত্রীকে বিমানবন্দরে থার্মাল স্ক্রিনিংয়ের মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। পাশাপাশি তাদের স্বাস্থ্য সংক্রান্ত তথ্যের একটি কার্ডও পূরণ করতে হচ্ছে।

তবে রবিবার পর্যন্ত ২ হাজারের বেশি মানুষকে পরীক্ষা করেও কারো দেহে ভাইরাসের উপস্থিতি পায়নি সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইন্সটিটিউট (আইইডিসিআর)।

তবে ইন্সটিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলছেন, ‘চীন থেকে জ্বর না নিয়ে এলেও আসার ১৪ দিনের মধ্যে যদি কারও জ্বর আসে তবে যেন তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়।’

একজন চীনা নাগরিকের হাসপাতালে ভর্তির খবর শুনে যোগাযোগ করা হলে অধ্যাপক ফ্লোরা এখনই এ বিষয়ে কোনো কথা বলতে রাজি হননি।

তিনি বলেন, ‘আমাদের হাসপাতাল থেকে ফোন করে জানিয়েছে। আমাদের কাছে যদি মনে হয় এটার স্যাম্পল পরীক্ষা করা যেতে পারে, সেক্ষেত্রে আমরা তা পরীক্ষা করব।’

তবে এখনও করোনাভাইরাস সংক্রমিত কেউ বাংলাদেশে ধরা পড়েনি বলে জানান তিনি।

সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, ‘করোনাভাইরাস শ্বাসতন্ত্রের রোগ। এটার প্রধান লক্ষণ জ্বর। সঙ্গে সর্দি, কাশি, গলাব্যথা থাকে।’

আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে এলে তো বটেই, হাঁচি-কাশি থেকে বায়ুর মাধ্যমেও এই ভাইরাস ছড়াতে পারে।

এই ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার পরামর্শ দিয়েছেন গবেষকরা। হাত না ধুয়ে চোখ, নাক ও মুখে তা না দিতে বলা হচ্ছে। আক্রান্তদের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলতে হবে।

এই রোগের টিকা ও প্রতিষেধক এখনও আবিষ্কার না হওয়ায় প্রতিরোধেই জোর দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। তবে আক্রান্ত হলে জ্বর ও ব্যথানাশক ওষুধ সেবন করা যেতে পারে। সেই সঙ্গে প্রচুর তরল পানের পরামর্শ দিয়েছেন তারা।