সরকারের শুদ্ধি অভিযান ও প্রত্যাশিত পরিবর্তন

বৃহস্পতিবার , ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ at ৪:২২ পূর্বাহ্ণ
80

দুর্নীতি ও দুর্বৃত্তায়নের বিরুদ্ধে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের সামপ্রতিক শুদ্ধি অভিযান এখন দেশের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এ অভিযানকে অভিনন্দিত করছেন সর্বমহল। বলছেন, ‘এরকম অভিযান আরো আগে পরিচালনার দরকার ছিল’। আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনগুলোতে চলমান শুদ্ধি অভিযান আরও জোরদার করার ইঙ্গিত দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ছাত্রলীগের পর যুবলীগ ধরেছি। একে একে সব ধরবো। গত ১৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে দলটির শীর্ষ নেতারা তাদের সাংগঠনিক অভিভাবক ও আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গণভবনে যান। সেখানে তিনি এ কথা বলেন। অনিয়মকারীদের কাউকে ছাড়া হবে না জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, সামাজিক যেসব অসঙ্গতি এগুলো দূর করতে হবে। মারামারি, খুন, এই যে ক্যাসিনো নিয়ে মারামারি খুনোখুনি হবে এগুলো টলারেট করবো না। তিনি বলেন, ‘আমি কষ্ট করে সব কিছু করছি দেশের জন্য, দেশের উন্নয়ন করছি, এর ওপর কালিমা আসুক সেটা আমি কোন ভাবে হতে দেবো না। আমি কাউকেই ছাড়বো না। যদি কেউ বাধা দেয় কাউকে ছাড়া হবে না’। ক্যাসিনোতে যেসব বিদেশি কাজ করছে তাদের যারা এনেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ক্যাসিনোর সঙ্গে যারা জড়িত বিদেশি, তারা আসলো কিভাবে, তারা ভিসা পেল কিভাবে, তাদের বেতন দেওয়া হয় কিভাবে, ক্রেডিট কার্ডে না ক্যাশে। কে ভিসা দিয়ে আনলো সমস্ত কিছু তদন্ত করা হচ্ছে। সবই ধরা হবে।’
ক্যাসিনো পরিচালনাসহ চাঁদাবাজি, দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের চলমান অভিযানে দেশের মানুষ সমর্থন দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন অভিজ্ঞমহল। এতে জনগণের কাছে সরকার ও আওয়ামী লীগের ইমেজ আরও বেড়েছে বলে মনে করছেন তাঁরা। তাঁরা জানান, দলের নাম ভাঙিয়ে কিছু লোকের অপকর্মের কারণে সরকার ও আওয়ামী লীগের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছিল। এদের অপকর্মের দায় বিভিন্ন সময় আওয়ামী লীগের উপর এসে পড়ে। এই অভিযানে কাউকে ছাড়া হচ্ছে না, সে দলের হোক আর দলের ছত্রছায়ায় থেকে করুক। ফলে এই অভিযান জনগণ ইতিবাচক হিসেবে নিয়েছে। এতে জনগণের কাছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার সরকার ও আওয়ামী লীগের ভাবমূর্তি বাড়ছে।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে লক্ষ্য করা গেছে, কী বিপুল বিত্ত-বৈভবের মালিক হয়েছেন দলীয় নেতারা, যাদের বৈধ আয় খুব সামান্যই। তবে এটা স্পষ্ট যে, আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশকারী ও হাইব্রিডদের মধ্যে যাঁরা অপকর্মে জড়িয়েছেন তাঁরাই গ্রেপ্তার হয়েছেন। এদের মদদদাতাদের আইনের আওতায় আনার ঘোষণা রয়েছে। সব শেষে দলীয় নেতাকর্মী, মন্ত্রী-এমপিদের মধ্যে থাকা এবং প্রশাসনে ও বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃত্বে থাকা অপকর্মকারীদের দিকে নজর দেয়া হবে। দেশের জনগণেরও প্রত্যাশা, সরকার তার সিদ্ধান্ত পুরোপুরি বাস্তবায়ন করুক। দেশবাসীর এটা বদ্ধমূল ধারণা যে, সরকারপ্রধান শেখ হাসিনা যেহেতু এই উদ্যোগ নিয়েছেন, ফলে তা শতভাগ বাস্তবায়িত হবে। আর এটা শতভাগ বাস্তবায়িত হলে আওয়ামী লীগের ভাবমূর্তি দেশবাসীর সামনে আরও উজ্জ্বল হবে।
সরকারের পক্ষ থেকে বারবার বলা হচ্ছে, বাংলাদেশে ক্যাসিনো বাণিজ্য বৈধ নয়। তারপরও দিনের পর দিন চলে আসছে। এখন প্রধানমন্ত্রী খুবই কড়া চোখে দেখছেন। তিনি কঠোর ভূমিকা পালন করছেন বলেই তারা ধরা পড়ছেন। দুর্নীতি, অনিয়ম, রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক ছত্রছায়ায় চলা সামাজিক অপকর্মের বিরুদ্ধে চলা এ অভিযান যদি অব্যাহত থাকে, তাহলে সরকারের ভাবমূর্তি আরো উজ্জ্বল হবে- তাতে কোনো সন্দেহ নেই।
যে কাজটা শুরু করা হয়েছে এটা অব্যাহত রাখা সরকারের দায়িত্ব। এতে সরকারের উপর মানুষ খুশি হয়েছে। শুধু অপকর্মের সঙ্গে সরাসরি জড়িত তারাই নয়, যারা এই অপকর্মের সঙ্গে জড়িত তাদের মদদদাতা কারা তাদেরও খুঁজে বের করতে হবে। অবৈধ অস্ত্র কোথা থেকে এলো, কারা সহযোগিতা করলো তাদেরও খুঁজে বের করে সবাইকে আইনের মুখোমুখি দাঁড় করা হবে।এ অভিযানের মধ্য দিয়েই জনগণ ব্যাপক একটা পরিবর্তন আশা করতে পারে।

x