সরকারের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও প্রাসংগিক কথা

রবিবার , ১৯ জানুয়ারি, ২০২০ at ৫:১৮ পূর্বাহ্ণ
11

বাংলাদেশ সম্ভাবনার দেশ। এ নিয়ে কারো মধ্যে কোনো দ্বিমত নেই। অর্থনীতিতে এশিয়ার টাইগার হবে এমন কথা বহুবার বলা হয়েছে। এশিয়ার টাইগারে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনার সব উপাদান এখানে বিদ্যমান। তবে সম্ভাবনা থাকলেইতো হবে না। সম্ভাবনাকে সঠিক উদ্যোগের মাধ্যমে কাজে লাগাতে হবে। ডলার কোশ্চেন হচ্ছে আমরা এ সম্ভাবনাকে কতটা বাস্তবে রূপ দিতে পারছি? কাজের চেয়ে কথা বেশি বলছি কি না? বাণিজ্যে বসতি লক্ষী যে কথা আছে, তা বাস্তবায়ন করা যাচ্ছে কিনা? এসব প্রশ্নের উত্তরে বলা যায়, নানা সমস্যার কারণে অফুরন্ত সম্ভাবনা বনসাই বৃক্ষ হয়ে রয়েছে। তা বড় করা যাচ্ছে না একথা সবাই জানেন, অর্থনীতির প্রধান স্তম্ভ ব্যবসা বাণিজ্য। ক্ষুদ্র ও মাঝারি থেকে শুরু করে বৃহৎ শিল্প কারখানা স্থাপন এবং তা গতিশীল থাকার মধ্যেই অর্থনীতির উন্নতি নিহিত। দুঃখের বিষয় হচ্ছে এ খাতটি দীর্ঘদিন ধরে ধুকছে। প্রতিষ্ঠিত অনেক শিল্প কারখানার উৎপাদন স্থবির হয়ে পড়েছে। অনেক শিল্পদ্যোক্তা ব্যবসা বাণিজ্য এবং কলকারখানা স্থাপন করে বসে আছেন। অনেক পোশাক শিল্প কারখানাও বন্ধ হয়ে গেছে। আবার পুরনো শিল্প কারখানার উৎপাদন সক্ষমতা ও কমেছে। সরকার কি অর্থনীতির অন্যতম মূল স্তম্ভ শিল্প কারখানার স্থবিরতা এ চিত্র জানে না? নিশ্চয়ই জানে। জেনেও তা এড়িয়ে অর্থনীতির উন্নতির কথা বলা কতটা সমীচীন? ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত না করে এ ধরনের কথা বলা ঠিক উচিত? বাস্তবতা হচ্ছে সরকার অনেক কল কারখানায় গ্যাস-বিদ্যুতের সংযোগ দিতে পারছে না। অর্থনীতির মন্দার চিত্র আরও আছে। যদি বিনিয়োগের দিকে দৃষ্টি দেয়া যায় তবে দেখা যাচ্ছে, সেখানে করুণ অবস্থা বিরাজ করছে। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বলতে কিছু নেই। বিনিয়োগের পরিমাণ ধারাবাহিকভাবে কমছে। নতুন বিনিয়োগ নেই বললেই চলে। দেশি বিনিয়োগ এতটাই কমেছে যে ব্যাংকগুলো অলস টাকার পাহাড় নিয়ে বসে আছে। অর্থ বৃদ্ধির একমাত্র উপায় লেনদেন। স্তূপ করে জমিয়ে রাখলে তা কখনো বাড়ে না। আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে স্তূপিকৃত এই অর্থ এবং রেকর্ড পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ নিয়ে সরকার গর্ববোধ করছে। বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রধান মেরুদন্ড যে কৃষি। সে ক্ষেত্রটি কি ভালো আছে? সরকার বাম্পার উৎপাদনের কথা বলে কৃতিত্ব নেয়। উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য দাম না পাওয়া নিয়ে যে কৃষক মাথায় হাত দিয়ে বসে থাকে, হতোদ্যম হয়ে পড়ে। এ বিষয়টি বলে না। কৃষক ধান, আলুসহ অন্যান্য ফসল বাম্পার ফলিয়ে বিক্রি করতে গিয়ে লাভ দূরে থাক, উৎপাদন খরচও পায় না। কৃষকের এসব সমস্যা সমাধান না করেই সরকার খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতার কথা বলে ক্রেডিট নিতে থাকে। আবার চাল আমদানিও করে। এমন দ্বৈত নীতির কারণে কৃষকেরা হতাশ হয়ে বসে থাকা ছাড়া আর কী উপায় থাকতে পারে ? বছরের পর বছর ধরে যদি কৃষককে হতাশায় ডুবে থাকতে হয় তাহলে উন্নতি হবে কিভাবে? এদিকে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয় মানুষের ক্রয় ক্ষমতা বেড়েছে। একথাটিও সার্বজনীন নয়।
এম. এ. গফুর, বলুয়ার দীঘির দক্ষিণ-পশ্চিম পাড়, কোরবানীগঞ্জ, চট্টগ্রাম।