সরকারি চিকিৎসকদের প্রাইভেট চিকিৎসা সেবা ও কিছু কথা

বৃহস্পতিবার , ১৯ মার্চ, ২০২০ at ৫:৪০ পূর্বাহ্ণ
65

মানুষের মৌলিক চাহিদাগুলোর অন্যতম স্বাস্থ্য। অনিবার্য কারণে স্বাস্থ্যের প্রত্যাশিত অবস্থার পরিবর্তন হলে আমরা চিকিৎসকদের পরামর্শ গ্রহণ করি। সেবা কিংবা পরামর্শ গ্রহণের বিনিময়ে চিকিৎসকরা নেন নানা অঙ্কের ফি। সরকারি হাসপাতাল বা অন্যান্য চিকিৎসা সেবা কেন্দ্রের বাইরেও বিভিন্ন ক্লিনিক ও ব্যক্তিগত চেম্বারে বসে তারা রোগীদের চিকিৎসা সেবা প্রদান করেন। কিন্তু অধিকাংশ চিকিৎসক এজন্য যে সেবামূল্য গ্রহণ করেন তা সাধারণ মানুষদের জন্য বেশিই। এমনও দেখা যায়, প্রদত্ত ওষুধের মূল্যের চেয়েও চিকিৎসকের ফি’র পরিমাণ বেশি! এছাড়া রোগ নির্ণয়ের জন্য চিকিৎসকগণ যেসব পরীক্ষা-নিরীক্ষার বাধ্যবাধকতা দেন তার জন্যও রোগীদের গুণতে হয় মোটা অঙ্কের অর্থ। বিভিন্ন সময় পত্রিকার প্রতিবেদন অনুযায়ী এসব পরীক্ষার জন্য ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক কেন্দ্র থেকে ’কমিশন’ও নেন সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক। আবার সেই পরীক্ষার রিপোর্ট দেখানোর জন্যও চিকিৎসকরা সময় নির্দিষ্ট করে দেন। অন্যথায় নেন ফি। আর অস্ত্রোপচার হলে তো কথাই নেই। প্রতিনিয়তই চিকিৎসকদের বিশেষ করে সরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরতদের ব্যক্তিগত চেম্বার কিংবা প্রাইভেট হাসপাতালে রোগী দেখার বিষয়ে বিভিন্ন মহল কথা বললেও বাস্তবে পরিবর্তনের দেখা মিলছে না। বরং দিন দিন বাড়ছে ক্লিনিক ও প্রাইভেট হাসপাতালের সংখ্যা। প্রতিদিন বিকেল বা সন্ধ্যা থেকে অনেক রাত পর্যন্ত নানা ধরণের রোগীদের ভীড় লেগে থাকে এসব ক্লিনিক ও হাসপাতালগুলোতে। মাঝে মাঝে চিকিৎসকের অবহেলা কিংবা অন্য কোনো কারণে রোগীর মৃত্যু হলে সংবাদপত্রের শিরোনাম সরব করে সংশ্লিষ্ট কর্তাব্যক্তিদের। চিকিৎসকদের প্রাইভেট চিকিৎসা বন্ধের রব উঠে। কিন্তু কয়েকটা দিন যেতে না যেতেই অবস্থা সেই আগেরই। সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রাইভেট ও কোচিং বাণিজ্যের ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি সচেতন মহল যেভাবে সোচ্চার সরকারি চিকিৎসকদের প্রাইভেট চিকিৎসা, কমিশন ও ক্লিনিকের রমরমা বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও তদারকি আবশ্যক। সরকারি হাসপাতালে অত্যধিক রোগীর চাপে সময় স্বল্পতা, রোগ নিরূপণে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির অপ্রতুলতা ও যথেষ্ট জনবল ইত্যাদির কারণকে পুঁজি করে শহর ও মফস্বলের যত্রতত্র গড়ে উঠছে বেসরকারি চিকিৎসাসেবা কেন্দ্র। অনেক প্রাইভেট হাসপাতালের মালিকানায় অংশীদার থাকছেন খোদ সরকারি চিকিৎসকদের পরিবার-পরিজন! দেশের সিংহভাগ মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত জনসাধারণের আর্থিক সামর্থ্যের ভিত্তিতে সরকারি হাসপাতালে সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর পাশাপাশি এর বাইরে চিকিৎসকদের প্রদত্ত সেবার মূল্য নিয়ন্ত্রনে পদক্ষেপ নিতে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের দায়িত্বশীলদের সদয় দৃষ্টি প্রত্যাশিত।
আবু ফারুক, বনরুপা পাড়া, সদর, বান্দরবান।