সরকারি কর্তাদের পরিবারসহ কর্মস্থলে থাকার নির্দেশ

বুধবার , ১০ এপ্রিল, ২০১৯ at ৭:৪২ পূর্বাহ্ণ
1779

মাঠ পর্যায়ে নিয়োজিত সরকারি কর্মকর্তাদের সার্বক্ষণিক কর্মস্থলে উপস্থিতি নিশ্চিতে তাদের পরিবারকেও সঙ্গে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মাঠ পর্যায়ে নিয়োজিত সরকারি কর্মকর্তাদের অনেকের কর্মস্থলে না থাকার বিষয়টি নজরে আসায় তিনি এই নির্দেশনা দিয়েছেন বলে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান জানিয়েছেন।
গতকাল মঙ্গলবার শেরেবাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ওই নির্দেশনার পাশাপাশি দরিদ্রদের জমি অধিগ্রহণের বিষয়েও সতর্ক করেছেন প্রধানমন্ত্রী। সুযোগ থাকলে অল্প জমির মালিক, বর্গাচাষীসহ এই ধরনের মানুষের জমি অধিগ্রহণ থেকে বিরত থাকা এবং তা নিতে বাধ্য হলে বর্তমান বাজার মূল্যের অন্তত তিন গুণ অর্থ দেওয়ার পাশাপাশি তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নিতে বলেছেন তিনি। খবর বিডিনিউজের।
একনেক সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর এসব নির্দেশনা সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন পরিকল্পনামন্ত্রী মান্নান। তিনি বলেন, মাঠ পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করা সরকারি কর্মকর্তাদের সপরিবারে কর্মস্থলে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। জেলা পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা বিশেষ করে প্রকল্প পরিচালকদের তো থাকতেই হবে।
তিনি জানান, অনেক প্রকল্প পরিচালক প্রকল্প এলাকায় থাকেন না। তেমনি অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তারাও কর্মস্থলে থাকেন না। বিষয়টি সরকারের নজরে এসেছে। এজন্য প্রধানমন্ত্রী ওই নির্দেশনা দিয়েছেন।
বৈঠকে উপস্থিত একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, বিশেষ করে জেলা প্রশাসকদের সার্বক্ষণিক কর্মস্থলে থাকার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এজন্য জেলা প্রশাসকদের পরিবারকে কর্মস্থলে রাখার নির্দেশও দিয়েছেন তিনি। জমি অধিগ্রহণ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা তুলে ধরেন পরিকল্পনামন্ত্রী। তিনি বলেছেন, গরিব মানুষ, খুব অল্প জমির মালিক, বর্গাচাষীসহ সংশ্লিষ্টদের জমি উন্নয়ন প্রকল্পে জন্য অধিগ্রহণ করা যাবে না। যদি অধিগ্রহণ করতেই হয় তাহলে তাদের তিন গুণ ক্ষতিপূরণ তো দিবেনই, একইসঙ্গে তাকে পুনর্বাসনের ব্যবস্থাও করতে হবে। অধিগ্রহণ হওয়া জমিতে উন্নয়ন কাজ শুরু করার আগেই ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া প্রয়োজনের অতিরিক্ত জমি অধিগ্রহণ না করা এবং ফসলি জমিতে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন না করারও নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।
সরকারি ভবন নির্মাণে অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা কথাও বলেছেন শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, এখন থেকে ভবন তৈরির সময় খোলা ভবনে জায়গা বা বারান্দা রাখতে হবে, যাতে মানুষ অগ্নিকাণ্ডের সময় আশ্রয় নিতে পারে। ভেন্টিলেশন (বায়ু চলাচলের জায়গা) ব্যবস্থা রাখতে হবে। ভবনের আশপাশের পুকুর বা জলাশয় নষ্ট করা যাবে না।
সামপ্রতিক অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এসব নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এছাড়া নদীর নাব্য রক্ষা ও ভাঙন রোধে দেশের নদীগুলোতে নিয়মিত ড্রেজিং করারও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।