সম্মেলনের জোর প্রস্তুতি রাউজান আওয়ামী লীগের

পদ পেতে যোগ্যতার পরীক্ষায় নেতাকর্মীরা

মীর আসলাম, রাউজান

রবিবার , ২১ জুলাই, ২০১৯ at ৫:০৩ পূর্বাহ্ণ
115

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির নির্দেশ রয়েছে প্রতিটি জেলা-উপজেলায় সম্মেলন করে দলীয় নেতা নির্বাচন করতে হবে। এই নির্দেশনা মেনে সম্মেলন করার জোর প্রস্তুতি নিচ্ছে রাউজান উপজেলা আওয়ামী লীগ। ইতিমধ্যে দলটির ইউনিয়ন,ওয়ার্ড ও পৌরসভার ওয়ার্ড পর্যায়ে কমিটি গঠনে মনোযোগী হয়েছে স্ব স্ব এলাকার নেতৃবৃন্দ। কমিটিতে স্থান পাওয়ার যোগ্যতার পরীক্ষায় অংশ নেয়া সকলকে নেতৃবৃন্দের বরাবরে দাখিল করতে হচ্ছে আইডি কার্ডের কপি, পারিবারিক তথ্যসহ জীবনবৃত্তান্ত, রাজনীতিতে অতীত, বর্তমান কর্মকাণ্ডের বিবরণ। যুব ও ছাত্রলীগের কমিটি গঠন করতে দেখা হচ্ছে সামাজিক গ্রহণযোগ্যতার, চারিত্রিক বিষয়, হাল নাগাদ ছাত্রত্বের প্রমাণপত্র। দলের দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ বলেছেন প্রতিটি কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে বিবেচনায় নেয়া হবে যোগ্য, মেধাবী ও ত্যাগী নেতাকর্মীদের।
রাউজানের আওয়ামী লীগ রাজনীতির অতীত ইতিহাস থেকে জানা যায়, স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত স্থানীয় রাজনীতির নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছিল আওয়ামী লীগ। বঙ্গবন্ধু হত্যার পর এই উপজেলার রাজনীতির নিয়ন্ত্রণ চলে যায় স্বাধীনতা বিরোধী তথা বিএনপি জামাত সমর্থিত রাজনীতিকদের হাতে। আওয়ামীলীগ বিরোধী এই শক্তির সাথে ১৯৯৬ সালের পূর্বসময় পর্যন্ত রাজনীতির মাঠে সক্রিয় থেকে দলের নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠার লড়াই করে আসছিলেন প্রয়াত নেতা আবদুল্লাহ আল হারুন ও প্রয়াত সিটি মেয়র মহিউদ্দিন চৌধুরী। দুজনই বিভিন্ন সময় প্রতিপক্ষের সাথে জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিয়ে জয়ী হতে ব্যর্থ হয়। ওই সময়ে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সাথে আদর্শের লড়াই করতে গিয়ে প্রাণ দিতে হয় অনেক আওয়ামী লীগ,যুবলীগ,ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের। ৯৬ নির্বাচনের পূর্বমুহূর্তে দলটির নীতি নির্ধারক পর্যায় থেকে নির্বাচনী প্রার্থী ঘোষণায় চমক দেখান। দলের পক্ষে মনোনয়ন প্রদান করেন রাউজানের বর্তমান সাংসদ এবিএম ফজলে করিম চৌধুরীকে। প্রথম নির্বাচনে নেমে তিনি প্রতিপক্ষের হাতে অল্প ভোটে পরাজিত হলেও রাজনীতির মাঠে মনোযোগী হন নিজ দলের সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধির। তখন থেকে তিনি দলের নেতাকর্মীদের সংগঠিত করে মেধার পরিচয় দেন। দ্বিতীয় নির্বাচনে প্রতিপক্ষকে পরাজিত করার মাধ্যমে ৭৫ পরবর্তী সময় থেকে হাত ছাড়া হয়ে থাকা রাউজানের দলীয় আসনটি পুনরুদ্ধার করেন। রাউজানের সর্বক্ষেত্রে উন্নয়ন করে এলাকার সর্বস্তরের মানুষের আস্তা অর্জন করে পর পর চারবার নির্বাচন করে চতুর্থবারের মত আওয়ামী লীগের আসনটি পাকাপোক্ত করেন।
রাউজান রাজনীতিতে প্রবীণদের মধ্যে যারা এখনো সক্রিয় আছেন তাদের মধ্যে একজন মুক্তিযোদ্ধা চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান কাজী আবদুল ওহাব। তার মতে রাউজানের রাজনীতির মাঠে একজন প্রজ্ঞাবান রাজনীতিবিদ এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী। তার মেধা ও দুদর্শিতার গুণে তিনি দলের মধ্যে সুবিধাবাদি ও বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারীদের চিহ্নিত করতে পেরেছেন। ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করে সুশৃংঙ্খল পরিবেশে সকলকে ঐক্যবদ্ধ করেছেন। তাদের বিভিন্ন পদ পদবীতে রেখে দলের সাংগঠনিক শক্তিকে সুদৃঢ় করে রেখেছেন। দলের নেতাকর্মী ছাড়াও তার প্রতি রাউজানের সর্বস্তরের মানুষ আস্তাশীল। তিনি মনে করেন আগামীতেও রাউজানে দলের যে কমিটি গঠিত হবে সেই কমিটিতেও স্থান পাবে পরীক্ষিত নেতাকর্মীরা। দলের উপজেলা সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, রাউজানের দলীয় নেতাকর্মীদের একমাত্র অভিভাবক এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী।
রাউজানের সকল স্তরের নেতাকর্মীদের বিষয়ে তিনি খবর রাখেন। এই পর্যন্ত ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন পর্যায়ে যারা নতুন কমিটিতে এসেছেন তারা যোগ্যতার পরীক্ষা দিয়ে এসেছেন। আগামী সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠেয় সম্মেলনের মাধ্যমে যারা উপজেলা কমিটিতে আসবেন তারাও যোগ্যতার পরীক্ষা দিয়ে আসতে হবে। বহু বছর ধরে উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করে আসা বর্তমান যুবলীগের সভাপতি জমির উদ্দিন পারভেজ বলেছেন, রাউজানের যারা যুবলীগের কমিটিতে রয়েছে তারা সকলেই সাবেক ছাত্রলীগের ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতা। যারা ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন পর্যায়ে নেতৃত্বে আসছেন তাদেরও বিভিন্নভাবে পরীক্ষা দিয়ে আসতে হবে। ছাত্রলীগের উপজেলা সভাপতি জিল্লুর রহমান মাসুদ বলেছেন, ছাত্রলীগের কমিটিতে রাখা হচ্ছে উদ্যোমী, চরিত্রবান ও সত্যিকার ছাত্রছাত্রীদের।

x