সব পর্যায়ে উন্নত কৃষিযন্ত্রের ব্যবহার বাড়ান

চালের অপচয় বন্ধে ফসলোত্তর থেকে বিপণন

বৃহস্পতিবার , ১২ মার্চ, ২০২০ at ৫:২১ পূর্বাহ্ণ
82

দেশে প্রতিবছর গড়ে প্রায় ১৬ লাখ টন চাল আমদানি হয়। আমদানি মূল্যের ওপর নির্ভর করে স্থানীয় বাজারে পণ্যটির দামের স্থিতিশীলতা। অথচ বাংলাদেশে বছরে নষ্ট বা অপচয় হয় ২৮ লাখ টন চাল, যা পণ্যটির মোট আমদানির চেয়ে অনেক বেশি। নষ্ট হওয়া এসব চালের আর্থিক মূল্য প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা। দেশে চাল অপচয়ের এ চিত্র উঠে এসেছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) এক প্রতিবেদনে। ওই প্রতিবেদনের তথ্যমতে, দেশে চালের উৎপাদন ছাড়িয়েছে প্রায় ৩ কোটি ৭২ লাখ টন। কিন্তু উৎপাদিত চালের ৭ দশমিক ৫৬ শতাংশ বা প্রায় ২৮ লাখ টন ক্ষতি হচ্ছে বছরে। এরমধ্যে হারভেস্টকালে ক্ষতি ১১ লাখ ২৩ হাজার টন এবং পোস্ট হারভেস্ট ক্ষতি ১৬ লাখ ৮৮ হাজার টন। পত্রিকান্তরে সম্প্রতি এ খবর প্রকাশিত হয়েছে।
বর্তমানে বাংলাদেশ চাল উৎপাদনে অনেকটাই স্বয়ংসম্পূর্ণ। বৈশ্বিক উৎপাদনেও এদেশের অবস্থান চতুর্থ। এটি আমাদের জন্য নিঃসন্দেহে সুখকর ও উৎসাহ জোগানোর মতো চিত্র। অথচ একটা সময় ছিল যখন সরকার ও নীতিনির্ধারকদের কাছে যে সমস্যাটা চ্যালেঞ্জস্বরূপ ছিল সেটা হলো প্রতিটি মানুষের মুখে অন্ন জোগানো। কৃষি উপকরণে ভর্তুকি, রাষ্ট্রীয় প্রণোদনা, কৃষি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্রিয়তা, সর্বোপরি কৃষকের নিরন্তর পরিশ্রমে কৃষিতে মোট উৎপাদন আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেড়েছে। কিন্তু এত সফলতা সত্ত্বেও চালে আমাদের আমদানি নির্ভরতা কাটেনি। এক হিসেবে দেখা যায়, দেশে প্রতিবছর গড়ে প্রায় ১৬ লাখ টন চাল আমদানি হয়। মূলত আমদানি মূল্যের ওপরই স্থানীয় বাজারে আমাদের প্রধান খাদ্য পণ্যটির মূল্যের বাড়া-কমা তথা স্থিতিশীলতা নির্ভর করে। চালের আমদানি মূল্য বেশি হলে বাজারে দাম বাড়ে, কম হলে চালের দাম কমে। বাংলাদেশের মানুষ, বিশেষ করে নিম্নআয়ের জনগোষ্ঠীর খাদ্যাভ্যাসে ভাতের ওপর সর্বাধিক নির্ভরশীলতার কারণে চালের দাম তাদের জীবনযাত্রায় বড় ধরনের ভূমিকা রাখে। তাই সরকার সব সময় চেষ্টা করে চালের দাম কম ও স্থিতিশীল রাখতে। এটি সরকারের জন্য একটি চ্যালেঞ্জস্বরূপ। কারণ চালের দাম সাধারণের ক্রয়ক্ষমতার নাগালের বাইরে চলে গেলে নির্বাচনে সরকারের পতন হওয়ার আশঙ্কা থাকে। বস্তুত নির্বাচনী হিসাবনিকাশে চালের দাম খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এমন এক অবস্থায় উপরে উল্লেখিত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, প্রতিবছর ২৮ লাখ টন চাল অপচয় বা নষ্ট হয়। এটা পণ্যটির মোট আমদানির চেয়ে লক্ষণীয় বেশি। সংশ্লিষ্টদের অভিমত, চালের অপচয় বা নষ্ট হওয়া বন্ধ করতে পারলে বিরাজমান খাদ্য ঘাটতির বিশাল অংশ মেটানো সম্ভব হবে এবং চাল আমদানি প্রায় শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনা মোটেই অসম্ভব হবে না। এছাড়া এতে কৃষিখাতে রাষ্ট্রের ভর্তুকি দিতে হবে না। সে অর্থের সাশ্রয় হবে। কাজেই দেশের বৃহত্তর অর্থনৈতিক স্বার্থে চালের অপচয় বন্ধ করা অত্যাবশ্যক।

প্রথাগত পদ্ধতির ওপর নির্ভর করেও কৃষিতে বাংলাদেশের অগ্রগতি ঈর্ষণীয়। তবে এখানে পড়ে থাকলে চলবে না। আজকের যুগ যান্ত্রিকীকরণের যুগ। তাই আমাদেরও কৃষি যান্ত্রিকীকরণের সম্প্রসারণ ঘটাতে হবে। কৃষককে উদ্বুদ্ধ করতে হবে কৃষিতে নতুন প্রযুক্তি প্রবর্তনে। কৃষি গবেষণাও বাড়ানো প্রয়োজন। আমাদের জন্য আশার কথা যে সরকার কৃষির যান্ত্রিকীকরণে জোর দিয়েছে। কৃষিযন্ত্রে কর ছাড় দিচ্ছে। তবে সেগুলো এখনো কৃষকের কাছে খুব কমই পৌঁছেছে। কৃষকের কাছে বিভিন্ন পর্যায়ের কৃষিযন্ত্র পৌঁছাতে সরকারকে আরো আর্থিক ও নীতিসহায়তা বাড়ানো দরকার। সঙ্গে সঙ্গে এসব বিষয়ে সামাজিক সচেতনতাও বাড়িয়ে তুলতে হবে। আমাদের প্রত্যাশা- সকলের সম্মিলিত প্রয়াসে কৃষি খাত আধুনিক ও যুগবাস্তব হয়ে উঠুক।