সবজি চাষে বিদেশ ফেরত ইব্রাহিমের ভাগ্য বদল

এম এস আকাশ : ফটিকছড়ি

সোমবার , ১৬ মার্চ, ২০২০ at ৮:১০ পূর্বাহ্ণ
118

জীবিকার প্রয়োজনে বিদেশ ফেরত ফটিকছড়ির ধর্মপুর গ্রামের ইব্র্রাহীম। তিন বছর না যেতেই দেশে ফিরে আসতে হলো। তখন পুতাখোলার পৈতিক ভুমি আর বর্গা ভুমিতে শুরু করেন সবজি চাষাবাদের কাজ। তবে ছোট কাল থেকেই পিতা আর ভাইদের সাথে তার হাতে খঁড়ি ছিল চাষাবাদে। এখন প্রতিদিন স্থানীয় হাট বাজারে ভরপুর থাকে ইব্রাহীমের ক্ষেতে উৎপাদিত ফুলকপি, বাঁধাকপি, ধনে পাতা, টমেটো, কুশা, তীত করল, মিষ্টি কুমড়া, বাংলা লাউসহ আরো কত কি। আরব-আমিরাত থেকে ৩ বছর পর ভিসা জটিলতায় দেশে ফিরে আসে ২০০৫ সালে। তখন অর্থনৈতিক অবস্থা খুবই খারাপ ছিল তার। ১ ছেলে, ২ মেয়ে, স্ত্রী, মাকে নিয়ে সংসারের হাল ধরতে প্রথমে মিষ্টি কুমড়া, বেগুন, টমেটা চারা উৎপাদন এবং ফটিকছড়ি রাউজানের হাটে হাটে বিক্রি করার মাধ্যমের ভাগ্য বদলের চাকা ঘুরান। এখন ইব্রাহীমের ক্ষেতে সারা বছর জুড়ে সবজি ক্ষেত করার কারণে এলাকায় এখন সে সবজি ইব্রাহীম নামে বেশ পরিচিতি পেয়েছে। তার সবজি চাষাবাদ দেখে স্থানীয় অনেকেই এখন সবজি চাষের দিকে ঝুঁকেছে।
সরেজমিনে সেলিমের সবজি ক্ষেতে গিয়ে দেখা যায়, ধর্মপুর খনখাইয়া খালের পাশ ঘেষে পুতাখোলার বিশাল মাঠ জুড়ে তার সবজি ক্ষেত। দেখা যায় সারি সারি টমাটো, কাঁচা মরিচ, বেগুন, লাল শাক, মুলা শাক, বাঁধাকপি, ধনে পাতা, কুশা, তীত করলা, মিষ্টি কুমড়া, বাংলা লাউ পালং শাকের ক্ষেত। ৫-৬ জন শ্রমিক নিয়ে টমাটো ক্ষেত আগাছা মুক্ত করছিলো ইব্রাহীম। সে জানালো, শীতকালীন সবজির জন্য সে তীত করলা ১ বিঘা, কেয়ার (শশা) ১ বিঘা, হাইব্রীড টমাটো ২ বিঘা, ফুলকপি ১ বিঘা, বাঁধাকপি ১ বিঘা, কাঁচা মরিচ ১ বিঘা, লাল শাক, পালংশাক, মুলা শাক ১ বিঘা চাষ করে।
সে আরো জানালো, ২০০২ সালে বিদেশ যায়। ২০০৫ সালে ফেরত এসে শুরু করেন ১ হাজার টাকা মূলধন নিয়ে ৫ শতক জমিতে সে মিষ্টি কুমড়া, বেগুন, টমেটো চারা উৎপাদন। তখন তার পরিবারের সদস্যরা তাকে সহযোগিতা করতো। পরে সে আরো জমি বর্গা নিলো। করতে করতে এখন সে প্রায় ১০ বিঘা বর্গা জমিতে এসব চাষাবাদ করে। এতে জমির মালিককে তার প্রায় ৪০ হাজার টাকা খাজনা দিতে হয়। আর তার চাষাবাদের জমিতে নিয়মিত কাজ করে ৫-৬ জন শ্রমিক। মৌসুমে আরো বৃদ্ধি পায়। বৎসরে সে প্রায় লাখ টাকার উপরে শ্রমিকদের বেতন দেয়।
কৃষি বিভাগের কোন সহযোগিতা পেয়েছে কিনা – এমন প্রশ্নের জবাবে ইব্রাহীম জানায়, প্রথমে আমি শাইখ সিরাজের কৃষি ভিত্তিক অনুষ্টান দেখেই কৃষি কাজে হাত দিই। প্রথমে কৃষি বিভাগের সাথে তেমন যোগাযোগ হতো না। এখন উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. জাফর আল এবং প্রসেনজিৎ বড়ুয়া নিয়মিত আমার সবজি ক্ষেতে পরামর্শ দিতে আসেন।
চট্টগ্রাম শহর থেকে বীজ সংগ্রহ করে সে এই কাজ করে যাচ্ছে। সে কৃষি জমি চাষ, চারা রোপণ, ফল উত্তোলন পর্যন্ত জৈব সার ব্যবহার করে বেশি। কীটনাশক ব্যবহার করে খুব সতর্কতার সাথে। কীটনাশক ব্যবহারের নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত সেখান থেকে ফসল তোলা হয়না বলেও জানায় সে। ইব্রাহীমের এই সবজি চাষ দেখে এলাকার অনেক কৃষক এখন সবজি চাষই করছেন। যেমন একই এলাকার কৃষক মনছুর, লোকমান, বদিউল আলম, ইউসুফ, কাশেম প্রমুখ।
ফটিকছড়ি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা লিটন দেব নাথ বলেন, এমন কৃষকরাইতো আমাদের সম্পদ। তারাই তো আমাদের কৃষিকে বাঁচিয়ে রেখেছে। কৃষক ইব্রাহীমের কৃষি খামার আমি পরিদর্শন করে, তাকে আরো ভালো কৃষি কাজের জন্য উৎসাহ মূলক সার-বীজ সরবরাহ ও পরামর্শ প্রদান করবো। কৃষি প্রণোদনা প্রকল্প থেকে প্রদর্শনী দেওয়া হবে। ভর্তুকিতে কৃষি যন্ত্রপাতিও সরবরাহ করা হবে।