সজনে চাষে স্বাবলম্বী

লিটন কুমার চৌধুরী, সীতাকুণ্ড

সোমবার , ২৭ মে, ২০১৯ at ৪:৪৭ পূর্বাহ্ণ

সীতাকুণ্ড পাহাড়ে এবার গ্রীষ্মকালীন সবজি সজনে ডাটার বাম্পার ফলন হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হওয়ায় এবার গত বছরের চেয়ে বেশি উৎপাদন হয়েছে। সমগ্র দেশে সজনের ব্যাপক চাহিদা থাকায় সজনে চাষীদের মুখে হাসি ফুটেছে। সজনে বিক্রি করে এবার তারা আয়ও করেছে অনেক। এবার পাহাড়ি এলাকা ছাড়াও উপজেলার বিভিন্নস্থানে প্রচুর পরিমাণে সজনের ফলন হয়েছে। বাজারে আমদানীও বেড়েছে দ্বিগুণ। মুখরোচক ও পুষ্টিগুণে ভরপুর সজনে ডাটা স্থানীয়ভাবে বিক্রির পাশাপাশি চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় রপ্তানী হচ্ছে।
তবে গত বছরের চেয়ে দাম এবার অনেকাংশে বেশি। ক্রেতাদের ২০০ থেকে ৩০০ টাকা দরে প্রতি কেজি সজনে ক্রয় করতে হচ্ছে। এতে করে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর হাতের নাগালে থাকছে না পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ মুখরোচক এ সবজিটি।
সীতাকুণ্ড পৌরসদরের নিজতালুক গ্রামের সুজায়েত উদ্দিন তার ৩টি গাছ থেকে প্রায় ১৮ মণ সজনে বিক্রি করে আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছে। এছাড়া ভুইয়া পাড়ার কৃষক ইদ্রিস মিয়া বাড়ির চারপাশে সজনে লাগিয়ে ২০/২২ মণ সজনে বিক্রি করে প্রায় ১৫/১৮ হাজার টাকা আয় করেছে। বারৈয়াঢালা গ্রামের খোকন বিশ্বাস তার ৫টি গাছ থেকে ১৫ মণ সজনে বিক্রি করেছেন প্রায় ২০ হাজার টাকা।
এছাড়া সীতাকুণ্ড, মুরাদপুর, বারৈয়াঢালা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় আরও অনেকেই নিজেদের পারিবারিক চাহিদা ও আত্মীয় স্বজনদের বাড়িতে দিয়েও অতিরিক্ত সজনে বাজারে বিক্রি করে আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন।
পুষ্টিগুণ ও স্বাদে অন্যান্য সবজির চেয়ে সজনে ডাটা বেশি হওয়ায় যে কোন বয়সের মানুষ সজনে খেতে ভালবাসে। চিকিৎসকদের মতে সজনেতে ক্যালসিয়াম, খনিজ লবণ, আয়রণসহ প্রোটিন ও শর্করা জাতীয় খাদ্য রয়েছে।
এছাড়া ভিটামিন এ, বি, সি সমৃদ্ধ সজনে ডাটা মানবদেহের জন্য অত্যন্ত উপকারী। শরীরের পুষ্টির জন্য গর্ভবতী ও প্রসূতি মায়েদের বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ করে বলে সজনে ডাটা ঔষধ হিসেবেও ব্যাপক সমাদৃত। এছাড়া সজনে গাছের ছাল এবং পাতা রক্ত আমাশায়, পেটের পীড়া ও উচ্চ রক্তচাপ প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখে। এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সুবাস চন্দ্র নাথ বলেন, সীতাকুণ্ড পাহাড়ে সজনে চাষে উপযোগী মাটি ও আবহাওয়া রয়েছে। এখানে বাণিজ্যিকভাবে সজনে চাষ করে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।

x