সচেতনতা বাড়াতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে নিতে হবে দায়িত্বশীল ভূমিকা

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে মাউশির নির্দেশনা

শুক্রবার , ১৩ মার্চ, ২০২০ at ৬:৪৬ পূর্বাহ্ণ
74

স্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞদের মতে, যে কোনো বয়সের ব্যক্তিকে স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সহায়তার ক্ষেত্রে এক জন সুস্থ মানুষের দু’টি লক্ষ্য থাকে, আয়ু বৃদ্ধি এবং জীবনধারার মানোন্নয়ন। এই লক্ষ্য পূরণে যে ব্যবস্থাগুলো সাহায্য করে তা উদ্ভূত হয় দু’টি ধারণা থেকে – স্বাস্থ্য উন্নয়ন এবং স্বাস্থ্য রক্ষণাবেক্ষণ। এক জন অসুস্থ ব্যক্তির কী পরিচর্যা হবে, সে সম্পর্কে ব্যাপক আগ্রহ নিয়ে চিকিৎসাবিজ্ঞান পেশার অনেক ছাত্র পড়াশোনা শুরু করেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাঁরা জানতে পারেন এক জন ‘সুস্থ’ মানুষেরও যত্নের প্রয়োজন হয়। ‘সুস্থ’ ব্যক্তিটিকে শিখতে হবে সঠিক খাদ্যাভাস কী, কীভাবে মানসিক চাপ কমানো যায় এবং কী কী প্রতিষেধক নিতে হয়। তাঁরা জানতে চাইতে পারেন, কী করে ঠিকঠাক ব্যায়াম করতে হয় বা তাঁর সন্তানদের জন্য কী ভাবে সুরক্ষিত পরিবেশ সুনিশ্চিত করা যায়। স্বাস্থ্য উন্নয়ন এবং স্বাস্থ্য রক্ষণাবেক্ষণের মূল উপাদান হল এই যত্ন ও শিক্ষার দৃষ্টান্ত। স্বাস্থ্য পরিচর্যা ব্যবস্থাপনা এমন একটি সার্বিক পেশা যা ব্যক্তিবিশেষের জীবনের সমস্ত দিক পরীক্ষা করে ও তা নিয়ে কাজ করে এবং এর পাশাপাশি গোষ্ঠী এবং পরিবারকেও যথাযথ গুরুত্ব দেয়। তাই স্বাস্থ্য উন্নয়ন এবং স্বাস্থ্য রক্ষণাবেক্ষণ সংক্রান্ত কার্যক্রমের ব্যবস্থা করার সময় এ দিকেও দৃষ্টি দেওয়া দরকার। কার্যত পরিবারগুলোর সঙ্গে মেলামেশা এই কার্যক্রমের অংশ হওয়া উচিত। বিকাশপিডিয়ায় বলা হয়েছে, শিশুর স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে পরিবারের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। শিশুর স্বাস্থ্য পরিচর্যায় যে যে বিষয় প্রভাব ফেলে সেগুলো ভালো করে বোঝা দরকার, যাতে স্বাস্থ্য পরিচর্যার সামগ্রিক কাঠামোর সঙ্গে স্বাস্থ্য উন্নয়ন এবং স্বাস্থ্য রক্ষণাবেক্ষণকে একীভূত করে দেওয়া যায়। কিছু শিশুর বিশেষ ধরনের স্বাস্থ্য পরিচর্যার প্রয়োজন হয় এবং এই ব্যাপারটিও স্বাস্থ্য উন্নয়ন এবং স্বাস্থ্য রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থায় অঙ্গীভূত করতে হয়।
বিশ্বব্যাপী সাম্প্রতিক দুর্যোগের প্রভাব বাংলাদেশেও এসে পড়েছে। আমাদের শিশুরা কীভাবে এর থেকে পরিত্রাণ পাবে, তা নিয়ে চিন্তাগ্রস্ত অভিভাবকরা। এদিকে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে কিছু নির্দেশনা দিয়েছে। পরবর্তী আদেশ না দেয়া পর্যন্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রাত্যহিক সমাবেশ শ্রেণি কক্ষগুলোতে আয়োজন করতে বলা হয়েছে। সেখানেই জাতীয় সংগীত গাওয়াসহ অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। নির্দেশনায় আরো বলা হয়েছে- করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে সবার সতর্কতা ও সচেতনতা প্রয়োজন। অধীনস্ত সকল অফিস ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ট সকলকে এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় জনসমাগম এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেয়া হলো। এ পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাংস্কৃতিক, ক্রীড়া ও অন্যান্য যে অনুষ্ঠানসমূহে জনসমাগম হয় সে অনুষ্ঠানসমূহ আয়োজনের সূচি পুনর্বিন্যাস করে পরবর্তীতে আয়োজনের নির্দেশনাও দিয়েছে মাউশি। অর্থাৎ জনসমাগম হয় এরকম অনুষ্ঠানসমূহ স্থগিত করে পরবর্তীতে আয়োজনের জন্য বলা হয়েছে মাউশির নির্দেশনায়।
পত্রিকান্তরে প্রকাশিত খবরে জানা যায়, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থেকে শিশুদের রক্ষায় ও বিদ্যালয়গুলোকে নিরাপদ রাখতে নতুন নির্দেশনা দিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব রেডক্রস অ্যান্ড রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিজ, ইউনিসেফ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। এতে যেসব জায়গায় স্কুলগুলো এখনো খোলা আছে, সেখানে সর্বোত্তম পদ্ধতিতে হাত ধোয়া, স্বাস্থ্যবিধি বা হাইজিন অনুশীলন পদ্ধতি প্রচার এবং হাইজিন পণ্য সরবরাহের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। গত মঙ্গলবার দেওয়া ওই যৌথ নির্দেশনায় স্কুল ভবন, বিশেষ করে পানীয় ও স্যানিটেশনসুবিধাগুলো নিশ্চিত করা, পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত রাখতে বলা হয়েছে। শিশুর নিজেদের এবং তাদের পরিবারকে রক্ষার জন্য হাত ধোয়া ও অন্য পদক্ষেপগুলোর তথ্য স্কুলগুলোয় সরবরাহের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে ওই নির্দেশনায়। এ ছাড়া স্কুলগুলোর উচিত মানসিক স্বাস্থ্যসহায়তা দেওয়া, শিক্ষার্থীদের একে অপরের প্রতি সদয় আচরণ করতে উৎসাহিত করা এবং ভাইরাসটি সম্পর্কে কথা বলার সময় গৎবাঁধা চিন্তা এড়াতে কুসংস্কার রোধে শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করা। অসুস্থ হলে শিশুকে বাড়িতে রাখতে বলা হয়েছে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যেহেতু বন্ধ করা হবে না, সেহেতু স্কুলের দায়িত্ব রয়েছে ছাত্র-ছাত্রীদের পরিচর্যায়। তারা কীভাবে ভাইরাস থেকে দূরে থাকতে পারে, সেই বিষয়ে নিতে হবে দায়িত্বশীল ভূমিকা। সন্তানদের স্কুলে পাঠিয়ে অভিভাবকরা যেন উৎকণ্ঠায় না থাকেন, তার জন্য তাঁদের আশ্বস্ত করা জরুরি।