সঙ্গীত পরিষদের নজরুল জয়ন্তী

সুজিত চৌধুরী মিন্টু

বৃহস্পতিবার , ১৪ নভেম্বর, ২০১৯ at ৩:৪৯ পূর্বাহ্ণ
2

সঙ্গীত পরিষদ আয়োজিত দু’দিনব্যাপী ৮০তম বর্ষপূর্তি উৎসবের নজরুল স্মরণানুষ্ঠান সম্প্রতি চট্টগ্রাম থিয়েটার ইনস্টিটিউট হলে ‘‘চট্টগ্রাম ও নজরুল’’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। সেমিনারে ভারতের কলিকাতাস্থ রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রফেসর ড. নুপুর গাঙ্গুলী বলেন বিংশ শতাব্দীর উষালগ্নে ভারতীয় উপমহাদেশে তার আবির্ভাব ছিল অনেকটা ধুমকেতুর মত। এপার বাংলা ওপার বাংলার বাংলা ভাষাভাষী জনগোষ্ঠী তাঁকে সবসময় ভালোবেসেছিলেন। এক কথায় বাঙালির শিরায় শিরায় নজরুল চির প্রবহমান। তিনি বৃটিশ শাসনের বিরুদ্ধে যেমন সোচ্চার ছিলেন তেমনি সামাজিক রক্ষণশীলতার বিরেুদ্ধে কঠোর মনোভাব পোষণ করতেন। তৎকালীন সময়ের সকল বাধা-বিপত্তি উপেক্ষা করে তিনি সমাজের ব্যাপক পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
সেমিনারের শুরুতে পরিষদের প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র-ছাত্রীরা জাতীয় সংগীত ও উদ্বোধনী সঙ্গীত পরিবেশন করেন। সঙ্গীত পরিষদের সভাপতি মেজর জেনারেল (অব:) আবদুল মতিনের সভাপতিত্বে সেমিনারে মুখ্য আলোচক ড. মোহীত- উল-আলম বলেন কবি নজরুল ইসলাম এর সাথে আমাদের পরিবারের সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত গভীর। কবির সাথে আলম পরিবারের ভ্রাতৃত্বে ছিল আত্মিক সম্পর্ক। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন আমাদের রাজনীতির কবি, নজরুল ছিলেন যুদ্ধের কবি। তাই তিনি দেশ স্বাধীন হওয়ার পর কাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশে নিয়ে এসেছিলেন, জাতীয় কবির মর্যাদা দিয়েছেন। এতে জাতি হিসেবে আমরা গর্বিত। আলোচক ছিলেন চট্টগ্রাম সরকারি চারুকলা কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ প্রফেসর রীতা দত্ত। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন চট্টগ্রামে কবি নজরুল ইসলামের ঘনিষ্ঠ আলম পরিবারের সদস্য চিত্রশিল্পী মউদুদুল আলম। স্বাগত বক্তব্যে রাখেন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক তাপস হোড়। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন আবৃত্তিকার অধ্যাপক দেবাশীস রুদ্র। সেমিনার শেষে প্রফেসর ড. নুপুর গাঙ্গুলী ছাত্র-ছাত্রীদের নজরুল সঙ্গীতে প্রশিক্ষণ প্রদান করেন। শুরুতে তিনি চট্টগ্রামে কবি নজরুল ইসলাম কর্তৃক রচিত ‘‘আমার সাম্পান যাত্রী না লয়, ভাঙ্গা আমার তরী’’ গানটির সুর,তাল ও লয় ছাত্র-ছাত্রীদের শিখিয়ে দেন। এসময় তবলায় সঙ্গত করেন শিল্পী প্রান্ত আচার্য্য। প্রফেসর ড: নুপুর গাঙ্গুলী নজরুলের একক গান পরিবেশন করেন।
২১ সেপ্টেম্বর নজরুল স্মরণানুষ্ঠানের সমাপ্তিদিনে উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রামস্থ ভারতীয় দূতাবাসের মাননীয় সহকারী হাই কমিশনার শ্রী অনিন্দ্য ব্যানার্জী, প্রধান অতিথি ছিলেন কলিকাতাস্থ রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রফেসর ড. নুপুর গাঙ্গুলী। সভাপতিত্ব করেন পরিষদের সভাপতি মেজর জেনারেল (অব:) আবদুল মতিন। মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের শুভ সুচনা পরিষদের ছাত্র-ছাত্রীবৃন্দ ‘‘অঞ্জলি লহ মোর’’ গানটি সমবেত কন্ঠে পরিবেশন করেন।
এরপর সঙ্গীত পরিষদের ছাত্রী অন্বেষা আচার্য, পুর্বশা বড়ুয়া, মৈত্রী কর, মৌনতা বড়ুয়া, লাবনী চৌধুরী, মুনমুন বড়ুয়া, রিপা মুজমদার, পপি দাশ সমবেত কণ্ঠে ‘‘শুভ্র সমুজ্জ্বল হে চির নির্মল’’ গানটি পরিবেশন করেন। ‘‘সবুজ শোভার টেউ খেলে যায়’’ গানটি পরিবেশন করেন পুষ্পিতা দে, তিথি বিশ্বাস, প্রিয়া রায় চৌধুরী, আম্বিকা চৌধুরী, পুজা দাশ, পায়েল দাশ, সুলগ্না ভট্টাচার্য, জয়িতা বড়ুয়া, অন্দ্রিকা দাশ। ‘‘মোরা আর জনমে হংস মিথুন ছিলাম’’ পরিবেশন করেন দীপিতা দাশ, সুনন্দ মহাজন, তন্নি বড়ুয়া, অন্যান বড়ুয়া, জুঁই গুপ্ত, ঐশিকা নাথ, ফারহিনা।
‘‘তোরা সব জয়ধ্বনি কর’’ গানের মধ্যে দিয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে পরিবেশনা ছিলেন অশ্নি চৌধুরী, ইলোরা বড়ুয়া, বষৃা চৌধুরী, অর্পিতা মজুমদার, লাবনী চৌধুরী,পিওসি সাহা, শর্মী দত্ত, নকশি ধর, পায়েল বড়ুয়া, মৌনিতা বড়ুয়া, দিবোন্দু ভট্টাচার্য। সঙ্গীতানুষ্ঠান পরিচালনা করেন পরিষদের শিক্ষক শ্রীমতি মিতালী রায়, পিন্টু ঘোষ, শম্পা ভট্টাচার্য্য, বনানী চক্রবর্তী, জয় প্রকাশ ভট্টাচার্য্য, প্রান্ত আচার্য্য ও দীপ্ত দত্ত প্রমুখ।
নজরুল স্মরণানুষ্ঠান উপলক্ষে ‘‘চট্টগ্রামে নজরুল’’ স্মরণিকা প্রকাশ করেন। প্রকাশনায় ছিলেন কবি নজরুল ইসলামের ঘনিষ্ঠ আলম পরিবারের সদস্য চিত্রশিল্পী মউদুদুল আলম।

x