সঙ্গীতানুষ্ঠান : নাম পাল্টেছে, কিন্তু ধরন পাল্টায়নি

বায়েজিদ সবুজ উদ্যান নিয়ে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন

আয়শা আদৃতা

বৃহস্পতিবার , ১২ ডিসেম্বর, ২০১৯ at ১০:২২ পূর্বাহ্ণ

চট্টগ্রামের বিনোদনপ্রেমীদের জন্য গড়ে তোলা ‘বায়েজিদ সবুজ উদ্যান’ নিয়ে গত সোমবার রাতে প্রচারিত হয় প্রামাণ্য অনুষ্ঠান আমার চট্টলা। গণপূর্ত অধিদফতর প্রায় সাড়ে ১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে এ পার্ক নির্মাণ করেন। বায়েজিদ সবুজ উদ্যান নামের পার্কটি গত ৮ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেয়া হয়। অনুষ্ঠানে বলা হয়, বায়েজিদে চট্টগ্রাম সেনানিবাসের পাশে গণপূর্ত অধিদফতরের প্রায় দুই একর খালি জায়গায় গড়ে তোলা এই সবুজ উদ্যান, যেটি পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত ও আগ্রাবাদের জাম্বুরি পার্কের পর প্রাকৃতিক বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে নগরবাসীর পছন্দের স্থান হয়ে উঠছে। অনুষ্ঠানে দেখানো হয়েছে, উদ্যানের ভেতর দৃষ্টিনন্দন জলাধার, ওয়াকওয়ে ও নানা প্রজাতির বৃক্ষসহ শিশুদের খেলাধুলার ব্যবস্থা। দিনের আলোতে যেমন অনুষ্ঠান ধারণ করা হয়েছে রাতের কৃত্রিম আলোতেও পার্ক কেমন দেখায় সেটিও দেখানো হয়েছে প্রামাণ্য অনুষ্ঠানটিতে।
পার্কে রয়েছে দু’টি সুদৃশ্য ফটক। বসার বেঞ্চ আছে ৪৬টি। পার্কটির ভেতর ৬০ ফুট ব্যাসের জলাধারের দুই পাশে উন্মুক্ত গ্যালারি রাখা হয়েছে। পার্কে আসা নারী-পুরুষের জন্য রয়েছে আলাদা টয়লেট। রয়েছে খেলার সরঞ্জামসহ শিশু বিনোদন এলাকা। শুধু বেড়ানো নয়, ব্যায়াম, হাঁটাহাঁটি ও শরীর চর্চা করছেন এমন দর্শনার্থীও দেখা গেল। পার্কটিতে কোনো ধরনের প্রবেশ ফি না থাকাই দর্শনার্থীরা সানন্দে পার্কটিতে যাচ্ছেন। অনুষ্ঠানে মোটামুটি সব তথ্যই এসেছে, হিমাদ্রি রাহার উপস্থাপনাও বেশ, তবে দর্শনার্থীদের প্রশ্ন করার ব্যাপারে আরো স্মার্ট হতে হবে। অহেতুক, অনর্থক প্রশ্ন করা কিংবা যে কথা দর্শনার্থী বলেননি, তা চালিয়ে দেয়া বুদ্ধিমানের কাজ নয়।
নজরুল সঙ্গীতের অনুষ্ঠান শিউলিমালা। নাম পাল্টেছে, কিন্তু ধরন পাল্টায়নি অনুষ্ঠানের। টেলিভিশনের সাউন্ড প্রবলেম আছে কি-না বুঝা দায়। নজরুলের জনপ্রিয় গানগুলোও শুনতে কেমন জানি লাগে। অনুষ্ঠান প্রচারের আগে প্রযোজক-জেনারেল ম্যানেজার আরো একবার শুনে নিলে ভালো হয়। তাহলে কেন কোনো কোনো গানের অনুষ্ঠানে তাল লাগছে না, সেটা বুঝতে পারবেন। মৃণাল কান্তি ভট্টাচার্যের সঙ্গীত পরিচালনায় এ অনুষ্ঠানে গান পরিবেশন করেন, মিয়া মো. বদরুদ্দিন, সীমা দাশ, পুরবী চক্রবর্তী, অরুণ কুমার দত্ত, সন্তোষ কুমার সুশীল ও শম্পা সিকদার।
ছোটদের কয়েকটি অনুষ্ঠান বেশ ভালো হচ্ছে। বিশেষ করে ছোটদের আনন্দ অনুষ্ঠানটি শিশুদের আনন্দ দিতে পারবে বলে আশা রাখা যায়। বোধন আবৃত্তি পরিষদের শিল্পীদের দলীয় আবৃত্তি পরিবেশনা, প্রিয়াংকা বড়ুয়ার পরিচালনায় দলীয় নৃত্য বেশ ভালো হয়েছে। এতে অংশ নিয়েছে, তারা, সম্প্রীতি, রাত্রি, ফৌজিয়া, আরাধ্য, স্নেহা, দেবস্মিতা। অধরা রোদসীর উপস্থাপনাও বেশ সাবলীল, অনুষ্ঠানে সঙ্গীত পরিবেশন করে সুচয়ন ললিতকলা কেন্দ্র। অনুষ্ঠানের ব্যাকস্টেজ, অ্যানিমেশনসবকিছুই দৃষ্টিনন্দন। শুধু লাইটিংয়ের ব্যাপারে আর একটু নজর দিতে হবে। প্রয়োজনে এ বিষয়ে লেখাপড়া করে জেনে নিতে হবে।
মসজিদ পরিচিতি মূলক অনুস্‌ঠানে এবার দেখানো হয় আনোয়ারার শাহী আকবরী জামে মসজিদের সচিত্র প্রতিবেদন। এর আগেও একই মসজিদের পরিচিতি দেখানো হয়েছে। আবার কেন একই মসজিদের পরিচিতি দেখানো হল তা বোধগম্য নয়। চট্টগ্রামে নিশ্চয় প্রাচীন কিংবা ঐতিহাসিক মসজিদের অভাব নেই, এত মসজিদ রেখে একই মসজিদে দুবার একই অনুষ্ঠান করার কারণ বোধগম্য নয়। মসজিদ পরিচিতি অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেছেন মাওলানা হারুনুর রশিদ।

x