সংরক্ষণের অভাবে মাঠেই নষ্ট হচ্ছে উৎপাদিত কৃষিপণ্য

সীতাকুণ্ডে হিমাগার না থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন চাষিরা

লিটন কুমার চৌধুরী, সীতাকুণ্ড

শুক্রবার , ৮ মার্চ, ২০১৯ at ৭:০৫ পূর্বাহ্ণ
42

শীতকালীন সবজি সংরক্ষণের অভাবে সীতাকুণ্ড উপজেলার ২৩ হাজার কৃষক হতাশা প্রকাশ করছেন। সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে উপজেলায় কোন হিমাগার না থাকায় কৃষকরা ভর মৌসুমে কম মূল্যে সবজি বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে। হিমাগারের অভাবে কৃষকেরা তা সংরক্ষণ করতে পারছে না। তারা উৎপাদিত কৃষিপণ্য সংরক্ষণে সরকারের কাছে হিমাগার নির্মাণের দাবি জানিয়েছে।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয় সূত্র জানায়, উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা এলাকায় দুই হাজার সাত শত হেক্টর জমিতে সবজি চাষ হয়। উৎপন্ন হয়েছে বেগুন, মুলা, টমেটো, বরবটি, শসা, লাউ, কুমড়া, ফুলকপি, বাঁধাকপি, ক্ষীরাসহ বিভিন্ন জাতের প্রায় ৪০ হাজার মেট্রিক টন সবজি। এছাড়া প্রায় দুই হাজার আট শত হেক্টর জমিতে শিমের চাষ করা হয়। উপজেলার সৈয়দপুর, বারৈয়াঢালা ও মুরাদপুর ইউনিয়ন এবং সীতাকুণ্ড পৌরসভার কৃষকেরা বিভিন্ন জাতের শীতকালীন ফসল উৎপাদন করে থাকে। এবারে প্রতিটি এলাকায় ফসলের ভালো ফলন হয়েছে। এছাড়া সীতাকুণ্ডের শতাধিক একর পাহাড়ি এলাকায়ও সবজির ভালো ফলন হয়েছে। উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের প্রায় ১৫ কিলোমিটার পাহাড়ি এলাকার ঢালু জমিতে স্থানীয় কৃষকরা সবজি চাষ করেছে।
সৈয়দপুরের শেখের হাট, জাফরনগর, মীরের হাট গ্রামের কৃষক আবুল হোসেন, মনির উল্ল্যা, ফজল হকসহ আরো কয়েকজন কৃষক জানান, কীটনাশক ও সারের মূল্য বৃদ্ধির পরও আশা নিয়ে জমিতে টমেটো, ফুলকপি, মরিচ ও বেগুন চাষ করেছিলাম। বাজারমূল্য না পাওয়ায় তারা হতাশ হয়ে পড়েছেন।
প্রথমবারের মতো শালগম চাষ করা বহরপুরের কৃষক পরিতোষ জানান, অল্প পুঁজি বিনিয়োগ করে শালগম ফলানো যায় বিধায় প্রায় দেড় একর জমিতে চাষ করেছিলাম। ফলনও ভালো হয়েছে। কিন্তু বাজারে এনে উৎপাদন খরচও উঠাতে কষ্ট হচ্ছে। আর টমেটো না তোলার কারণে জমিতেই পচে যাচ্ছে।তবে কৃষকদের অভিযোগ, ফলন ভালো হওয়ায় বাজার এখন সব ধরনের সবজিতে ভরপুর। যার কারণে ক্রেতাদের কাছে কমমূল্যে টমেটো বিক্রি করতে হচ্ছে। অন্যদিকে ফসল ভালো উৎপাদন হলেও সংরক্ষণের অভাবে অধিকাংশ সবজি মাঠেই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। উপজেলায় সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে কোন হিমাগার না থাকায় কৃষকরা ভর মৌসুমে কম মূল্যে সবজি বিক্রি করতে বাধ্য হয়। হিমাগারের অভাবে কৃষকেরা তা সংরক্ষণ করতে পারছে না। তারা উৎপাদিত কৃষিপণ্য সংরক্ষণে সরকারের কাছে হিমাগার নির্মাণের দাবি জানিয়েছে।
সীতাকুণ্ড ব্যবসায়ী দোকান মালিক কমিটির সভাপতি নাসির উদ্দিন ভুঁইয়া বলেন, সবজি চাষের ওপর নির্ভরশীল এই এলাকার ৯০ শতাংশ চাষি। এসব কৃষিপণ্য সংরক্ষনের জন্য হিমাগার নির্মাণ করলে এলাকার কৃষকরা লাভবান ও উৎসাহী হয়ে উঠবেন। সীতাকুণ্ড আসনে সাবেক সংসদ সদস্য মরহুম এ বি এম আবুল কাশেম সংসদে এখানকার কৃষিপণ্য ও মৎস্য সংরক্ষণের হিমাগার নির্মাণ করার কথা বারবার তুলেছিলেন। কিন্তু কৃষকদের আশা এখনো পুরণ হয়নি। বর্তমান সাংসদ দিদারুল আলম এখানে হিমাগার স্থাপনে উদ্যোগী হবেন প্রত্যাশা করছে এলাকার কৃষকরা। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাফকাত হোসেন আজাদীকে জানান, সমতল ভূমির পাশাপাশি বিস্তীর্ণ পাহাড়ি অঞ্চলে সবজি চাষের উর্বর জায়গা। এখানকার মাটি সবজি চাষের জন্য প্রকৃতির তৈরি ক্ষেত্র। ফলে একটু যত্ন নিলেই এখানে সবজির ভাল ফলন পাওয়া যায়। এসব কৃষিপণ্য সংরক্ষণের জন্য হিমাগার নির্মাণ হলে কৃষকরা সরাসরি বিক্রির সুযোগ পেত এবং সারা বছর আয় করার সুযোগ পেতেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিল্টন রায় দৈনিক আজাদীকে জানান, সীতাকুন্ড উপজেলায় কৃষকদের উৎসাহিত করতে বিভিন্ন প্রশিক্ষণসহ নানাধরনের সহযোগিতা প্রদান করা হচ্ছে। তিনিও একমত যে, এখানকার কৃষকদের পণ্য সরাসরি বিক্রির সুযোগ পেলে অথবা হিমাগার নির্মাণ হলে সারাবছর তারা আয় করার সুযোগ পেতেন।
স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব দিদারুল আলম দৈনিক আজাদীকে জানান, সীতাকুণ্ডের কৃষকরা আমাদের প্রাণ। সবজি সংরক্ষণের জন্য হিমাগার খুবই প্রয়োজন। সরকারি প্রচেষ্টার পাশাপাশি বেসরকারী উদ্যোগে কেউ হিমাগার নির্মাণ করতে চাইলে তাদের সহযোগিতা করা হবে।

x