শীত মৌসুমে প্রান্তিক মানুষের সুখ-দুঃখ

রতন কুমার তুরী

মঙ্গলবার , ৩ ডিসেম্বর, ২০১৯ at ৫:১০ পূর্বাহ্ণ
13

দ্রুত গতিতে এগিয়ে আসছে শীত। তার সাথে পাল্লা দিয়ে বেড়ে চলছে ছোট্ট শিশু, বৃদ্ধ এবং প্রান্তিক মানুষ গুলোর অসুখ-বিসুখ। এবছর হিমালয় থেকে বাংলাদেশের দিকে আগে ভাগেই বরফ শীতল বায়ু ধেয়ে আসতে থাকায় দরিদ্র প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কষ্ট বাড়বে বলে মনে হচ্ছে। এই মৌসুমে বিশেষ করে দেশের উত্তরাঞ্চলের জনপদে শীতের প্রকোপ একটু বেশি দেখা দেয়। ঐ জনপদের মানুষ গুলোর জীবিকা নির্বাহ করার মতো কোনো কাজ থাকেনা। তাদের জীবন চলে অভাব অনটনে। একসময় উত্তরাঞ্চলের অনেক জায়গায় মঙ্গা লেগে থাকতো বর্তমানে এ অবস্থার পরিবর্তন হলেও শীতের সময় তাদের দুঃখ লেগেই থাকে। প্রচন্ড শৈত্য প্রবাহের কারণে উক্ত জনপদের মানুষ ঘর থেকে বেড়েই হতে পারেনা, ফলে অনেকেই মহাজনের কাছ থেকে ধার দেনা করে জীবন চালালেও দরিদ্র মানুষ গুলো না খেয়েই দিন কাটায়। অনেক সময় কিছু সরকারি সাহায্য এদের ভাগ্যে জুটলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় একেবারে নগণ্য। এ বিষয়ে উক্ত জনপদের জনপ্রতিনিধিদের শীত আসার আগেই পরিকল্পনা গ্রহণ করা উচিৎ। এসব প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে শুধু মাত্র শীতের সময় সাহায্য না করে সারা বছরের জন্য এদের আয়ের ব্যবস্থা করে দিলে সবচেয়ে ভালো হতো। এতে করে তারা শীতের সময় কারো বোঝা হতোনা। অনেক সময় সরকারের পাশাপাশি অনেক এনজিও এবং বিত্তবান মানুষ শীতের সময় সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসেন তাদের সাথে সমন্বয় করে যে এলাকায় সবচেয়ে বেশি মানুষ শীতে কষ্ট পায় সেখানেই সাহায্য গুলো দেয়ার ব্যবস্থা করলে জনগণ সুফল পেতো। প্রকৃতপক্ষে শৈত্য প্রবাহের সময় শীতার্ত প্রান্তিক মানুষ গুলো তাকিয়ে থাকে আমাদের দিকে অত্যন্ত মলিন বদনে। এসময় আমাদের উচিত যার যা কিছু আছে তা নিয়ে তাদের পাশে দাঁড়ানো। অনেক সময় এসব মানুষদের দুঃখের কথা মিডিয়াতেও আসেনা। আবার কখনও কখনও এদের কাছে সাহায্য পৌঁছাতে পৌঁছাতেই এদের জীবনই শেষ হয়ে যায়। অনেক সময় এই শীত মৌসুমে অনেক পথশিশুদের শীর্ণ পোশাকে রাত্রি যাপন করতে দেখা যায়। আমাদের একটু সাহায্যই এদের গায়ে একটি গরম পোশাক তুলে দিতে পারে। প্রকৃতপক্ষে আমরা সবাই মিলে যদি এই শীতে এসব প্রান্তিক মানুষ গুলোর পাশে দাঁড়াই তাহলে এরা নতুন জীবন ফিরে পাবে। তাই আসুন সবাই এই শীতে শীতার্ত প্রান্তিক মানুষের পাশে দাঁড়াই।

x