শীত এলেই অভাব থাকে না সাদেক আলীর সংসারে

মাহবুব পলাশ, মীরসরাই

বৃহস্পতিবার , ৫ ডিসেম্বর, ২০১৯ at ১০:৪৭ পূর্বাহ্ণ

সন্ধ্যার হিমেল বাতাসে ভাঁপা পিঠার গরম আর সুগন্ধি ধোঁয়ায় মন আনচান করে ওঠে। সরষে বা ধনে পাতা বাটা অথবা শুটকির ভর্তা মাখিয়ে চিতই পিঠা মুখে দিলে ঝালে কান গরম হয়ে শীত পালায়। শীতের আমেজ শুরুর সাথে সাথে মীরসরাই উপজেলার অলি-গলির ফুটপাতের বিভিন্ন জায়গায় এখন চলছে পিঠা তৈরি ও বেচাকেনার ধুম। পিঠা প্রেমি মানুষ শীতের পিঠার স্বাদ গ্রহণ করতে ফুটপাতের এসব পিঠার দোকানে প্রতিদিন সন্ধ্যায় ভিড় করছেন। আবার অনেকেই দেখা যাচ্ছে পিঠার দোকানের চুলার পাশে বসেই গরম পিঠা খাওয়াকে রেওয়াজে পরিণত করেছেন। অনেকে পরিবারের চাহিদা মেটাতে পিঠা ক্রয় করে বাসায় নিয়ে যাচ্ছেন।
এ ছাড়াও সন্ধ্যার পর ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান, অফিস, দোকান, ক্লাব, আড্ডায়ও পিঠার আয়োজন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তবে শ্রমজীবী, রিক্সা-ভ্যান চালক, ড্রাইভার, বিভিন্ন কাজে নিয়োজিত শ্রমিকসহ অভিজাত শ্রেণীর লোকজনের কাছে অত্যান্ত প্রিয় খাবার শীতের পিঠা। এই শীতে ফুটপাতের পিঠাওয়ালা ভদ্রঘরের অভিজাত গৃহবধুদের মুক্তি দিয়েছে পিঠা তৈরির কষ্ট থেকে। শীতে পরিবারের সবাই নানা পিঠা খেতে উৎসাহী হয়। গ্রাম থেকে শহরে সকল পরিবারেই চলে এ চাহিদা। কিন্তু পিঠা তৈরিতে নানা ঝামেলা পোহাতে হয় গৃহবধূদের। দরকার পড়ে নানা উপকরণ। আবার তার সঙ্গে লাগে অভিজ্ঞতা। সব মিলে অন্যসব খাবারের মত সহজে তৈরি করা যায় না শীতের পিঠা। সামর্থ ও প্রয়োজন পড়ে। তাদের সংসারে অধিক মূল্যে চিনি, গুড়, দুধ কেনা কষ্টসাধ্য।
তাদের কাছে পিঠা খাওয়া শুধুই স্বপ্ন। কিন্তু তারপরও থেমে থাকেনা তাদের পিঠা খাওয়া। দরিদ্র ও স্বল্প আয়ের মানুষের পিঠা খাওয়ার জন্য উপজেলার বিভিন্ন স্থানে গড়ে ওঠেছে প্রায় শতাধিক পিঠার দোকান। এসব পিঠার দোকান বসছে প্রতিদিন বিকাল ৪টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত। এ সমস্ত ভাসমান পিঠার দোকানের অধিকাংশ মালিকই হলো হতদরিদ্র পরিবারের। স্বচ্ছলতা ফেরাতে তারা রাস্তার পাশে তেল পিঠা, চিতই পিঠা ও ভাপা পিঠা তৈরি করে বিক্রি করছে। প্রতিটি পিঠা ১০টাকা টাকায় বিক্রি করছে তারা। ভ্যান চালক, দিনমজুর, পথচারী ও শিশু-কিশোর ছাত্র-ছাত্রীরাও পিঠা দোকানের প্রধান ক্রেতা।
উপজেলার বড়তাকিয়া বাজারের এক দরিদ্র পিঠা বিক্রেতা মোঃ সাদেক আলী জানায়, তিনি পিঠা বিক্রি করে প্রতিদিন ১ হাজান থেকে ১৫ শত টাকা আয় করে থাকেন।
গত বছর আরো বেশি আয় করেছি কারণ লাকরির চুলা ব্যবহার করেছিলাম, এখন গ্যাসের চুলা ব্যবহার করি গ্যাস কিনতে হয় ১ হাজার টাকা দিয়ে। শীতের মৌসুমে তাদের সংসারে অভাব একেবারেই থাকে না।
সাদেক আলী মৌসুমি ব্যবসায়ী সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে সব করে, গরম কালে লেবুর শরবত, তরমুজ, ইত্যাদি আবার আমড়া, জাম্মুরা, আঁখ, শীতে চিতল, ভাপা পিঠা তৈরি করে বিক্রি করে। ক্রেতাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, তারা ফুটপাতের এসব দোকানে বিভিন্ন রকমের পিঠা পেয়ে খুব খুশি। এসব পিঠা তারা নিজেরাও খান ও পরিবারের লোকজনদের জন্য নিয়ে যান।
তারা অরো বলেন, শীতের সন্ধ্যায় গরম গরম পিঠা খেলে মনও ভালো থাকে পেটও ভরে। পিঠা খেতে আসা দিদার নামে এক ভ্যান চালক বলেন, গরিব মানুষ বাড়িতে পিঠা তৈরি করে খাওয়ার মত সামর্থ নাই তাই প্রতি দিন একটি দুইটি পিঠা নিজে খাই পরিবারে জন্যও নিয়ে যাই।

x