শীতের আভাস, ব্যস্ত লেপ-তোষক কারিগররা

মাহবুব পলাশ, মীরসরাই

শনিবার , ৯ নভেম্বর, ২০১৯ at ৮:৩৬ পূর্বাহ্ণ
40

শ্যামল বাংলার ঋতুরূপ বড়ই বৈচিত্র্যময়। ছয় ঋতুর বাংলাদেশে কার্তিক ও অগ্রহায়ণ এ দুই মাসের হেমন্তকাল মানেই শীতের পূর্বাভাস। রাত শেষে ঠাণ্ডা শীত শীত হিমেল বাতাস, আর ভোরে ঘাসের ডগায় জমে থাকা শিশিরবিন্দু। এই শিশিরবিন্দুই বলে দেয় শীত আসছে। শীতের আগমনী বার্তা আসার সঙ্গে সঙ্গে দেশের বিভিন্ন স্থানের পাশাপাশি মীরসরাই উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বেড়ে গেছে লেপ-তোষক প্রস্তুতকারী বিক্রেতা ও কারিগরদের ব্যস্ততা। বেড়ে গেছে ধুনারীদের (লেপ-তোষক তৈরির কারিগর) তুলা ছাঁটাই ও লেপ তৈরির কাজে কর্মচাঞ্চল্য।
চলতি সপ্তাহ ধরে এ মীরসরাই উপজেলার পাহাড়ি নিকটবর্তী জনপদ থেকে শুরু করে উপকূলাঞ্চল সর্বত্র হালকা শীত ও কুয়াশা পড়তে শুরু করেছে। ভোরবেলায় কুয়াশায় ঢেকে যায় সবুজ মাঠ। সামনে পৌষ ও মাঘ মাস শীতকাল। তাই মীরসরাইয়ের গ্রামাঞ্চলের মানুষ আগেই হাটে বাজারে লেপ, তোষক বানাতে শুরু করেছে। এছাড়াও নতুন মেয়ে-জামাই এর বাড়িতে বালিশ, লেপ, তোষক দেওয়াটাও একটি ঐতিহ্য রয়েছে এ অঞ্চলের মানুষের। তাই লেপ-তোষক কারিগরদের এখন দম ফেলার ফুরসত নেই।
বিরামহীনভাবে কাজ করছেন তারা। কেউ কেউ পুরনো লেপ ভেঙে নতুন করে বানিয়ে নিচ্ছেন। আবার কেউ নতুন তুলা দিয়ে তৈরি করে নিচ্ছেন লেপ, তোষক ও বালিশ। জোরারগঞ্জ বাজারের লেপ তোষকের কারিগর রশিদ মিয়া ও মিয়া ধন জানান, তারা বছরে প্রায় ৬ মাস অন্য কাজ করেন। আর শীত মৌসুমের আগে অর্থাৎ হেমন্তের প্রথম থেকেই ধুনারী কাজ শুরু করেন।
তারা বলেন, শীত আসছে এমনটি টের পাওয়ার সাথে সাথে তাদের কদর বেড়ে যায়। ব্যস্ততা বেড়ে যায় তাদের। বিভিন্ন লেপ-তোষকের দোকানে গিয়ে তারা প্রতি দিন ৮০০ থেকে ৯০০ টাকায় আবার কেউ কেউ ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা হিসেবে লেপ, তোষক তৈরি করেন।
বারইয়াহাট বাজারের পুরাতন রোডের লেপ-তোষকের দোকান মালিক জাকির হোসেন জানান, শীত এখনো জেঁকে না বসলেও অনেকে আগেভাগেই লেপ ও তোষক বানাতে আসছেন। গত বছরের তুলনায় এ বছর ক্রেতার সংখ্যা অনেকটাই বেশি। সারা বছরের চেয়ে শীতের এ তিন মাস বেচাকেনা একটু বেশিই হয়।
তাই ক্রেতাদের কথা ভেবে কাজের গুণগতমান বজায় রেখে অর্ডারি কাজের পাশাপাশি রেডিমেট জিনিসও তৈরি করে বিক্রি করছেন এই লেপ-তোষকের দোকান মালিক। মোবারকঘোনা থেকে লেপ তৈরি করতে আসা জাফর মেম্বার জানান, এখনো শীতের দেখা না মিললেও আগেভাগেই শীতের জন্য একটি লেপ বানিয়ে নিচ্ছি। হিঙ্গুলী থেকে আসা জান্নাতুল ফেরদৌস নামের এক গৃহিনী জানান, কিছুদিন আগে তার মেয়ের বিয়ে হয়েছে। তাই মেয়ের জন্য লেপ-তোষক বানাতে এসেছেন তিনি।
এদিকে মীরসরাই ও বারইয়াহাট পৌরসভাসহ বিভিন্ন গ্রামেও লেপ-তোষক ফেরিওয়ালার হাঁক-ডাক বেড়েছে। এ ডাক মৌসুমী ফেরিওয়ালাদের, যারা শীত এলে রিকশা ভ্যানে লেপ-তোষক বিক্রিতে নেমে পড়েন। পাইকারদের কাছ কমিশনে কিনে গ্রামের বাড়ি বাড়ি বিক্রি করেন। এসব ফেরিওয়ালা নগদ টাকা ছাড়া বাকিতেও লেপ-তোষক বিক্রি করেন। শীত মৌসুম শেষ হওয়ার আগেই টাকা পরিশোধ করতে হবে ক্রেতাদের। সব মিলিয়ে শীতের বার্তা যেন জানিয়ে দিচ্ছে লেপ-তোষকের কারিগররাই।

x