শীতকালীন আগাম সবজি বাজারে

মুহাম্মদ এরশাদ, চন্দনাইশ

শনিবার , ১৯ অক্টোবর, ২০১৯ at ৩:৪১ পূর্বাহ্ণ
28

চন্দনাইশে শঙ্খতীরবর্তী ও শঙ্খচরে চাষাবাদকৃত আগাম শীতের শাকসবজি পাইকারি ও খুচরা বাজারে আসতে শুরু করেছে। বর্তমানে পাইকারি বাজারে শীতের শাকসবজির দাম কিছুটা বেশি। শীতকালীন শাকসবজির মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে পালংশাক, সরিষাশাক, মুলাশাক, লাল শাক, লাউশাক প্রভৃতি। নানা রকম শাক পাইকারি বাজারে দুই খাঁচি (আনুমানিক ৫০ কেজি) বিক্রি হচ্ছে ১২শ থেকে ১৫শ টাকার মধ্যে। তা খুচরা বাজারে আঁটিভেদে বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ২৫ টাকা দরে। এছাড়া সবজির মধ্যে মুলা, বেগুন, শিম, মিষ্টি কুমড়া, লাউ, বরবটি, তিতকরলা, শসা ইত্যাদি পাওয়া যাচ্ছে।
পাইকারি বাজারে গিয়ে দেখা যায়, মুলা (প্রকারভেদে) দুই খাঁচি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার, বেগুন ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার, শিম কেজি প্রতি কেজি ১০০ থেকে ১২০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া প্রতি কেজি ৩০ থেকে ৩৫ টাকা, লাউ প্রতিটি ৩০ থেকে ৩৫ টাকা, বরবটি কেজি প্রতি ৪০ থেকে ৪৫ টাকা, তিতকরলা ৪৫ থেকে ৫০ টাকা, শষা ৪০ থেকে ৪৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া খুচরা বাজারে প্রতি কেজি মুলা ৫০ থেকে ৫৫ টাকা, বেগুন ৬০ থেকে ৭০ টাকা, শিম ১২০ থেকে ১৪০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৪০ থেকে ৪৫ টাকা, লাউ ৪০ থেকে ৪৫ টাকা, বরবটি ৫০ থেকে ৫৫ টাকা, তিত করলা ৫৫ থেকে ৬০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।
শঙ্খচরের সবজি চাষি আহমদ নবী জানান, এখানে ভাদ্র মাসের শুরু থেকেই মুলা, বেগুন, বরবটি ও শিম চাষ শুরু হয়। তা কার্তিক মাসের শুরু থেকেই বাজারে বিক্রি করা যায়। অধিক লাভের আশায় চাষিরা আগাম শীতকালীন সবজির চাষ করেন। এছাড়া শীতকালীন অন্যতম সবজি ফুলকপি ও বাঁধাকপি আশ্বিন মাসের শেষের দিকে রোপণ করেন। এর আগে তারা মুলা বিক্রি করেন। আশ্বিন মাসের শেষ দিকে ও অগ্রহায়ণ মাসের শুরু থেকেই সকল প্রকার শীতকালীন সবজি বাজারে পুরোদমে বিক্রি করেন বলেও জানান তিনি। দোহাজারী বাজারের সবজি বিক্রেতা মো. ফারুক জানান, দুই সপ্তাহ আগেও এই সবজিগুলোর দাম কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা বেশি ছিল। বর্তমানে সরবরাহ একটু বেড়েছে বলে দামও কমতে শুরু করেছে। তিনি বলেন, শিম, ফুলকপি, বাঁধাকপি শঙ্খচর থেকে আসছে না। তবে মুলা বাজারে আসছে। পাশাপাশি বেগুন ও শিম অল্প কিছু পাওয়া যাচ্ছে। একই বাজারের আজগর আলী নামে আরেক বিক্রেতা বলেন, শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সবজির সরবরাহও বাড়বে। তখন শীতের সকল প্রকার সবজি পাওয়া যাবে।
দোহাজারী বাজারে সবজি কিনতে আসা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. এমরান খান জানান, শীতের সময়েই কেবল নানা প্রকৃতির সবজি পাওয়া যায় এবং একটু আরাম করে শাকসবজি খাওয়া যায়। তিনি বলেন, দোহাজারী বাজারটি শঙ্খচরের কাছে হওয়ায় তরতাজা সবজি পাওয়া যায়। এমনকি কৃষকরা সরাসরি সবজি তুলে বাজারে নিয়ে এসে বিক্রি করেন। তাই দিনের সবজি দিনে কিনে খাওয়া যায়।
দোহাজারী রেলওয়ে মাঠে পাইকারী সবজি বাজারে গিয়ে দেখা যায়, শঙ্খতীরবর্তী দোহাজারী, ধোপাছড়ি, বরমা, বরকল বৈলতলী এলাকা থেকে নৌকাযোগে চাষিরা নানা পদের শীতকালীন শাকসবজি নিয়ে এসেছেন। সেখান থেকে পাইকারী ব্যবসায়ীরা দরদাম করে চাষিদের কাছ থেকে সবজি কিনে ট্রাক, পিক-আপসহ বিভিন্ন পরিবহনে চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন সবজি বাজারে এবং অন্যান্য সবজি বাজারে সরবরাহ করছেন। কাছের পাইকারি ব্যবসায়ীরা ব্যাটারি রিকশা, ভ্যান ও সিএনজি টেক্সিযোগে সবজি কিনে নিয়ে যাচ্ছেন গন্তব্যে। রেলওয়ে মাঠে প্রতিদিন কাঁচা সবজির বাজার বসলেও শনিবার এবং মঙ্গলবারে বেশি সবজি আসে। আর ওই দিনই চাষিরা ক্ষেত থেকে সবচেয়ে বেশি তাজা সবজি নিয়ে বাজারে আসেন। এসময় সবজি চাষি মোজাম্মেল, ইকবাল, মোহাম্মদ আলী, আবুল কালাম, জহুর মিয়া, নুরুন্নবী, আবুল মনসুর সিটুসহ কথা হয় অনেকের সাথে। তারা জানান, শঙ্খচরের মাটি যেকোনো ধরনের সবজি চাষের জন্য আদর্শ। এখানে উৎপাদিত সবজি স্বাদেও অতুলনীয়। তাই শঙ্খচরের সবজির চাহিদা অন্যান্য এলাকা থেকে একটু বেশি। দামও পাওয়া যায় সন্তোষজনক। ফলে চাষিরাও বর্ষার মধ্যেই আগাম শীতকালীন সবজি চাষে নেমে পড়েন। এক্ষেত্রে অনেক সময় লাভবান হন আবার অনেক সময় ভারি বর্ষণে ক্ষতির শিকারও হন। চট্টগ্রাম শহরের বিভিন্ন বড় সবজি বাজারের পাইকারি ব্যবসায়ীরা তাদের প্রধান গ্রাহক বলেও জানান তারা।

x