শিশুর মাঝে সুশিক্ষার বীজটা রোপণ করতে হবে পিতা-মাতাকেই

সিভার অনুষ্ঠানে আজাদী সম্পাদক

আজাদী প্রতিবেদন

বুধবার , ১১ ডিসেম্বর, ২০১৯ at ৯:০০ পূর্বাহ্ণ

দৈনিক আজাদী সম্পাদক এম এ মালেক বলেছেন, যে শিক্ষা মানুষের চেতনার উন্মেষ ঘটায় না সে শিক্ষা কুশিক্ষা। শিক্ষা হলো তা, যা মানবিক মূল্যবোধ সৃষ্টি করে। আমরা বলছি, শিশুদের বেড়ে উঠতে হলে খেলাধুলার চর্চা জরুরি। খেলার মাঠ কোথায়? সাঁতার কাটবে, সেই পুকুর তো উধাও। যেখানেই পারছি ভবন তৈরি করছি আর আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ফ্ল্যাট কালচারে অভ্যস্ত করে তুলছি। ভবন বানাতে গিয়ে ভুবনটাকে নষ্ট করে ফেলছি।

গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সিভাফ্রিডম ইন্টারন্যাশনাল স্কুল ও চিটাগং ইনস্টিটিউট অব ভিজুয়াল আর্ট (সিভা) আয়োজিত বার্ষিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। টিআইসি মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি আরো বলেন, সন্তানদের সাথে আমাদের দূরত্ব বাড়ছে। উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করতে গিয়ে তার শৈশবটাকে ধ্বংস করে আমরা তাকে পাঠাচ্ছি বোর্ডিং স্কুলে, পাঠাচ্ছি বিদেশে। সে যখন নিজের পায়ে দাঁড়াচ্ছে তখন পিতামাতাকে পাঠিয়ে দিচ্ছে বৃদ্ধাশ্রমে। সন্তানের সাথে পিতামাতার আত্মিক বন্ধনটা শৈশবেই সুদৃঢ় করতে হবে।

এম এ মালেক বলেন, পরিবর্তনের কথা সবাই বলি, নিজে কতটা পরিবর্তন হচ্ছি তা ভাবছি ক’জন? নিজেকে পরিবর্তন করতে হবে। নিজে যদি পরিবর্তিত হতে পারি, পরিবারকে পরিবর্তন করতে পারব। পরিবার পরিবর্তন হলে সমাজ পরিবর্তিত হবে, দেশ পরিবর্তিত হবে। আমাদের সবার ভালোবাসার দেশ উন্নতি ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাবে। শিশুদের মাঝে সেই বীজটা পিতামাতাকেই রোপণ করতে হবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিভার উপদেষ্টা মোহাম্মদ জোবায়ের। বিশেষ অতিথি ছিলেন শহীদজায়া লেখিকা বেগম মুশতারী শফী ও সিএমপির উপপুলিশ কমিশনার বিজয় বসাক। বেগম মুশতারী শফী বলেন, আজকের শিশু আগামীর ভবিষ্যৎ। এই শিশুদের মুখে হাসি ফোটানো, তাদের পথ চলা সংঘাতহীন করার জন্যই তো একাত্তরের রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম, ৩০ লক্ষ শহীদের আত্মাহুতি। এ অনুভূতিতে উদ্বুদ্ধ করতে হবে ছোট ছোট শিশুদের। স্বাধীনতা প্রাপ্তি একদিকে উৎসবের, অন্যদিকে গভীর আত্মত্যাগের ইতিহাস। এই ইতিহাস শিশুদের জানতে হবে। তাদের জানানোর দায়িত্ব আমাদের।

উপপুলিশ কমিশনার বিজয় বসাক বলেন, একটি সমাজের জন্য সফল মানুষের চেয়ে বেশি জরুরি একজন ভালো মানুষের। শুধু এ প্লাস পাওয়া ভালো ছাত্রের মানদণ্ড হতে পারে না। আপনি আপনার ছেলেকে ভালো স্কুলে পড়াচ্ছেন, সে ভালো রেজাল্ট করছে, আপনি গর্ব করছেন, আপনার প্রতিবেশীও হয়ত গর্ব করছে। কিছুদিন পর সেই ছেলে আপনাকে পাঠিয়ে দিচ্ছে ওল্ড হোমে। পিতা হিসেবে আমি যেমন চাই আমার সন্তানটা আমার কাছে থাকুক, তেমনি সন্তানেরও ভাবতে হবে তার পিতামাতা কী চায়। এটা শুধু চাওয়া নয়, এটা তাদের অধিকার। তবেই তো দেশ উন্নত হবে। আমরা প্রচুর এ প্লাস দেখেছি, যারা ভবিষ্যতে পচে গেছে, বখে গেছে। কারণ এবং উত্তরণের পথ আমাদেরই খুঁজে বের করতে হবে। ২০৪১ সালে নতুন উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হলে আমাদের প্রয়োজন পারস্পরিক হৃদ্যতা। আমার কাছে দেশ মানে এক লোকের পাশে অন্য লোক।

স্বাগত বক্তব্য দেন সিভার প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক নুসরাত জাহান শিশু। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন সিভার প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাসান মুরাদ। অনুষ্ঠানে শহীদজায়া বেগম মুশতারী শফীকে ‘সিভা গুণীজন সম্মাননা পদক২০১৯ প্রদান করা হয়। এছাড়া সিভাফ্রিডম ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে ২০১৯ সালে প্রাকপ্রাথমিক শিক্ষা সফলভাবে শেষ করা শিশুদের সার্টিফিকেট দেওয়া হয়। সব শেষে শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় ছিল নৃত্য, সংগীত, নাটক ও আবৃত্তি।

x