শিশুদের মন জয় সহজ নয়

প্রয়োজন নির্মাণে সৃজনশীলতা

জসীম সিদ্দিকী

বৃহস্পতিবার , ৭ নভেম্বর, ২০১৯ at ৫:১৬ পূর্বাহ্ণ
9

ছোটরা কী চায়, অভিভাবকদের তা বুঝতে অনেক সময় লাগে। আগে দেখা যেত, শিশু কান্না করলে তার হাতে বল বা খেলনা জাতীয় কিছু তুলে দিলে কান্না থেমে যেত। বর্তমান সময়ের শিশুদের চাহিদা কিন্তু ভিন্ন। তারা আধুনিকই বলা যায়। কারণ বল বা খেলনা নয় এখনকার শিশুরা কান্না করলে তাদের হাতে অ্যানড্রয়েট বা আইফোন না দিলে মনে হয় কান্নাই তার থামে না। বলছিলাম ছোটদের মনের কথা। বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্র ছোটদের মনের কথা যেন আগেকার দিনের মতই বুঝছে। তারা এটা ভাবতে পারছে না যে আমাদের এখনকার শিশুরা অনেক আধুনিক। দড়ি দিয়ে পুতুল নাচিয়ে শিশুদের মনের খোরাক যোগানো মিছে মিছে সময় নষ্ট করা। আর এ অনুষ্ঠান নির্মাণের পিছনের ব্যয় অনর্থকই বলা চলে। আধুনিক সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে শিশুতোষ নানা অনুষ্ঠান নির্মাণ করছে বেসরকারি চ্যানেলগুলো এবং শিশুদের কাছে তা গ্রহণযোগ্যও হচ্ছে। সেখানে এমন ধরনের অনুষ্ঠান নির্মাণ এবং দিনের পর দিন তা সম্প্রচার করা মানে শিশুদের মনের উপর জোর খাটানোই বলা চলে। প্রায়ই দেখা যায় টেলিভিশনের প্রথম অনুষ্ঠান হিসাবেই সম্প্রচারিত হয় এই ‘মনের কথা’। দড়ি দিয়ে পুতুল নাচ আর কত দেখবে শিশুরা শিশুদের মন জয় করতে সুজনশীল অনুষ্ঠান নির্মাণ প্রয়োজন। ২ নভেম্বর শনিবার রাত সাড়ে দশটার দিকে পল্লী গানের অনুষ্ঠান ‘মাটির ঘ্রাণ’-এ ছিল না কোন প্রাণ। স্টুডিওকে গ্রামের দৃশ্যে সাজিয়ে গুছিয়ে শিল্পীরা পরপর এসে গেয়ে গেলেন সব হাছন রাজার গান। হাছন রাজার বিখ্যাত সব গান গাইলেও শিল্পীদের মনে হলো যে শুধু টাকার জন্যই গাইছেন। সামনে ক্যামেরা অন-অফ শেষে চেকপ্রাপ্তি। যার ফলে তাদের কণ্ঠে হাছনের গানের প্রাণ ছিল না। এ ধরনের মানহীন অনুষ্ঠান উপভোগে রিমোট হাতে থাকা দর্শকরা কতক্ষণ বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্র তাদের চোখের সামনে রাখবেন তা ভাবা দরকার।
আলম খোরশেদের উপস্থাপনায় ‘শিল্পের বিস্তার’ প্রচারিত হল শনিবার রাত ১১টার দিকে। চট্টগ্রামে সঙ্গীত চর্চার নানাদিক নিয়ে এ অনুষ্ঠানে আলোচনায় অতিথি ছিলেন সংগীত শিল্পী ও সংগঠক কাবেরী সেনগুপ্তা। আলোচনার এক পর্যায়ে ঢাকায় সঙ্গীতায়োজনে বেঙ্গলের প্রসঙ্গ তুলে সম্মানিত আলোচক জানালেন অনুষ্ঠানের উপস্থাপকের সাথে তাদের ভালো সম্পর্কের কথা। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটিকে চট্টগ্রামে এনে অনুষ্ঠান আয়োজন করানোর জন্য উপস্থাপককে অনুরোধ জানালেন। আলোচনায় উপস্থাপকের কাছে এ রকম অনুরোধ, অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ বাড়তি প্রশংসা হিসেবেই গণ্য করা যায়। প্রশংসা শুনে উপস্থাপকও বেশ পুলকিত হয়েছিলেন। এসব দৃষ্টিকটূ বৈকি! তবে সঙ্গীতাঙ্গনও শিল্পচর্চায় চট্টগ্রাম নানাদিকে পিছিয়ে থাকার কারণ এবং সামনে এগিয়ে যাবার নানা দিক নির্দেশনাও রয়েছে অনুষ্ঠানটিতে এটি অনায়াসে স্বীকার করতে হয়। স্কুলের শিক্ষার্থীদের নিয়ে মুক্তিযুদ্ধকে জানো অনুষ্ঠান নির্মাণ প্রশংসনীয়। তবে শ্যূটিং সেটের সামনে বসে শিক্ষার্থীরা এ বিষয়টি কতটুকু মনে ধারণ করে নিতে পারে তা প্রশ্ন থেকে যায়। মুক্তিযুদ্ধকে জানাতে আরো সৃজনশীল অনুষ্ঠান নির্মাণ করা যায় কিনা বিষয়টি ভেবে দেখতে পারে কর্তৃপক্ষ। গতকাল বুধবার বিকেল ৩.৩০ মি. অনুষ্ঠানটি সম্প্রচারিত হয়।

x