শিশুদের বিনোদনের অন্যরকম একদিন

বিএসআরএম’র উদ্যোগ

আজাদী প্রতিবেদন

শনিবার , ৯ নভেম্বর, ২০১৯ at ৪:১৩ পূর্বাহ্ণ
95

সিআরবি শিরীষতলায় বাচ্চাদের অস্থায়ী একটি বিনোদন জগতের আয়তন বেশি বড় নয়। বড় জোর ১শ’ বাচ্চা সেখানে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, কাবাডি, দড়ি টানা, সাপ লুডুসহ আর কয়েক ধরনের খেলাধুলা করতে পারবে। কিন্তু ওই ক্ষুদ্র পরিসরের আয়োজনের মধ্যে ব্যতিক্রমী হচ্ছে সেখানে ধনী-গরীব ভেদাভেদ ভুলে সমাজের উঁচু স্তরের শিশুরা পথশিশুদের সাথে যোগ হয়েছে। পথ শিশুদের সাথে তারা ছবি অঁাঁকছে, মৃৎশিল্প তৈরি করছে, মনোযোগ দিয়ে গল্প শোনাসহ আরও কত কিছু করছে। গতকাল শুক্রবার সকালে নগরীর সিআরবি শিরীষতলায় সব শিশুদের জন্য ‘পেরেন্টস অব দ্য পার্ক’ নামে ব্যতিক্রমী এই বিনোদন পার্কের আয়োজন করা হয়। শিল্প গ্রুপ বিএসআরএম’র শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ফ্লোবেল প্লে স্কুল, ফ্লোবেল একাডেমি ও ফ্লোবেল ট্রেনিং একাডেমির সমন্বয়ে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত এই বিনোদন চলে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এর মাধ্যম শৈশবকালীন সন্তানদের মধ্যে একটি সুষ্ঠু মানসিকতা বিকাশ পাবে। এর আগে সকাল ১০টায় জাতীয় সংগীত পরিবেশনা ও পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটির উদ্বোধন করা হয়।
বিএসআরএম’র চেয়ারম্যান আলী হুসাইন আকবর আলী বলেন, সমাজের সকল শ্রেণির বাচ্চাদের বিনোদনের লক্ষ্যে আমরা বেশ কিছু খেলাধুলার আয়োজন করেছি। কাবাডি, ফুটবল, কারাতে, মৃৎশিল্প, দড়ি টানা প্রতিযোগিতা, সাপলুডু খেলা, পুতুল নাচ ও আবৃত্তি, মুক্তিযুদ্ধের ঘটনাবলীর
আলোকে গল্প বলা, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনী পাঠসহ আরও কয়েকটি বিনোদন এখানে রাখা হয়েছে।
বিএসআরএম চেয়ারম্যান বলেন, এই শহরের বাসিন্দা হিসেবে আমাদের এমন একটি ধারা প্রবর্তন করতে হবে যেখানে বড়রাই সব শ্রেণির শিশুদের সুন্দর ও সাবলীল শৈশবের দায়িত্ব নেবে। যার ফলে বাচ্চারা স্বাভাবিক কৌতহল নিয়ে জ্ঞান অর্জন, সৃজনশীল ও সামাজিক দায়বদ্ধ হয়ে বেড়ে উঠতে পারে।
এদিকে উদ্বোধনের পর বিনোদন পার্ক খুলে দেওয়ার সাথে সাথেই বাচ্চাদের মধ্যে আনন্দ যেন ধরে রাখার মত নয়। সেখানে কেউ যোগ দিয়েছে কাবাডি, কেউ ব্যাডমিন্টন, আবার কোনো কোনো বাচ্চারা দুই দল হয়ে দড়ি টানাটানি প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছে, কেউ কেউ জ্যান্ত ঘোড়ায় চড়ে ঘুরে এপাশ-ওপাশ ঘুরেছে। ওইসব বাচ্চাদের সাথে আবার তাদের অভিভাবকেরাও যোগ দিয়েছেন। অভিভাবকেরা তাদের বাচ্চাদের বিভিন্ন খেলায় অংশগ্রহণের জন্য উদ্ধুদ্ধ করেছেন। বাচ্চাদের আরেকটি দলের কেউ শিক্ষকের কাছ থেকে মনোযোগ সহকারে গল্প শুনছে, কেউ কেউ চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে নিজেদের ইচ্ছেমতো ছবি আঁকছে। আবার কেউ নিজেদের আত্মরক্ষার কৌশল শেখার জন্য ওস্তাদের দারস্থ হয়ে ক্যারাতে শিখছে। বাচ্চাদের আরেকটি দল কাঁদা-মাটি দিয়ে পুতুল, হাড়ি, পাতিলসহ কত কিছু তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করেছে।
তাদের প্রত্যেকেরই অভিভাবকদের পাশাপাশি সেখানে গাইডলাইন দিয়েছেন ওইসব আয়োজনের দায়িত্বরত শিক্ষকেরা। আয়োজনের বিভিন্ন ইভেন্টে পথশিশুদেরও অংশগ্রহণ করতে দেখা যায়। বিভিন্ন শিল্প গ্রুপের মালিকেরাও তাদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সেখানে যোগ দিয়েছেন।
মৃৎশিল্প তৈরিতে দায়িত্বে থাকা হামিয়া ফেরদৌসি আজাদীকে বলেন, এই ইভেন্টে সব শ্রেণির বাচ্চারা অংশগ্রহণ করেছে। কাদা মাটি দিয়ে পুতুল, হাড়ি, পাতিলসহ মজার মজার অনেক কিছুই বাচ্চারা তৈরি করতে পেরেছে।
ফেরদৌসি বলেন, মৃৎশিল্প তৈরিতে আমাদের স্কুলের বাচ্চাদের পাশাপাশি এখানকার পথশিশুরাও যোগ দিয়েছে। আর তাদের প্রতিভা দেখে আমরা আশ্চর্য হয়েছি। তারা মৃৎশিল্প তৈরিতে আমাদের বাচ্চাদের চেয়ে অনেক ভাল করেছে। ওই পথশিশুদের সঠিক গাইডলাইন থাকলে তারা অনেক ভাল করতে পারবে বলে জানান তিনি।
নিজের শিশু বাচ্চাকে বিনোদন পার্কে নিয়ে আসা বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত মো. সাইফুল নামে একজন অভিভাবক আজাদীকে বলেন, এই ধরণের আয়োজনে অংশগ্রহণ করতে পেরে আমাদের সন্তানেরা খুবই খুশি। এখানে বাচ্চারা সবার সাথেই খেলাধুলা করতে পারছে। একসাথে ছবি আঁকতে পারছে। তাদের মাঝে ধনী-গরীব ভেদাভেদ জিনিসটা একেবারেই থাকছে না। আলাদা একটি পরিবেশ এখানে তৈরি হয়েছে। এমন উদ্যোগ নিয়মিত থাকলে সন্তানেরা একটি সুষ্ঠু মানসিকতা নিয়ে বড় হতে পারবে বলে জানান তিনি।

x