শিশুদের উপর বইয়ের চাপ কমিয়ে গুণগত শিক্ষা নিশ্চিত করুন

তসলিম উদ্দিন

বুধবার , ১১ ডিসেম্বর, ২০১৯ at ৪:৫৭ পূর্বাহ্ণ

আমাদের দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় শিশু যত ছোট তত চাপ বেশি। আর যত বড় হতে থাকে ছাড় পেতে থাকে। শিশুরা যখন স্কুলে যাওয়া শুরু করে তাদের ক্লাস শুরু করে সেই নার্সারীকেজি তে সাতটাআটটা থেকে, বই থাকে ছয় থেকে আটটা। সেটা ২য়৩য় শ্রেণীতে বই হয়ে যায় ১০১২ টা, পরীক্ষা হয় ৯১০ টা। অনেক শিশুর এতগুলো বই বহন করার শক্তিও থাকে না। ২য়৩য় শ্রেণীতে বাংলা ২য়, ইংরেজি ২য়, সমাজ, বিজ্ঞান, কম্পিউটার, সাধারণ জ্ঞান এর জন্য আলাদা বই, ভিন্ন ভিন্ন ক্লাস এবং প্রত্যেকটির জন্য আলাদা পরীক্ষা নিতে হবে কেন? আমরা কি তাদের ক্লাস ফাইভ পর্যন্ত পড়িয়ে সিক্স থেকে ফ্রি করে দেয়ার ব্যবস্থা করছি। আসলে শিশুর পড়া হওয়া উচিত তার বয়স অনুযায়ী। আমরা যা শিখায় তা যেন সে সবই আত্মস্থ করতে পারে। এখন তো তারা কিছুই বুঝে পড়ে না। এত বুঝার সময়ই নেই। স্কুল, দুই তিনটা গৃহ শিক্ষক, এরপর মাবাবার চাপ। আমার মনে হচ্ছে শিশু অবস্থায় আমরা তাদের মানসিক ভাবে অসুস্থ করে তুলছি। আমরা বাচ্চারা কি শিখছে এটাতে মনোসংযোগ না দিয়ে সে কত নম্বর পেল, রোল নম্বর কত হল, কোন স্কুল বা কলেজে ভর্তি হতে পারল এটাই আমাদের কাছে বিবেচ্য বিষয়। তাই এখন শিশুরা আত্মস্থ করার চেয়ে মুখস্ত করার প্রতি ঝোঁক বেশি।

কারণ তাকে ভাল রেজাল্ট করতে হবে, ভাল স্কুল কলেজে ভর্তি হতে হবে। এতে বাচ্চারা বড় হচ্ছে, বড় বড় ডিগ্রি নিচ্ছে ঠিকই কিন্তু শিক্ষার মান টেকসই হচ্ছে না, মানুষ মানবিক হচ্ছে না। তাই আমার পরামর্শ হচ্ছে

. শিশু কে পর্যাপ্ত ঘুমের ব্যবস্থা করার জন্য সকাল নয়টার আগে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত কোন ক্লাস রাখা যাবে না। কারণ পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শিশুর স্বাস্থ্য ও মন কোনটা স্বাভাবিক গঠন হয় না। ২. ২য় শ্রেণী পর্যন্ত পরীক্ষার বিষয় হবে তিনটি বাংলা, ইংরেজি, গণিত। আরো দুই একটা ঐচ্ছিক বিষয় দেয়া যায় যেমন চিত্রাংকন, ধর্ম, ছড়া ও গল্প। কিন্তু এগুলোর পরীক্ষা হবে না। ৩. ৩য় শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত আরেকটি বিষয় বাড়ানো যায় যার নাম সাধারণ জ্ঞান। এখানে সীমিত আকারে সমাজ, বিজ্ঞান, ধর্ম, সাধারণ জ্ঞানের বিষয় গুলো স্থান পেতে পারে। ৪ পরীক্ষা নিতে হবে বছরে দুইবার। ৫. সরকারি প্রাথমিকে এই সকল নিয়ম কিছু মানা হয়। সব কিন্ডারগার্টেনে এই নিয়ম পালনে বাধ্য করতে হবে। কারণ দেশে পর্যাপ্ত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নেই। ৬. শিক্ষকদের বেতনসহ অন্যান্য সুযোগ সুবিধা বাড়াতে হবে। যাতে মেধাবীরা শিক্ষকতা পেশায় আসতে উৎসাহিত হয়। ৭. এখন স্কুলে হয় শুধু ডায়েরী মেইনটেইন, লেখাপড়া হয় বাসায়। এটির অবসান ঘটিয়ে স্কুলে পড়ানোর সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে।

. সিলেবাস প্রণয়ন করতে হবে মধ্যম মানের ছাত্রদেরকে ভিত্তি করে।

মনে রাখতে হবে শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলা, সমবয়সীদের সাথে মেলামেশা, বেড়ানো ও পর্যাপ্ত বিশ্রামের বিকল্প নেই। আশা করি কর্তা ব্যক্তিরা বিষয়টি ভেবে দেখবেন।

x