শিব চতুর্দশীতে পুণ্যার্থীদের মিলনমেলা

লিটন কুমার চৌধুরী : সীতাকুণ্ড

সোমবার , ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ at ৫:৪৯ পূর্বাহ্ণ
79

দেশের সনাতনী ধর্মাবলম্বীদের প্রধান আদিতীর্থ সীতাকুণ্ড চন্দ্রনাথধামে গত ২০ ফেব্রুয়ারী থেকে তিনদিনব্যাপী শিব চতুর্দশী মেলা ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে। দেশি-বিদেশি অতিথি, সাধু-সন্ন্যাসী, মঠ মন্দির ও আশ্রমের প্রধান, তীর্থযাত্রী ও ভক্তবৃন্দের আগমনে চন্দ্রনাথধাম আন্তর্জাতিক মিলন মেলায় পরিণত হয়েছে। তবে প্রতিবারের মতো এবারও চন্দ্রনাথ মন্দিরে উঠতে গিয়ে নানা সমস্যা, যাত্রীদের ভোগান্তির শিকার হতে হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে। তবে আয়োজকরা সুশৃংখল ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে এ মেলা সম্পন্ন হয়েছে দাবি করছে।
তিনদিনের মূল মেলা শেষ হলেও অনানুষ্ঠানিকভাবে মেলা চলবে আগামী ৯মার্চ দোল পূর্ণিমা পর্যন্ত। মেলার পাশাপাশি প্রতিবারের মতো এবারও চন্দ্রনাথ তীর্থে সীতাকুণ্ড স্রাইন (তীর্থ) কমিটির উদ্যোগে দিনব্যাপী ঋষি সমাবেশ পদক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। সীতাকুণ্ড চন্দ্রনাথধামস্থ মোহন্ত মহারাজের আস্তানায় মঙ্গল প্রদীপ জ্বালিয়ে মেলার ধর্মীয়ভাবে উদ্বোধন করেন শ্রীমৎ স্বামী লক্ষ্ণী নারায়ন পুরীনন্দ মহারাজ।

তিনদিন মেলাঙ্গন ঘুরে দেখা যায়, সীতাকুণ্ড কলেজ রোড থেকে চন্দ্রনাথ মন্দিরের পাদদেশ পর্যন্ত লোকে লোকারণ্য ছিল। শিবরাত্রীকে কেন্দ্র করে তীর্থযাত্রীগণ চন্দ্রনাথধামের বিভিন্ন মঠ-মন্দির দর্শন ছাড়াও ব্যাসকুণ্ডে স্নান, তর্পণ, গয়াকুণ্ডে পিণ্ডদাণসহ বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানাদি পালন করে। সনাতন ধর্মলম্বীদের মধ্যে এ ধারণা প্রবল যে, পূর্ণতিথী শিব চতুর্দশিতে এ ধামে স্নান-তর্পণ, গয়াকুণ্ডে পিণ্ডদান, শিবপূজা এবং ধর্মগ্রন্থ পাঠ বা শ্রবণ করলে জাগতিক পাপ মুছে গিয়ে পুণ্যের সঞ্চার হয়। তবে বিপদজনক আঁকা-বাঁকা সরু পথ, ভাঙা সিঁড়ি, সড়কের পাশে অস্থায়ী দোকান স্থাপনসহ সবমিলে তীর্থযাত্রীদের ভোগান্তির সীমা ছিল না।
মেলা কমিটি সূত্রে জানা যায়, তিন দিনে চন্দ্রনাথ ধাম থেকে ১২’শ ফুট উপরে পাহাড় বেষ্টিত চন্দ্রনাথ শিব মন্দিরে দর্শন করতে গিয়ে দর্শনার্থীদের ভিড়ের চাপে ৮ তীর্থযাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়ে। তারপরও তীর্থযাত্রীরা স্রষ্টার নামে এই বিপদসঙ্কুল পথ পাড়ি দিয়েছেন। কিশোরগঞ্জ থেকে আসা তীর্থযাত্রী দয়াময় রায়ের মতে, ‘এসবই ছিল চন্দ্রনাথ বাবার কৃপা’।

মেলাঙ্গন সিসি ক্যামেরা স্থাপন এবং ব্যাপক প্রশাসনিক নিরাপত্তার মধ্যেও মেলায় পকেটমাররা তীর্থযাত্রীদের কাছ থেকে অর্ধ শতাধিক মোবাইল সেট ও নগত অর্থ ছিনিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়া মেলার ভিড়ে অনেক তীর্থ যাত্রী বিভিন্নস্থান থেকে নিখোঁজ হয়েছে। অবশ্য মেলা কমিটি কর্তৃক মাইকে বারবার হারিয়ে যাওয়ার সংবাদ প্রচারের ব্যবস্থার কারণে তারা স্বজনদের কাছে ফিরে পেয়েছে।
সীতাকুণ্ড মেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক পলাশ চৌধুরী জানান, মেলায় ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ছিল। এবারের মেলায় প্রায় ২০লাখ তীর্থযাত্রীর আগমন ঘটেছে। মেলায় বড় কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।