শাহ মজিদিয়া ইসলামী কমপ্লেক্স

বোয়ালখালীর প্রত্যন্ত গ্রামে জ্ঞানের আলো ছড়াচ্ছে

মনজুর আলম : বোয়ালখালী

সোমবার , ২৮ অক্টোবর, ২০১৯ at ১০:১৪ পূর্বাহ্ণ
43

“দয়া নয়, শিক্ষাই হোক প্রতিটি শিশুর জন্মগত অধিকার” স্লোগানটিকে সামনে রেখে বোয়ালখালীর প্রত্যন্ত গ্রামে জ্ঞানের আলো ছড়াচ্ছেন শাহ্‌ মজিদিয়া ইসলামী কমপ্লেক্স। কানুনগোপাড়া সড়ক বেয়ে উপজেলা সদর পেরিয়ে একটু অদূরে গেলেই যে কারো চোখে পড়বেই কমপ্লেক্সটির নানাবিধ কার্যক্রম। বেশিদিন নয় এইতো সেদিন ২০১৬ সালে পূর্ব গোমদণ্ডী, মুফতিপাড়ায় নিজের কষ্টার্জিত বেতনের টাকায় কেনা ১০ শতক জায়গার উপর শাহ্‌ মজিদিয়া ইসলামী কমপ্লেক্সটি গড়ে তোলেন সাবেক কৃষিবিদ হাজী মুহাম্মদ ইছমাইল বি,কম। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন-ছোট বেলায় শিক্ষকরা আমাদের পড়িয়েছেন কামিনী রায়’র -আপনারে লয়ে বিব্রত রহিতে আসে নাই কেহ অবনী ‘পরে, সকলের তরে সকলে আমরা প্রত্যেকে মোরা পরের তরে’ এ কবিতাটি। সেই থেকে ভাবতে থাকি এ ধরনীতে আমাদের জন্ম শুধু নিজের জন্য হয়নি,পরের জন্যও আমাদের কিছু দায় দায়িত্ব রয়েছে। যেই ভাবনা সেই কাজ, উদ্দেশ্য মহৎ হলে কোন চেষ্টাই বৃথা যায় না। পারবো কি পারবো না এমন দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগতে-ভুগতে একদিন নিজের কিছু সঞ্চিত টাকা দিয়ে নেমে পড়ি মাঠে। এলাকার সুবিধা বঞ্চিতদের শিক্ষার আলোয় নিয়ে আসার জন্য গড়ে তুলি এ কমপ্লেক্সটি । নতুন প্রজন্মকে সঠিক জ্ঞানের আলোয় আলোকিত করে গড়ে তুলতে তার এ ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা বলে দাবী তাঁর। দিন যতই গড়াচ্ছে ততই বাড়ছে এর ব্যাপকতা। প্রতিষ্ঠার মাত্র ৪ বছরের মাথায় এখানে গড়ে উঠে উম্মুল হাবিবা হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানা, শাহ্‌ মাহমুদিয়া ইসলামিয়া ফোরকানিয়া মাদ্রাসা, মমতা কিন্ডারগার্টেন, রাফি আর্ট স্কুল, জোহাইসনা সেলাই প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, খানকা শরীফ ও এবাদত খানা। বর্তমানে এ কমপ্লেক্সে দুই শতাধিক শিক্ষার্থী নাম মাত্র ফি দিয়ে পড়াশোনা ও প্রশিক্ষণ নিচ্ছে অভিজ্ঞ শিক্ষক-শিক্ষিকা ও প্রশিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে। পাশাপাশি এতিম শিশুদের জন্য বিনাবেতনে খাওয়া-দাওয়া ও দক্ষ কোরাআনে হাফেজদের মাধ্যমে পড়াশুনার সুযোগও রয়েছে এখানে। এ ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে কমপ্লেক্সটির তত্ত্বাবধানে দায়িত্বরত অধ্যক্ষ মমতাজ বেগম বলেন, লেখাপড়া করে ভাল ছাত্র হওয়া সহজ কিন্তু ভাল মানুষ হওয়া খুবই কঠিন। তাই এখানে ভাল ছাত্র হওয়ার পাশাপাশি ভাল মানুষ তৈরির জন্যও নানা বিষয়ে জ্ঞান চর্চা করানো হয়ে থাকে বলে দাবী তার। ‘বিন্দু থেকে সিন্ধু “-কথাটির মতই সবার সহযোগিতা পাওয়া গেলে শিক্ষাবিদ হাজী ইসমাইল সাহেবের স্বপ্নের এ ক্ষুদ্র প্রতিষ্ঠানটি একদিন সিন্ধুর ন্যায় মহীরুহ হয়ে উঠবে এমনই আশাবাদী এখানকার অনেকেই।

x