শাহজাহান খান ক্ষমা চান

মহানগর আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা এ কে এম বেলায়েত হোসেন

আজাদী অনলাইন

মঙ্গলবার , ৩১ জুলাই, ২০১৮ at ৬:০৮ অপরাহ্ণ
971

সড়কে বিভিন্ন দুর্ঘটনার পর পরিবহন শ্রমিকদের পক্ষ নিয়ে দেয়া বক্তব্যের জন্য নৌমন্ত্রী শাজাহানকে ক্ষমা চাইতে বলেছেন চট্টগ্রামের এক আওয়ামী লীগ নেতা। নর্থ-সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সাইদুর রহমান পায়েল হত্যার প্রতিবাদে আজ মঙ্গলবার (৩১ জুলাই) দামপাড়া এলাকায় হানিফ বাস কাউন্টার ঘেরাও কর্মসূচিতে এ দাবি তোলেন মহানগর আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা এ কে এম বেলায়েত হোসেন। খবর বিডিনিউজের

গত ২১ জুলাই হানিফ পরিবহনের ভলভো বাসে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা যাওয়ার পথে ‘নিখোঁজ’ হন পায়েল। পরদিন তার মামা সোহরাওয়ার্দী বিপ্লব নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। ২৩ জুলাই ভাটেরচর সেতুর নিচ থেকে পায়েলের লাশ উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় বাসচালক, সুপারভাইজার ও সহকারীকে গ্রেপ্তারের পর নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ জানিয়েছিল, বাসে উঠতে গিয়ে পড়ে যাওয়ার পর গুরুতর আহত হন পায়েল। পরে তার মুখ থেঁতলে দিয়ে লাশ নদীতে ফেলে দেয়া হয়।

পায়েল হত্যাকাণ্ডের ১১ দিন পরও ‘হানিফ এন্টারপ্রাইজ’ পরিবহন সংস্থাটি থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে ঘেরাও কর্মসূচির আয়োজন করে সন্দ্বীপ অ্যাসোসিয়েশন।

কর্মসূচি থেকে দ্রুত পরিবহন সংস্থাটির পক্ষ থেকে ক্ষতিপূরণ দেয়া ও যথাযথ ব্যবস্থা না নেয়া হলে সড়কে হানিফ এন্টারপ্রাইজের বাস চলাচল বন্ধ করে দেয়ার ঘোষণা দেয়া হয়।

আওয়ামী লীগ নেতা বেলায়েত হোসেন নৌমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেন, ‘শাহজাহান খান আপনি ক্ষমা চান। আপনার বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি আমরা।’

পরিবহন শ্রমিকদের সবচেয়ে বড় সংগঠন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের কার্যকরী সভাপতি শাহজাহান খান নৌমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকলেও বিভিন্ন সময় সড়ক দুর্ঘটনার পর পরিবহন শ্রমিকদের পক্ষ নিয়ে বক্তব্য দিয়ে সমালোচিত।

বেলায়েত বলেন, ‘পায়েল দুর্ঘটনায় মরেনি। তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু হত্যাকাণ্ডের এতদিন পার হলেও পরিবহন সংস্থাটি সমবেদনা যায়নি। দ্রুত সময়ের মধ্যে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নিয়ে ক্ষতিপূরণ দেয়া না হলে রাস্তায় হানিফ পরিবহনের কোনো বাস থাকবে না। তাদের চলতে দেয়া হবে না।’

চট্টগ্রাম মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক মহিউদ্দিন বাচ্চু বলেন, ‘চালকদের ঔদ্ধত্য আচরণে সড়কে একের পর এক দুর্ঘটনা ঘটছে। তাদের শুধু গাড়ি চালনা নয়, যাত্রীদের সাথে কীভাবে আচরণ করবে তার প্রশিক্ষণও দেয়া দরকার।’ সমাবেশে তিনি পরিবহন ব্যবস্থার সামগ্রিক পরিবর্তন আনার দাবি জানান।

পায়েলের বাবা গোলাম মাওলা বলেন, ‘আমার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে।’ ছেলের হত্যাকারীদের দ্রুত বিচার আইনে বিচার করে ফাঁসির দাবি জানান তিনি।

হত্যাকাণ্ডের ১১ দিন পরও পরিবহন সংস্থা পায়েলের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেনি বলে অভিযোগ করেন পায়েলের মামা ও মামলার বাদী সোহরাওয়ার্দী বিপ্লব।

সকালে ঘেরাও কর্মসূচি পালন শুরু করার আগে পুলিশ তাদের বাধা দিলেও তা উপেক্ষা করে কাউন্টারের বিপরীতে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে সমাবেশ করেন সন্দ্বীপ অ্যাসিয়েশনের সদস্যরা।

এসময় বিপুল পরিমাণ পুলিশের উপস্থিতি ছিল কাউন্টার ও সমাবেশ ঘিরে। সমাবেশে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। সেখানে তারা ‘জাস্টিস ফর পায়েল’ লেখা টিশার্ট পড়ে ফেস্টুন নিয়ে উপস্থিত ছিলেন।

সমকাল পত্রিকার চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান ও সন্দ্বীপ অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য সারোয়ার সুমনের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন ফাহাদ চৌধুরী দীপু, নগর ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রনি, উন্নয়নকর্মী শরীফ চৌহানসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

x