শামীমাকে নিয়ে ‘হল্যান্ডে’ ফিরতে চান স্বামী

সোমবার , ৪ মার্চ, ২০১৯ at ১০:৫৪ পূর্বাহ্ণ

মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটে (আইএস) যোগ দিতে ১৫ বছর বয়সে লন্ডনছাড়া শামীমা বেগমকে নিয়েই নেদারল্যান্ডে ফিরে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন তার স্বামী ইয়াগো রিদাইক। ২৭ বছর বয়সী এ ডাচ আইএসযোদ্ধা বর্তমানে উত্তরপূর্ব সিরিয়ায় কুর্দিদের একটি আটক কেন্দ্রে বন্দি আছেন। চার বছর আগে শামীমা সিরিয়ায় আইএসের অধিকৃত অঞ্চলে পৌঁছানোর কয়েকদিন পরই তাদের বিয়ে হয়। কয়েক মাস আগে এ দম্পতির একটি ছেলেও হয়েছে। এক কথোপকথনে রিদাইক আইএসের হয়ে লড়াইয়ের কথা স্বীকার করেছেন। স্ত্রী ও শিশু সন্তানকে নিয়ে নেদারল্যান্ডসে ফিরতে চাওয়ার আকুতিও প্রকাশ পেয়েছে তার কণ্ঠে। জঙ্গি সংগঠনে যোগ দেওয়ার অপরাধে দেশে ফিরলেই তাকে ছয় বছরের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। আমাদের হল্যান্ডেই (নেদারল্যান্ডসে) থাকা উচিত, বলেছেন তিনি। খবর বিডিনিউজের।
আইএসে যোগ দিলেও পরে তাদেরকে প্রত্যাখ্যান করে পালিয়ে আসার চেষ্টা করেছিলেন বলে সাক্ষাৎকারে দাবি করেন নেদারল্যান্ডসের আর্নেমের এ বাসিন্দা।
ওই অপরাধে তাকে রাকায় বন্দি করে রাখা হয়েছিল এবং ডাচ গুপ্তচর অভিহিত করে অবর্ণনীয় নির্যাতনও চালানো হয়েছিল, দাবি রিদাইকের। পরে পূর্ব সিরিয়ায় আইএসের শেষ ঘাঁটি বাঘুজ শহর থেকে স্বামীকে নিয়ে পালিয়ে যান ১৯ বছর বয়সী শামীমা। রিদাইক শেষ পর্যন্ত সিরীয় যোদ্ধাদের একটি দলের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। আরও ৩৯ হাজার লোকসহ শামীমা ও তার সদ্য জন্ম নেওয়া ছেলে জারার স্থান হয় উত্তর সিরিয়ার আল-হাল শরণার্থী শিবিরে। জঙ্গিরা মেরে ফেলার হুমকি দেয়ায় গত সপ্তাহে সেখান থেকেও বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এ ব্রিটিশ নারী সন্তানসহ পালিয়ে গেছেন বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম। রিদাইক জানান, বিয়ের সময় তার বয়স ২৩ ও শামীমার ১৫ থাকলেও তাতে অন্যায় দেখছেন না তিনি। শামীমার পছন্দেই বিয়েটি হয়েছে বলেও ভাষ্য তার। পূর্ব লন্ডনের স্কুল শিক্ষার্থী শামীমার সঙ্গে রাকার একটি নারীশিবিরে দেখা হওয়ার বিষয়েও রিদাইক বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বিস্তারিত বলেন। জানান, প্রথম দিকে ১৫ বছর বয়সী কিশোরীকে বিয়ে করায় তার আপত্তির কথাও।

x