শরণার্থী থেকে ব্রিটিশ দূত

মঙ্গলবার , ৩০ জানুয়ারি, ২০১৮ at ৫:৫৩ পূর্বাহ্ণ
117

নিপীড়নের মুখে নিজের দেশ ইরান থেকে সাত বছর বয়সে যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমিয়েছিলেন ক্যানবার হুসেইন বোর। সেই শরণার্থী শিশুটিই আজ যুক্তরাজ্যের প্রতিনিধিত্ব করছেন একজন কূটনীতিক হিসেবে। সাঁইত্রিশ বছর বয়সী হুসেইন বোর বাংলাদেশে ব্রিটিশ হাই কমিশনের ডেপুটি হাই কমিশনার হিসেবে ডেভিড অ্যাশলের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন। মঙ্গলবার অ্যাশলেকে বিদায় জানানোর পাশাপাশি ক্যানবারকে বরণ করে নেবে হাই কমিশন। হুসেইন বোরের পরিবার যখন শরণার্থী হিসেবে যুক্তরাজ্যে আশ্রয় নিয়ে সাউথ্যাম্পটনে বসবাস করতে শুরু করে, সে সময় তিনি বা তার মা কেউই ইংরেজিতে কথা বলতে পারতেন না। লন্ডনের পিয়ারসন কলেজে এক সাক্ষাৎকারে হুসেইন বোর বলেছিলেন, যুক্তরাজ্যে তাকে এবং তার পরিবারকে যেভাবে গ্রহণ করা হয়েছিল, সেটাই তার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। খবর বিডিনিউজের। হুসেইন বোর রেকটরি কমপ্রিহেনসিভ স্কুল ও হ্যাম্পটন গ্রামার স্কুলের পর আইন পড়েছেন ওয়ারউইক বিশ্ববিদ্যালয় ও কেমব্রিজে।

যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চাকরিতে যোগ দেওয়ার আগে ব্যারিস্টার হিসেবে আইন পেশাতেও তিনি যুক্ত ছিলেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্লগে হুসেইন বোর লিখেছেন, তিনি কূটনীতিকের পেশায় চাকরির জন্য আবেদন করেছেন শুনে প্রথমে বিস্মিত হয়েছিলেন পরিবারের সদস্যরা। শরণার্থী হিসেবে আসা কোনো পরিবারের কেউ কোনোদিন যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চাকরি পেতে পারেতা ছিল তাদের ধারণার বাইরে। তবে শেষ পর্যন্ত তাদের সেই ধারণা দূর হয়েছে। এখন যুক্তরাজ্যই হুসেইন বোরের দেশ; ব্রিটিশ মূল্যবোধই তার মূল্যবোধ।

আমাকে এবং আমার পরিবারকে আপন করে নেওয়ার মধ্যে দিয়ে আমার দেশ শুধু কাউকে মেনে নেওয়ার দৃঢ় সংকল্পই দেখায়নি, এর মধ্যে একটি শক্তিশালী বার্তা রয়েছেতা হল নিরপেক্ষতা, সহনশীলতা এবং বাক স্বাধীনতার মত ব্রিটিশ মূল্যবোধগুলো শুধু মুখের কথা না, এগুলোই সম্ভবত সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সঙ্কট কিংবা অনিশ্চয়তার সময়ে শুধু গালভরা কথা নয় এসব।’

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর হুসেইন বোর মিশরে ব্রিটিশ মিশন ছাড়াও লাইবেরিয়ায় ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করেছেন।

x