শঙ্খে ১১ বসতঘর বিলীন

সাতকানিয়া প্রতিনিধি

বৃহস্পতিবার , ১১ জুলাই, ২০১৯ at ১১:১০ পূর্বাহ্ণ
19

সাতকানিয়ায় বন্যা পরিস্থিতি এখনো অপরিবর্তিত রয়েছে। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর উঁচু এলাকা থেকে পানি কিছুটা কমতে শুরু করলেও রাতে এবং গতকাল বুধবার সারাদিন বৃষ্টিতে পানি আবার বেড়েছে। ফলে সাতকানিয়া পৌরসভাসহ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের অর্ধ লক্ষাধিক মানুষ এখনো পানিবন্দী রয়েছে। এছাড়া কেরানীহাট-বান্দরবান সড়কের সাতকানিয়া অংশের বাজালিয়া বড়দুয়ারা এলাকায় সড়কের উপর দিয়ে গতকালও বন্যার পানি প্রবাহিত হওয়ায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে বান্দরবানের সাথে সারাদেশের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। অন্যদিকে পানি বাড়ার সাথে সাথে ভয়ংকর রূপ নিয়েছে শঙ্খনদের ভাঙন। গত দুইদিনে উপজেলার চরতি ইউনিয়নের দ্বীপচরতি ও আমিলাইষে ১১টি বসতঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ঘরবাড়ি হারিয়ে হারিয়ে ক্ষতিগ্রস্তরা এখন মানবেতর জীবন যাপন করছেন।
উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছেন, বন্যা কবলিত মানুষের জন্য জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে চাল ও শুকনো খাবার বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
সরেজমিন পরিদর্শন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সাথে কথা বলে জানা যায়, গত পাঁচদিনের অবিরাম বর্ষণ, শঙ্খ নদ, ডলুনদী ও হাঙর খাল দিয়ে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সাতকানিয়ায় সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতির এখনো কোনো উন্নতি হয়নি। বিশেষ করে সাতকানিয়া পৌরসভার চরপাড়া, গোয়াজার পাড়া, আশেকর পাড়া, ইছামতির কূল, বাজালিয়া ইউনিয়নের মাহালিয়া, বড়দুয়ারা, কাটাখালীর কূল, কেঁওচিয়া, উত্তর ছদাহা, ধর্মপুর, কালিয়াইশ, নলুয়া, আমিলাইষ, চরতি, এওচিয়া, মাদার্শা ও খাগরিয়ার বিভিন্ন এলাকায় এখনো অর্ধ লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী রয়েছেন। সাতকানিয়া সরকারি কলেজসহ উপজেলার বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় বন্যার পানি প্রবেশ করায় পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। বাজালিয়া ইউপি চেয়ারম্যান তাপস কান্তি দত্ত জানান, কেরানীহাট-বান্দরবান সড়কের বাজালিয়ার কাটাখালী ব্রিজ থেকে বড়দুয়ারা মসজিদ পর্র্যন্ত এখনো পানির নিচে। এখানে সড়কের কয়েক ফুট উপর দিয়ে বন্যার পানি প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে বান্দরবানের সাথে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। এছাড়া মাহালিয়া, বড়দুয়ারা ও কাটাখালীর কূল এলাকার মানুষ পানিবন্দী রয়েছে। চরতি ইউপি চেয়ারম্যান মাওলানা মুহাম্মদ রেজাউল করিম জানান, গত মঙ্গলবার বিকালে শঙ্খনদের পানি কিছুটা কমলেও গতকাল সকাল থেকে আবার বেড়েছে। এতে দ্বীপচরতি এলাকায় শঙ্খনদে ব্যাপক ভাঙন শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি বসতঘর নদীতে হারিয়ে গেছে। আমিলাইষ ইউপি চেয়ারম্যান এইচ এম হানিফ জানান, বন্যা পরিস্থিত অনেকটা অপরিবর্তিত অবস্থায় রয়েছে। শঙ্খনদের ভাঙনে গত দুইদিনে আমিলাইষ ৩নং ওয়ার্ডের ৬টি বসতঘর বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙনের মুখে রয়েছে অনেক বসতবাড়ি। কেঁওচিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মনির আহমদ জানান, কেঁওচিয়া ও তেমুহনি এলাকার অভ্যন্তরীণ সড়কগুলো এখনো পানির নিচে। এখানকার অধিকাংশ মানুষ গত দুদিন ধরে পানিবন্দী। সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোবারক হোসেন জানান, সাতকানিয়ার বন্যা পরিস্থিতি অনেকটা অপরিবর্তিত অবস্থায় রয়েছে। বন্যা কবলিত মানুষের জন্য জেলা প্রশাসক ১০ টন চাল ও ২শ’ বস্তা শুকনো খাবার বরাদ্দ দিয়েছেন। এসব ত্রাণ বৃহস্পতিবার (আজ) থেকে বিতরণ করা হবে। এছাড়া বন্যা পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছি এবং সর্বশেষ তথ্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদেরকে অবগত করছি।

x