লেনদেন ভারসাম্যে ফের ঘাটতি

শনিবার , ৯ নভেম্বর, ২০১৯ at ৫:১৩ পূর্বাহ্ণ
47

ফের ঘাটতির মুখে পড়েছে বাংলাদেশের বৈদেশিক লেনদেনের চলতি হিসাবের ভারসাম্য-ব্যালান্স অফ পেমেন্ট। ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) এই ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬৭ কোটি ৮০ লাখ ডলার। অথচ অগাস্ট মাস শেষেও অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ এই সূচক ২৬ কোটি ৮০ লাখ ডলার উদ্বৃত্ত ছিল। রপ্তানি আয়ে বড় ধাক্কার কারণে চলতি হিসাবের ভারসাম্যে ঘাটতি দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থনীতির গবেষক আহসান এইচ মনসুর।
বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, গত দুই অর্থবছরে চলতি হিসাবের ভারসাম্যে বড় ঘাটতি নিয়ে বছর শেষ হয়েছিল। কিন্তু এবার অর্থবছর শুরু হয়েছিল স্বস্তির মধ্য দিয়ে ২৪ কোটি ডলারের উদ্বৃত্ত নিয়ে। অগাস্ট পর্যন্ত সেই উদ্বৃত্ত ধরে রাখা গিয়েছিল। কিন্তু রপ্তানিতে বড় ধাক্কার কারণে সেটা আর ধরে রাখা যায়নি। গত দুই বারের মতো এবারও মনে হচ্ছে বড় ঘাটতিতে পড়তে যাচ্ছে বাংলাদেশ। কেননা, সহসা রপ্তানি আয় ভালো হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। খবর বিডিনিউজের।
বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর বলেন, উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে, গত অর্থবছরে কারেন্ট অ্যাকাউন্ট ব্যালান্সে ৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি ঘাটতি থাকলেও সামগ্রিক লেনদেনের ভারসাম্যে (ওভারওল ব্যালান্স) উদ্বৃত্ত ছিল। এবার তিন মাসে সেটাতেও বড় ঘাটতি দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক বৃহস্পতিবার যে তথ্য প্রকাশ করেছে তাতে দেখা যাচ্ছে, ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) লেনদেন ভারসাম্যে চলতি হিসারের ভারসাম্যে ৬৭ কোটি ৮০ লাখ ডলারের ঘাটতি (ঋণাত্মক) দেখা দিয়েছে। গত বছরের একই সময়ে এই ঘাটতির পরিমাণ ছিল আরও বেশি ১৩১ কোটি ৬০ লাখ ডলার। এই তিন মাসে সামগ্রিক লেনদেন ভারসাম্যে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২০ কোটি ৪০ লাখ ডলার। জুলাই-অগাস্ট সময়ে উদ্বৃত্ত ছিল ১৩ কোটি ৯০ লাখ ডলার। গত বছরের জুলাই-সেপ্টেম্বরে ঘাটতি ছিল ১৫ কোটি ৮০ লাখ ডলার। তবে আর্থিক হিসাবে (ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাকাউন্ট) উদ্বৃত্ত ধরে রেখেছে বাংলাদেশ। জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে এই উদ্বৃত্ত দাঁড়িয়েছে ৩৮ কোটি ডলার। গত বছরের একই সময়ে ছিল ১৩০ কোটি ৯০ লাখ ডলার। চলতি হিসাবের ভারসাম্যে উদ্বৃত্ত নিয়ে ২০১৯-২০ অর্থবছর শুরু করেছিল বাংলাদেশ। প্রথম মাস জুলাইয়ে ২৪ কোটি ডলার উদ্বৃত্ত ছিল। অগাস্ট শেষে উদ্বৃত্ত দাঁড়ায় ২৬ কোটি ৮০ লাখ ডলার। চলতি হিসাবের ভারসাম্য ৫২৫ কোটি ৪০ লাখ ডলারের বড় ঘাটতি (ঋণাত্মক) নিয়ে শেষ হয়েছিল গত ২০১৮-১৯ অর্থবছর। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে এই ঘাটতি ছিল আরও বেশি ৯৫৬ কোটি ৭০ লাখ ডলার। নিয়মিত আমদানি-রপ্তানিসহ অন্যান্য আয়-ব্যয় চলতি হিসাবের অন্তর্ভুক্ত।

x