লালদীঘির গণহত্যা সাক্ষী দিলেন সাংবাদিক কামরুল ইসলাম ও এড. শৈবাল দাশ

আজাদী প্রতিবেদন

বৃহস্পতিবার , ২১ নভেম্বর, ২০১৯ at ৪:১২ পূর্বাহ্ণ
3

৮৮ সালে লালদীঘি মাঠে প্রধানমন্ত্রী (তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী) শেখ হাসিনার সমাবেশ ঘিরে পুলিশের নির্বিচারে গুলিতে ২৪ নেতাকর্মী খুনের মামলায় ৫১ তম সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দিয়েছেন সিনিয়র সাংবাদিক কামরুল ইসলাম ও ৫২ তম সাক্ষী অ্যাডভোকেট শৈবাল দাশ। গতকাল বুধবার চট্টগ্রাম ভারপ্রাপ্ত বিভাগীয় স্পেশাল জজ মুন্সি আবদুল মজিদের আদালতে এ সাক্ষ্য দেন তারা। এর আগে সাবেক মন্ত্রী, সাংবাদিক, শিক্ষকসহ ৫০ জন সাক্ষী এ মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন। ২০২০ সালের ১৩ জানুয়ারি মামলার পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য্য করা হয়েছে।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্পেশাল পিপি অ্যাডভোকেট মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী জানান, সাক্ষী হিসেবে সিনিয়র সাংবাদিক কামরুল ইসলাম আদালতে দেয়া সাক্ষ্যদানকালে বলেছেন, হত্যাকাণ্ডের দিন তিনি দৈনিক পূর্বকোণের সাংবাদিক হিসেবে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে যান লালদীঘির মাঠে। যেখানে জনসভার আয়োজন করা হয়েছিল। এ জনসভা কাভার করার জন্য অফিসিয়াল অ্যাসাইনমেন্ট ছিল তার। কিন্তু পুলিশ বিনা উস্কানিতে মিছিল ও শেখ হাসিনার গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি করতে থাকেন। তিনি প্রাণভয়ে ফিরিঙ্গিবাজারের দিকে চলে যান। ওই সময় সড়কে উভয় পাশে পুলিশের নির্বিচারে গুলিতে অনেককে কাতরাতে দেখেছেন বলেও জানান সাংবাদিক কামরুল। পরে তিনি ২৪ জনকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানতে পারেন। পরদিন পূর্বকোণে তার এ সংক্রান্ত একটি রিপোর্টও প্রকাশিত হয়। এদিকে অপর সাক্ষী অ্যাডভোকেট শৈবাল দাশও কোন কারণ ছাড়া পুলিশকে গুলি করতে দেখেন বলে জানান। আসামিকে জেরা করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী এডভোকেট আহসানুল হক হেনা।
প্রসঙ্গত: ১৯৮৮ সালের ২৪ জানুয়ারি চট্টগ্রাম দীঘি এলাকায় শেখ হাসিনার সমাবেশে গুলি করে ২৪ নেতাকর্মীকে হত্যা করে পুলিশ। লালদীঘি ময়দানে ২৪ জানুয়ারি চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগ জনসভার আয়োজন করেন। পুলিশ নির্বিচারে গুলিবর্ষণ শুরু করলে ওইদিন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ও আইনজীবীরা মানবঢাল তৈরি করেন তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতি ভবনে নিয়ে যান। এ ঘটনায় মামলা দায়ের হওয়ার পর তৎকালীন চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ কমিশনার মির্জা রকিবুল হুদা, এসআই গোবিন্দ চন্দ্র মন্ডল, কনস্টেবল প্রদীপ বড়ুয়া, কনস্টেবল মমতাজ উদ্দিন, কনস্টেবল মোস্তাফিজুর রহমান ও কনস্টেবল শাহ আবদুল্লাহকে আসামি করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে পুলিশ। ২০০০ সালের ৯ মে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করেন আদালত। সেই থেকে আলোচিত এ মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে বলে জানান বিশেষ পিপি এডভোকেট মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী।

x