লামা ও আলীকদমে বাড়ছে মারফা চাষ

তানফিজুর রহমান লামা

বৃহস্পতিবার , ১৪ নভেম্বর, ২০১৯ at ৪:১০ পূর্বাহ্ণ
11

লামা ও আলীকদমে মজাদার সবজি হিসেবে জুম চাষীদের উৎপাদিত মারফার কদর দিন দিন বেড়ে চলেছে। চলতি মৌসুমে পাহাড়ি ও বাঙালি পরিবারে তরকারি হিসেবে মারফার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। সে কারণেই এখন স্থানীয় হাট-বাজারে জুমে উৎপাদিত মারফার চলছে বিকিকিনি। এক সময় জুম চাষীরা পাহাড় চূড়ায় জুম ক্ষেতে কাজ করার সময় ক্ষুধা ও তৃষ্ণা মিটানোর জন্য মারফা খাওয়ার জন্য অল্প পরিমাণে চাষ করলেও সমপ্রতি বছরগুলোতে এর চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় বাণিজ্যিক ভিত্তিতে মারফা চাষের উজ্জ্বল সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। শসার মত মারফাও কাঁচা এবং তরকারিতে খাওয়া যায়।
কচি মারফা দিয়ে শসার বিকল্প হিসেবে সালাদও তৈরি করা হয়। শসা অনেকখানি লম্বা হলেও মারফা সর্বোচ্চ ৮ থেকে ১০ ইঞ্চি লম্বা হয়ে থাকে। এর ওজনও সাইজ অনুযায়ী সর্বোচ্চ ২ কেজি পর্যন্ত হয়। শসার তুলনায় মারফার খোসা তুলনামূলক শক্ত।
এটি কচি অবস্থায় সবুজ এবং পাকলে হলুদ ও লাল রং ধারণ করে। কিছু জাত রয়েছে যা পাকলে সাদা রংয়ের হয়। চলতি মৌসুম এলেই স্থানীয় হাট-বাজারগুলোতে জুমে উৎপাদিত বেগুন, কুমড়া, কাঁচামরিচ ও মারফাসহ বিভিন্ন শাক সবজি উঠতে শুরু করে। জুমে উৎপাদিত ফসল রাসায়নিক সার ও কীটনাশক বিহীন হওয়ায় রয়েছে আলাদা কদর। লামা ও আলীকদমের বিভিন্ন হাট-বাজার সরেজমিন পরিদর্শনকালে প্রতিটি বাজারে জুমে উৎপাদিত অন্যান্য ফসলের সাথে বিপুল পরিমাণে মারফার মজুদ লক্ষ করা গেছে। বিশেষ করে সাপ্তাহিক হাটের দিন এ সবজি পাওয়া যায়। বাজারের ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, সবজি হিসেবে মারফার এখন প্রচুর চাহিদা রয়েছে। শুধু স্থানীয়ভাবে নয় চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানেও এর চাহিদা সৃষ্টি হয়েছে। তার কারণে বিভিন্ন স্থান থেকে বেপারীরা এসে মারফা ক্রয় করে নিয়ে যাচ্ছে। এতে করে স্থানীয় বাজারে এর মূল্যও বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রতি কেজি মারফা বর্তমানে লামা ও আলীকদমের বিভিন্ন বাজারে ৩০/ ৩৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। লামা ছাগলখাইয়া এলাকার বাসিন্দা মোঃ সমির উদ্দিন জানান, এক সময় কচি মারফা খিরা ও শসার ন্যায় কাঁচা খেতাম। এখন পাকা মারফা রান্না করেও খাওয়া হচ্ছে। তিনি জানান, মারফা শসার বিকল্প হিসেবে চিংড়ি মাছ দিয়ে রান্না করলে বেশ মজাদার হয়। মাংস দিয়েও মারফা ভালো রান্না হয়।লামা রুপসীপাড়া এলাকার জুমচাষী অংবাই মারমা জানান, জুম খেতে ধানের বীজ রোপার সময় মারফার বীজ বুনতে হয়। তার পর ধানের ফাঁকে ফাঁকে মারফা গাছ হয়।
দু’মাস পর ফলন আসা শুরু করে। প্রতিটি গাছে ১৫ থেকে ২০ টি মারফা ধরে। তিনি আরো জানান, উৎপাদিত ফলনের কিছু অংশ নিজেরা খান। অবশিষ্ট অংশ বাজারে বিক্রি করেন। আলীকদম কৃষি বিভাগের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ মোস্তফা জানান, মারফা পাহাড়ের ঢালুতে চাষ উপযোগী একটি সবজি। এ অঞ্চলের জুমে ব্যপক হারে এর চাষ হচ্ছে। উপজাতি জুমিয়ারা নিজস্ব পদ্ধতিতে এর চাষ করে থাকেন এবং নিজেরাই এর রোগ বালাই মোকাবেলা করে থাকেন বলে তিনি জানান।স্থানীয় কৃষি সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পাহাড়ে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বাণিজ্যিক ভাবে মারফা চাষ করা গেলে এর ফলন আরো বৃদ্ধি পেত। যা স্থানীয় সবজির চাহিদা মিটিয়ে দেশের অন্যান্য স্থানে ব্যপক হারে বিক্রি করা যেত এবং এ মারফা চাষের মাধ্যমে উপজাতি জুমিয়ারা স্বাবলম্বী হতে পারত। এর জন্য সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় আর্থিক সুবিধা প্রদান এবং কৃষি বিভাগের মাধ্যমে আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতির বিষয়ে জুমিয়া কৃষকদের প্রশিক্ষণ প্রদান দরকার বলেও তার মনে করছেন।

x