লাগাম ছাড়া দ্রব্যমূল্যে সাধারণ মানুষ হতাশ

শনিবার , ১৪ ডিসেম্বর, ২০১৯ at ৪:০৮ পূর্বাহ্ণ

জন্মগতভাবে কোটিপতি এবং যে জন্মের পর যেভাবেই হোক কোটিপতি হন। তার আর্থিক অবস্থা সব সময়ই ভাল থাকে। খারাপ হলে খুব একটা হয় না। কোটিপতির ভিত ঠিকই থেকে যায়। সাগর থেকে দুয়েক ঘটি পানি তুলে নিলে যেমন সাগরের ক্ষতি হয় না। তেমন জিনিসপত্রের দাম যদি আকাশচুম্বী হয়ে যায় তাতেও কোটিপতির কিছু যায় আসে না। তার সামর্থ্য অটুট থাকে। আর যে মানুষটি দিন আনে দিন খায় বা সীমিত আয়ের তার সংকট প্রকট হয়ে ওঠে। সীমিত সামর্থ্যের মধ্যে থেকে তিনি যেভাবে জীবনযাপন করেন। হঠাৎ করে যদি তাতে টান ধরে, তবে তার দিশেহারা হওয়া ছাড়া গতি থাকে না। পাঁচ টাকার জিনিস এক লাফে দশ টাকা হয়ে গেলে সীমিত আয়ের মানুষের বেহুশ ও বেদিশা হওয়ার কথা। এখন বছরের পর বছর ধরে সাধারণ মানুষকে হরহামেশা বেদিশা হতে হচ্ছে। চাপের মধ্যে পড়তে হয়েছে এবং এই চাপ নিয়েই বসবাস করতে হচ্ছে। সরকার গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানির দাম যেভাবে দফায় দফায় বৃদ্ধি করে এবং এর প্রতিক্রিয়ায় জিনিসপত্রের দাম যেভাবে বাড়ে তাতে তাদের টু শব্দ করার কোন উপায় থাকে না। নীরবে মেনে নিতে হয়। তাদের পক্ষ হয়ে যে কেউ কথা বলবে তেমন উপযুক্ত কাউকেই তারা পায় না। ফলে সরকার তার খেয়াল খুশি মতো যেভাবে তাদের রাখতে চায় সেভাবেই তাদের থাকতে হয়। দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে হতাশায় নিমজ্জিত হতে হয়। সরকারের প্রতি জনগণের চাওয়া সীমিত। তারা চায় নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম হাতের নাগালের কাছে থাকুক, স্বাচ্ছন্দ্যে মৌলিক চাহিদাটুকু মিঠুক। চাপমুক্ত হয়ে জীবনযাপন করুক। দুঃখের বিষয় সাধারণ মানুষকে চাপতে চাপতে এমন পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে যে, তাদের দম নিতেও কষ্ট হচ্ছে। সরকার কথায় কথায় বলে মানুষের ক্রয় ক্ষমতা বেড়েছে। ক্রয় ক্ষমতা বৃদ্ধি ও জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধির কথা যদি তুলনা করা হয়, তবে দেখা যাবে অর্থের পরিমাণ বড় হয়ে দেখা দিলেও তা দিয়ে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনা যাচ্ছে না। যদি এমন হতো মানুষের ইনকাম বেড়েছে এবং জিনিসপত্রের দাম বাড়েনি। তাহলে বলা যেত মানুষের ক্রয় ক্ষমতা বেড়েছে। বিষয়টি অনেকটা এমন হয়ে দাঁড়িয়েছে এক বস্তা টাকা নিয়ে গেলেও এক বস্তা জিনিসপত্র কেনা যাচ্ছে না। মানুষ যে বলে ‘আগের আমল’ ভাল ছিল। তা বলে এ কারণে আগে যে টাকায় প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র তারা কিনতে পারত, এখন তা কিনতে পারছে না। অর্থাৎ তাদের আয় আগের জায়গায় রয়ে গেছে। তাদের আগের এক টাকা এ সময়ের পাঁচ টাকা হলেও এ পাঁচ টাকা দিয়ে আর আগের মতো জিনিসপত্র কিনতে পারছে না। কাজেই মানুষের আয় ও ক্রয় ক্ষমতা বাড়ল কী ভাবে?
– এম. এ. গফুর, বলুয়ার দীঘির দক্ষিণ-পশ্চিম
পাড়, কোরবাণীগঞ্জ, চট্টগ্রাম।

x