রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জন্য মিয়ানমারে নিরাপদ পরিবেশ দরকার

রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী

কক্সবাজার প্রতিনিধি

শুক্রবার , ৮ নভেম্বর, ২০১৯ at ৪:১২ পূর্বাহ্ণ
9

রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের জন্য মিয়ানমারে নিরাপদ পরিবেশ দরকার বলে মনে করছেন মার্কিন সরকারের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী এলিচ ওয়েলস। তিনি কক্সবাজারের টেকনাফের রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন শেষে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে কক্সবাজার শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, প্রত্যাবাসন অবশ্যই স্বেচ্ছায়, নিরাপদে এবং মর্যাদাপূর্ণ হতে হবে। থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ইন্দো-প্যাসিফিক সম্মেলনে এই বিষয়টির উপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। তিনি বলেন, কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের অবস্থানের কারণে এখানকার স্থানীয় বাসিন্দাদের নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র সরকার রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন ত্বরান্বিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি প্রত্যাবাসনের পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের উপর যে জাতিগত নিধনসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধ সংগঠিত হয়েছে, সেসব বিষয় নিয়েও চিন্তা করা দরকার বলে মত প্রকাশ করেন। কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য পরিচালিত যুক্তরাষ্ট্র সরকারের বেশ
কয়েকটি প্রকল্প পরিদর্শন করতে আসেন মার্কিন সরকারের দুই শীর্ষ কর্মকর্তা। বৃহস্পতিবার সকালে মার্কিন সরকারের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী এলিচ ওয়েলস টেকনাফের শামলাপুর শরণার্থী শিবির পরিদর্শন শেষে দুপুরে কক্সবাজার শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের সঙ্গে এক বৈঠকে মিলিত হন। অন্যদিকে ইউএসএআইডির উপ-প্রশাসক বনি গ্লিক কক্সবাজার সদর ও রামুর বিভিন্ন প্রকল্প পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শন শেষে বনি গ্লিক সাংবাদিকদের বলেন, রোহিঙ্গা সংকট বর্তমানে একটি আন্তর্জাতিক সমস্যা। সারাবিশ্ব এই সমস্যা নিয়ে উদ্বিগ্ন। এটি মূলত মিয়ানমারের কারণেই হয়েছে। বাংলাদেশ ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে সারাবিশ্বে প্রশংসা কুড়িয়েছে। রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের জন্য মার্কিন সরকার মিয়ানমারের উপর চাপ সৃষ্টি করে আসছে জানিয়ে তিনি বলেন, ইতোমধ্যে ট্রাম্প সরকার মিয়ানমার সরকারের উপর অর্থনৈতিক নানা বিধি-নিষেধ আরোপ করেছে এবং চার সামরিক কর্মকর্তার উপর নিষেধাজ্ঞাও জারি করেছে।
তিনি আরও বলেন, মানব পাচার বাংলাদেশের অন্যতম বড় সমস্যা। এটি ক্রমান্বয়ে ঝুঁকির দিকে যাচ্ছে। বিশেষ করে মিয়ানমারের রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের ক্যাম্পে রয়েছে। তারাও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। বাংলাদেশকে মানবপাচার রোধে কাজ করতে হবে।

x