রোহিঙ্গা ক্যাম্পসহ পাহাড়ি এলাকায় বিপর্যয়ের শংকা

প্লাবিত হতে পারে নিম্নাঞ্চল ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় কক্সবাজারে ব্যাপক প্রস্তুতি

কক্সবাজার প্রতিনিধি

শনিবার , ৯ নভেম্বর, ২০১৯ at ৪:২১ পূর্বাহ্ণ
23

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’এর প্রভাবে উখিয়া-টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পসহ পাহাড়ি এলাকায় বিপর্যয় ও নিম্নাঞ্চল জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হওয়ার আশংকা করা হচ্ছে। এছাড়া ঝড়ের প্রভাবে উপকূলের কাঁচা ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এর প্রভাবে শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে কক্সবাজারে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি শুরু হলেও বাতাস এখনও গুমোট। উপকূলবর্তী সাগরে জোয়ারের তীব্রতা সামান্য বৃদ্ধি পাওয়া ছাড়া গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত অন্য কোন প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যায়নি। তবে, বুলবুলের সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি রোধে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসন সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে বলে জানিয়েছে। খোলা হয়েছে কন্ট্রোল রুম। বিকালে জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন জানান, ঘুর্ণিঝড় বুলবুলের তীব্রতা শুরু হলে আশ্রিত ১১ লক্ষাধিক রোহিঙ্গার আবাসস্থলে বিপর্যয় ঘটতে পারে। উপড়ে যেতে পারে ঝুপড়িগুলো। সেসব মোকাবেলায় ক্যাম্পে কাজ করা আইএনজি, এনজিও এবং জিওগুলোর কর্মকর্তা-কর্মচারি ও ভলান্টিয়ারগণ নিজ নিজ প্রস্তুতি নিয়েছেন। তাদের সবার মাঝে সমন্বয় এর দায়িত্ব পালনে প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে সেনাবাহিনীর বিশেষ টিমও। এ বিষয়ে দুপুরে ক্যাম্প এলাকায় বৈঠকও করেছে সংশ্লিষ্টরা।
জেলা প্রশাসক আরো জানান, সামগ্রিকভাবে জেলার উপকূল এবং আশপাশ এলাকার ক্ষয়ক্ষতি মোকাবেলা এবং ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী সহযোগিতার জন্য প্রস্তুতি নেয়া রয়েছে। জেলা দূর্যোগ ফান্ডে ২ লাখ ৬৩ হাজার নগদ টাকা, ২০৬ মেট্রিকটন চাউল, ৩৪৬ বান ঢেউটিন, ২৫০০ পিস কম্বল এবং ৩৭৬ প্যাকেট শুকনো খাবার মজুদ রয়েছে। কক্সবাজারের ৮ উপজেলার মাঝে সিংহভাগই উপকূলীয় হওয়ায় এসব মজুদ অপ্রতুল। তাই জরুরি ভিত্তিতে ১০ লাখ নগদ টাকা, ২শ’ মেট্রিকটন চাউল বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি বলেন, জেলার ৮ উপজেলায়
৫৩৮টি সাইক্লোন শেল্টার প্রস্তুত রাখা হয়েছে। খোলা রাখার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে বহুতল ভবনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোও। উপকূল হিসেবে মহেশখালী, কুতুবদিয়া, সদরের পোকখালী, চৌফলদন্ডী, খুরুশকুল, টেকনাফের সাবরাং, শাহপরীরদ্বীপ ও সেন্টমার্টিনে বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে।
ডিসি আরো জানান, সিপিসির ৬৪০০ স্বেচ্ছাসেবক ৪৩০টি ইউনিটের মাধ্যমে প্রস্তুত রয়েছে। প্রতিটি ইউনিটে থাকা মেগাফোন দিয়ে সংকেত বাড়ার সাথে সাথে দুর্যোগপূর্ণ এলাকায় তা প্রচার করে জানিয়ে দেয়া হচ্ছে। প্রস্তুত রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির ৮০০ ভলান্টিয়ারও। প্রস্তুত রাখা হয়েছে দমকল বাহিনী, পর্যাপ্ত যানবাহন, আনসার ভিডিপি ও স্থানীয় প্রশাসন। উপজেলায় ইউএনওদের সতর্ক নজর রাখার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। ০১৭১৫-৫৬০৬৮৮ নম্বর সচল রেখে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে একটি কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছে। দুর্যোগ সংক্রান্ত সকল তথ্য এখানে সরবরাহ ও পাওয়া যাবে।
কক্সবাজারের সহকারী আবহাওয়াবিদ আবদুর রহমান জানিয়েছেন, শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ১৭ নম্বর বুলেটিন বলা হয়েছে ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের কারণে সমুদ্র বন্দরগুলোতে ৪ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। এর প্রভাবে সাগর উত্তাল থাকায় কক্সবাজারের নিচু এলাকা প্লাবিত হতে পারে। সংকেত ক্রমে বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ভারী বৃষ্টিপাত হলে ভুমিধ্বসেরও আশংকা রয়েছে।

x