রোহিঙ্গা ক্যাম্পসহ পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধস ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশংকা 

ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ মোকাবিলায় কক্সবাজারে প্রস্তুতি

কক্সবাজার প্রতিনিধি

শুক্রবার , ৮ নভেম্বর, ২০১৯ at ৭:৪৯ অপরাহ্ণ
32

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’-এর প্রভাবে উখিয়া-টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পসহ পাহাড়ি এলাকায় অতিবর্ষণ জনিত ভূমিধস ও নিম্নাঞ্চল জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হওয়ার আশংকা করা হচ্ছে।

এছাড়া ঝড়ের প্রভাবে উপকূলের কাঁচা ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

এর প্রভাবে আজ শুক্রবার (৮ নভেম্বর) সন্ধ্যা থেকে কক্সবাজারে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি শুরু হলেও বাতাস এখনও গুমোট। উপকূলবর্তী সাগরেও জোয়ারের তীব্রতা সামান্য বৃদ্ধি পাওয়া ছাড়া শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত অন্য কোনো প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যায়নি।

তবে, বুলবুলের সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি রোধে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসন প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে বলে জানিয়েছে।

শুক্রবার খোলা হয়েছে কন্ট্রোল রুম। বিকালে জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির জরুরি সভা সম্পন্ন হয়েছে।

জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন জানান, ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের তীব্রতা শুরু হলে আশ্রিত ১১ লক্ষাধিক রোহিঙ্গার আবাসস্থলে পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটতে পারে। উপড়ে যেতে পারে ঝুপড়িগুলো। সেসব মোকাবেলায় ক্যাম্পে কাজ করা আইএনজি, এনজিও এবং জিওগুলোর কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্বেচ্ছাসেবকরা নিজ নিজ প্রস্তুতি নিয়েছেন। তাদের সবার মাঝে সমন্বয়ের দায়িত্ব পালনে প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে সেনাবাহিনীর বিশেষ টীমও। এ বিষয়ে দুপুরে ক্যাম্প এলাকায় বৈঠকও করেছে সংশ্লিষ্টরা।

জেলা প্রশাসক আরো জানান, সামগ্রিকভাবে জেলার উপকূল এবং আশপাশ এলাকার ক্ষয়ক্ষতি মোকাবেলা এবং ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী সহযোগিতার জন্য প্রস্তুতি নেয়া রয়েছে। জেলা দুর্যোগ ফান্ডে ২ লাখ ৬৩ হাজার নগদ টাকা, ২০৬ মেট্রিক টন চাউল, ৩৪৬ বান ঢেউটিন, ২৫০০ পিস কম্বল এবং ৩৭৬ প্যাকেট শুকনো খাবার মজুদ রয়েছে।

কক্সবাজারের ৮ উপজেলার মাঝে সিংহভাগই উপকূলীয় হওয়ায় এসব মজুদ অপ্রতুল। তাই জরুরি ভিত্তিতে ১০ লাখ নগদ টাকা, ২শ’ মেট্রিক টন চাউল বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।

জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি বলেন, ‘জেলার ৮ উপজেলায় ৫৩৮টি সাইক্লোন শেল্টার প্রস্তুত রাখা হয়েছে। খোলা রাখার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে বহুতল ভবনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোও। উপকূল হিসেবে মহেশখালী, কুতুবদিয়া, সদরের পোকখালী, চৌফলদন্ডী, খুরুশকুল, টেকনাফের সাবরাং, শাহপরীর দ্বীপ ও সেন্টমার্টিনে বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে।‘

ডিসি আরো জানান, সিপিসি’র ৬৪০০ স্বেচ্ছাসেবক ৪৩০টি ইউনিটের মাধ্যমে প্রস্তুত রয়েছে। প্রতিটি ইউনিটে থাকা মেগাফোন দিয়ে সংকেত বাড়ার সাথে সাথে দুর্যোগপূর্ণ এলাকায় তা প্রচার করে জানিয়ে দেয়া হচ্ছে। প্রস্তুত রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির ৮০০ স্বেচ্ছাসেবকও। প্রস্তুত রাখা হয়েছে দমকল বাহিনী, পর্যাপ্ত যানবাহন, আনসার ভিডিপি ও স্থানীয় প্রশাসন। উপজেলায় ইউএনওদের সতর্ক নজর রাখার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

০১৭১৫-৫৬০৬৮৮ নম্বর সচল রেখে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে একটি কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছে। দুর্যোগ সংক্রান্ত সকল তথ্য এখানে সরবরাহ ও পাওয়া যাবে।

এদিকে, সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান নুর আহমদ জানিয়েছেন, বৈরি আবহাওয়ার কারণে শুক্রবার থেকে টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌ-পথে জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকায় সেন্টমার্টিনে প্রায় ১২শ’ পর্যটক আটকা পড়েছেন।

বৃহস্পতিবার বেড়াতে আসা পর্যটকদের অনেকে রাত্রিযাপনের জন্য সেখানে থেকে যান।

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের কারণে হঠাৎ সংকেত বেড়ে যাওয়ায় জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে প্রশাসন। তবে সংকেত বাড়লেও আতংকিত হওয়ার কিছু নেই জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা তাদের উঁচু ভবনে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করব। সেন্টমার্টিন দ্বীপে ৫টি সাইক্লোন শেল্টার ও বহুতল কয়েকটি হোটেল রয়েছে।’

কক্সবাজারের সহকারী আবহাওয়াবিদ আবদুর রহমান জানিয়েছেন, শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ১৭ নম্বর বুলেটিন বলা হয়েছে ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের কারণে সমুদ্র বন্দরগুলোতে ৪ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

এর প্রভাবে সাগর উত্তাল থাকায় কক্সবাজারের নিচু এলাকা প্লাবিত হবে। সংকেত ক্রমে বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ভূমিধসেরও আশকা রয়েছে।

x