রেশনিং সুবিধা পাননি মহালছড়ির ৩ হাজার মৎস্যজীবী

তিন মাস মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা

সমির মল্লিক,খাগড়াছড়ি

বুধবার , ১২ জুন, ২০১৯ at ৬:১১ পূর্বাহ্ণ
25

খাগড়াছড়ির মহালছড়িতে রেশনিং সুবিধা না থাকায় মানবেতর জীবন যাপন করছে তিন হাজার মৎস্যজীবী। সরকারিভাবে মাছ ধরা বন্ধের নির্দেশ থাকায় বেকার হয়ে পড়েছে কাপ্তাই লেকে মাছ ধরার উপর নির্ভরশীল জেলেরা। আয় না থাকায় না খেয়ে দিন কাটাচ্ছে অনেক জেলে। সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছে অনেকে । মাছ শিকার বন্ধকালীন সময়ে রাঙামাটির জেলেরা তিন মাস ভিজিডি ও ভিজিএফের আওতায় রেশন পেলেও বঞ্চিত খাগড়াছড়ির মহালছড়ির মৎস্যজীবীরা। অবিলম্বে সরকারিভাবে রেশনিং সুবিধা চালুর দাবি জানান তারা। মৎসজীবীরা জানান ‘মাছ ধরা বন্ধ থাকায় আমরা বেকার হয়ে পড়েছি। আমরা কার্ড পাওয়ার পরও চাল পাচ্ছি না। বন্ধের সময় সরকারিভাবে ঋণ নিই। ঋণ পরিশোধ করতে করতে ভবিষ্যতে কিছু করতে পারি না। সরকারের কােেছ বিনীত অনুরোধ যাতে দ্রুত রেশনিং এর ব্যবস্থা করা হয়। বিকল্প আয় না থাকায় কষ্টে দিন পার করতে হয়। ’
কাপ্তাই লেকে মাছের বংশ বৃদ্ধির জন্য ডিম দেওয়ার সময় ১ মে থেকে ৩০ জুলাই পর্যন্ত কাপ্তাই লেকে মাছ ধরা বন্ধ থাকে।
মহালছড়ি মৎস্য ব্যবসায়ীদের সংগঠন মাছ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাবেক সাধারণ মোঃ আবুল খায়ের বলেন, জেলেরা সারা বছর মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে। বছরে মে থেকে জুলাই তিন মাস মাছ ধরা বন্ধ থাকে এই সময়টাতে জেলেরা খুব কষ্টে থাকে। কারণ তাদের এক মাত্র আয়ের উৎস মাছ ধরা। তাই মাছ ধরার বন্ধকালীন সময়টা তাদের ভিজিডি বা ভিজিএফ এর আওতায় রেশনের সুবিধা দেওয়ার দাবি জানান তিনি।
১৯৬০ সালের কাপ্তাই বাঁধের পর কাপ্তাই হ্রদের মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে খাগড়াছড়ি জেলার মহালছড়ির দুই হাজারের বেশি জেলে পরিবার। উপজেলার মৎস্য আহরণ উপকেন্দ্রে প্রতি বছর রাজস্ব বাড়লেও বাড়ছে না জেলেদের সুযোগ-সুবিধা। এই বছর অর্থাৎ ২০১৮-২০১৯ অর্থ বছরে মহালছড়ি উপকেন্দ্রে রাজস্ব আদায় হয়েছে ৮৬ লক্ষ ৪৫ হাজার ২শ ৮১ টাকা।
মহালছড়ি মৎস্য উপকেন্দ্রের্র ভারপ্রাপ্ত স্টেশন কর্মকর্তা নাসার উল্লাহ আহমেদ বলেন, খাগড়াছড়ি জেলার মহালছড়ি ও দীঘিনালা উপজেলায় ২ হাজার ৭শ ৭৬ জন নিবন্ধিত জেলে আছে । তারা মাছ ধরার বন্ধকালীন সময়টাতে রেশন পান না। তিনি মাছ ধরার বন্ধ কালীন সময়টাতে তিন মাস ভিজিডি বা ভিজিএফ এর আওতায় দেওয়ার জন্য প্রতি বছর তিনি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে আবেদন পাঠান। রেশন না পাওয়ার কারনে তারা অনেক সময় পরিবার চালানোর জন্য রাতের আঁধারে মাছ ধরেন। যদি তাদের রেশনের ব্যবস্থা করা হয়। তাহলে তাদের চুরি করে মাছ ধরা বন্ধ করা যাবে।
মহালছড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান বিমল কান্তি চাকমা বলেন , মাছ ধরা বন্ধকালীন সময় রাঙ্গামাটির জেলেরা রেশন পান অথচ খাগড়াছড়ির জেলেরা পায় না এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি তাদের রেশনের আওতায় আনার জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানান।
খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক মো.শহীদুল ইসলাম জানান ‘ মাছ ধরা বন্ধকালীন সময়ে রেশন পাওয়ার জন্য জেলেরা আমার কাছে আবেদন করেছেন। এই বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রণালয়ে লিখিত ভাবে জানিয়েছেন। আশা করছি বিষয়টি দ্রুত সমাধান হবে’।

x