রেল স্টেশনের ময়লা আবর্জনায় বিভাগীয় কমিশনারের অসন্তোষ

আজাদী প্রতিবেদন

শুক্রবার , ২৪ মে, ২০১৯ at ৫:২৭ পূর্বাহ্ণ

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের জেনারেল ম্যানেজার সৈয়দ ফারুক আহমদসহ রেলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে ঈদে ট্রেনের অগ্রিম টিকেট বিক্রিসহ স্টেশনের সার্বিক কার্যক্রম পরিদর্শনে গিয়ে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল মান্নান স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে অবৈধ ভাসমান দোকান, বিভিন্ন কোম্পানির বিজ্ঞাপনী ব্যানার, প্ল্যাটফর্ম ও রেল লাইনে যত্রতত্রভাবে পড়ে থাকা পলিথিন, টিস্যু পেপার, চিপসের প্যাকেট, কাগজ, নোংরা কাপড়সহ অন্যান্য ময়লা-আবর্জনা দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এ সময় তিনি নিজের হাতে ময়লা তুলে ঝুড়িতে ফেলেন। গতকাল বিকাল সাড়ে ৩ টায় বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল মান্নান ও চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন আকস্মিকভাবে চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শনকালে রেলওয়ে স্টেশনের বারান্দা, প্ল্যাটফর্ম ও রেললাইন নিয়মিত ময়লা-আবর্জনামুক্ত পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখাসহ ভাসমান দোকান উচ্ছেদ করতে রেলওয়ের জেনারেল ম্যানেজার ও স্টেশন ম্যানেজারসহ সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন তিনি।
পরির্দশনকালে বিভাগীয় কমিশনার বলেন, টিকেট কালোবাজারি পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেয়া হবে। একজনকেও ছাড়া হবে না। কালোবাজারিদের প্রতিরোধে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষসহ আইন-শৃংখলা বাহিনী নজরদারি করছে। সারাদেশে মানুষ যাতে ক্ষতি বা হয়রানির শিকার না হয় সেটা দেখা আমাদের প্রধান কাজ। এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) শংকর রঞ্জন সাহা, রেলওয়ে স্টেশন ম্যানেজার আবুল কালাম আজাদ, বিভাগীয় কমিশনারের পিএস অভিষেক দাশ, রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর কমান্ডার ইকবাল হোসেনসহ রেলওয়ের পদস্থ কর্মকর্তাগণ।
রেল স্টেশন পরিস্কার রাখা বিষয়ে তিনি বলেন, রেল স্টেশন এলাকা পরিস্কার-পরিছন্ন আছে কিনা তা ঘুরে দেখা এক ধরনের শখ। ১০ বছর আগে রেল স্টেশন এত পরিস্কার ছিল না। সারা দুনিয়ার রেল স্টেশনগুলো যে রকম পরিস্কার আমরা আমাদের দেশের রেল স্টেশনগুলো সে রকম রাখতে চাই। স্টেশন কর্তৃপক্ষ নিজেরাই তাদের স্টেশন পরিস্কার রাখবে। আমরা ইউরোপের রেলওয়ে স্টেশনের সাথে এখানকার স্টেশনগুলোর তুলনা করতে চাই। ময়লা-আবর্জনা নির্দিষ্ট জায়গা ছাড়া কোথাও না ফেলতে মানুষকে অভ্যস্ত করে তুলতে হবে। এজন্য স্টেশন ম্যানেজারসহ সংশ্লিষ্টদের আন্তরিক হতে হবে।
চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন পরিদর্শনে গিয়ে ঈদে রেলের অগ্রিম টিকেট বিক্রি ও কালোবাজারি বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিভাগীয় কমিশনার বলেন, ‘প্রতিদিন চট্টগ্রাম থেকে বিভিন্ন ট্রেনের ১২ হাজার টিকেট বিক্রি হচ্ছে। এই টিকেট বিক্রির সাথে আইন-শৃংখলার সম্পর্ক আছে, অর্থনৈতিক, সামাজিক নানান কিছু আছে, টিকেট কেনা-বেচা নিয়ে মানুষ কতটা বঞ্চিত হচ্ছে তা আমাদের নজরদারিতে রয়েছে। বাস স্ট্যান্ডগুলোতেও একইভাবে মনিটরিং করা হচ্ছে। শোনা আর নিজের চোখে দেখা এক কথা নয়, সে জন্য রেলওয়ে স্টেশন আকস্মিকভাবে পরিদর্শন করা হয়েছে। এখানে মানুষ লাইনে দাঁড়িয়ে সুশৃংঙ্খলভাবে টিকেট নিচ্ছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিন-রাত পরিশ্রম করে যে কাজগুলো করে যাচ্ছেন এর সুফল দেশের মানুষ ভোগ করছে। এজন্য দেশ অনেক দূর এগিয়ে যাচ্ছে। আমরা আরো আশাবাদী যে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশে অনেক কিছু করার সুযোগ আমাদের আছে, সামর্থ্য আছে। আমরা মানুষকে স্বস্তিতে রাখতে চাই।’

x