রেজিস্ট্রেশনের জন্য ভিড় বাড়ছে ভারত থেকে আসা রোহিঙ্গাদের

আহমদ গিয়াস, কক্সবাজার

বুধবার , ১৬ জানুয়ারি, ২০১৯ at ১০:৩৯ অপরাহ্ণ
67
মিয়ানমার থেকে ভারতে পালানো রোহিঙ্গারা এখন সেখান থেকে ফিরছে কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফের শরণার্থী ক্যাম্পে। ইতোমধ্যে এ ধরনের আশ্রিত রোহিঙ্গার সংখ্যা হাজার ছাড়িয়েছে বলে জানা গেছে। সম্প্রতি ভারত থেকে ফেরা রোহিঙ্গাদের জন্য নতুন করে রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া শুরুর উদ্যোগ নেয়া হলে তাতে অন্তর্ভুক্ত হতে আগে ফেরা রোহিঙ্গারাও উখিয়ার ট্রানজিট ক্যাম্পে ভিড় করছে।
মিয়ানমার থেকে বিভিন্ন সময়ে ভারতে পালানো রোহিঙ্গারা গত দুই মাসাধিককাল ধরে সেখান থেকে ফিরছে কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফের শরণার্থী ক্যাম্পে। জম্মু কাশ্মিরসহ ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে ধরপাকড় অভিযান শুরু হলে সেই অভিযান থেকে বাঁচতে উখিয়া-টেকনাফের রোহিঙ্গা শিবিরেই চলে আসছে তারা।
ইতোমধ্যে এ ধরনের আশ্রিত রোহিঙ্গার সংখ্যা হাজার ছাড়িয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেলেও এ বিষয়ে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সম্প্রতি উখিয়ার টিভে স্টেশন সংলগ্ন ঘুমধুম ট্রানজিট ক্যাম্পে রেজিস্ট্রেশনের জন্য ঠাঁই পেয়েছেন ভারত থেকে ফেরা রোহিঙ্গা ইউনুছ ও মিরাজা। তাদের তিন সন্তানের দুটিই হয়েছে ভারতে আর একটি মিয়ানমারে। সম্প্রতি তারা ভারত থেকে ফেরার পর তাদের সর্বশেষ ঠাঁই হয়েছে এখানে।
মঙ্গলবার দুপুরে তাদের সাথে দেখা করতে এলে কথা হয় মিরাজার ভাই মৌলভী ইউসুফের সাথে। তিনি জানান, তার বোন ও ভগ্নিপতি চার বছর আগে দালালের খপ্পরে পড়েই ভারতে চলে যান। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের মুখে তারা বাংলাদেশে চলে আসেন।
নতুন করে রোহিঙ্গাদের রেজিস্ট্রেশন শুরু হচ্ছে শুনে স্ত্রী রাজু বেগমকে (১৮) সাথে নিয়ে ঘুমধুম ট্রানজিট ক্যাম্পে আসেন ভারত থেকে ফেরা রোহিঙ্গা নবী হোছন (২৪)। তিনি প্রায় দুই মাস আগে ভারত থেকে ফিরে এতদিন ছিলেন বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে। তবে তার রেজিস্ট্রেশন না হওয়ায় এতদিন তিনি রেশনও পাচ্ছিলেন না।
নবী হোছন জানান, ২০১৭ সালের আগস্টের পর মিয়ানমারের উত্তর রাখাইনে সেনাবাহিনীর গণহত্যা অভিযান শুরু হলে তিনি প্রাণ বাঁচাতে পাহাড়ী পথে ভারতে চলে যান। পরে সেখান থেকে জম্মুতে ছিলেন এক বছরের বেশি সময় ধরে। কিন্তু ভারতের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী রোহিঙ্গাদের আটক করে মিয়ানমারের হাতে তুলে দিলে এ নিয়ে রোহিঙ্গাদের মাঝে আতংক শুরু হয়। মিয়ানমারে ফিরতে বাধ্য হওয়ার ভয়ে তার মতো শত শত রোহিঙ্গা এখন বাংলাদেশে পালিয়ে আসছে বলে জানান তিনি।
তিনি আরো জানান, প্রায় ২ মাস আগে এক সাথে তারা ৪০ জন পালিয়ে আসে ভারত থেকে। তারপর উখিয়া-টেকনাফের বিভিন্ন ক্যাম্পে আত্মীয়স্বজনের কাছে তারা আশ্রয় নেন। ভারতের জম্মুতে তারা দিনমজুর ও টোকাইয়ের কাজ করে ভালোই জীবিকা নির্বাহ করছিলেন বলে জানান নবী হোছন।
কুতুপালং রেজিস্টার্ড রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা মো. জালাল জানান, গত দুই মাসে ভারত থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গার সংখ্যা হাজার ছাড়িয়েছে। তারা রেজিস্ট্রেশন ছাড়াই ক্যাম্পে অবস্থান করায় রেশনও পাচ্ছে না। এ কারণে রেজিস্ট্রেশনের আশায় প্রতিদিনই সপরিবারে ট্রানজিট ক্যাম্পে ভিড় করছে ভারত থেকে নতুন করে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা।
২০১৭ সালের আগস্টে বাংলাদেশে নতুন করে পালিয়ে আসা ৭ লক্ষাধিক রোহিঙ্গাসহ আগের ৪ লক্ষাধিক মিলে প্রায় ১১ লাখ ১৮ হাজার রোহিঙ্গার রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হয়। তারপর গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে রোহিঙ্গা রেজিস্ট্রেশন বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু গত সপ্তাহে ভারত থেকে আসা রোহিঙ্গাদের জন্য নতুন রেজিস্ট্রেশন শুরু হলে উখিয়ার ট্রানজিট ক্যাম্পে নতুন করে ভিড় শুরু হয় রোহিঙ্গাদের।
এদিকে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের জন্য মিয়ানমার ও বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে আরো সোয়া বছর আগে চুক্তি হলেও এখনও পর্যন্ত একজন রোহিঙ্গাকেও নিজ দেশে ফেরত পাঠানো যায়নি।
এ বিষয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনসহ রোহিঙ্গা শিবির তদারকির দায়িত্বে থাকা সরকারের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ আবুল কালাম বলেন, ‘ফের ভারত থেকে রোহিঙ্গা আসায় তাদের চিহ্নিত ও তালিকাভূক্ত করা জরুরি হয়ে পড়েছে। কিন্তু অনেক আগেই রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম শেষ হয়ে যাওয়ায় নতুন করে এ কার্যক্রম শুরু করতে একটু জটিলতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।‘
x