রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা চাই

মালয়েশিয়ায় জনশক্তি রফতানিতে অসাধু সিন্ডিকেট

মঙ্গলবার , ৮ অক্টোবর, ২০১৯ at ৬:০৫ পূর্বাহ্ণ

আন্তর্জাতিক বাজারে কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত দক্ষ-জনশক্তির ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশে আমাদের দেশ থেকে যে জনশক্তি রফতানি হয়, অধিকাংশই আধা দক্ষ বা অদক্ষ হওয়ায় তাদের মজুরির পরিমাণ হয় খুবই কম। ফলে জমিজমা বিক্রি বা ঋণ করে বিদেশ পাড়ি দেয়ার পর কঠোর পরিশ্রম করেও খরচের টাকা ওঠানোই দুরূহ হয়ে পড়ে। এ পরিস্থিতি সামনে রেখে দক্ষ জনবল গড়ে তোলার সঙ্গে সঙ্গে মালয়েশিয়ার সঙ্গে জনশক্তি নিয়োগ সংক্রান্ত ‘জি টু জি প্লাস সমঝোতা স্মারক’ ফলপ্রসূ করতে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নেবে, এটাই প্রত্যাশা। আসলে মালয়েশিয়ায় মাহাথির মোহাম্মদ ক্ষমতায় না এলে হয়তো সেখানে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে সরকারি মদদপুষ্ট আদম ব্যাপারিদের রাহুগ্রাস বন্ধ হতো না। ক্ষমতাচ্যুত সাবেক সরকারের সময় বাংলাদেশ সরকারের তরফে সব এজেন্সিকে লোক পাঠানোর ক্ষেত্রে সুযোগ দেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হলেও কোন প্রকার ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। উল্টো ১০ কোম্পানিকে সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার ক্ষেত্রে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। ফলে ৪০ হাজার টাকার স্থলে ৩-৪ লাখ টাকা পর্যন্ত আদায় করে ভাগবাটোয়ারা করা হয়েছে। বর্তমান মাহাথির মোহাম্মদের সরকার যে মালয়েশিয়ার উন্নয়নে কাজ করবে তাতে কোন সন্দেহ নেই। মালয়েশিয়ার অর্থনৈতিক উন্নয়নে বাংলাদেশী কর্মীদের ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য। এখনও দেশটিতে বাংলাদেশি কর্মীদের যথেষ্ট কদর রয়েছে। কারণ আমাদের দেশের কর্মীরা কর্মঠ এবং আন্তরিক। তাদের পাঠানো অর্থে আমাদের অর্থনীতিসমৃদ্ধ হচ্ছে।
আমরা আশা করি, মানবসম্পদ কাজে লাগাতে মালয়েশিয়ার বর্তমান সরকার আন্তরিক হবে। শত অনিয়ম নির্যাতন বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেবে। অবশ্য এরই মধ্যে আমাদের দেশের দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) মানব পাচারে জড়িতদের অনিয়ম খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে। দুদকের এ উদ্যোগ যেন কোনো ভাবেই ভেস্তে না যায়। অধিক জনসংখ্যাই আমাদের মানবসম্পদ এ মানবসম্পদকে কাজে লাগাতে পারলে দেশের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করা সম্ভব। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার উন্মুক্ত হয়েছে। এখন এটাকে রক্ষার দায়িত্ব সরকার ও বেসরকারি রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর। এক্ষেত্রে জনশক্তি প্রেরণকারী রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকে দায়িত্ব ও স্বচ্ছতার পরিচয় দিতে হবে। কোনো স্বার্থান্বেষী সিন্ডিকেট যাতে মালয়েশিয়ার এ শ্রমবাজার মুঠোবন্দী করতে না পারে সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে। কারো কোন অপকর্ম দ্বারা একক সুবিধাগ্রহণ করতে না পারে সেদিকেও কড়া নজর রাখা জরুরি। আমাদের কৃতকর্মের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার যেন আবার বন্ধ হয়ে না যায়। সীমিত প্রাকৃতিক সম্পদ এদেশে জনশক্তি প্রেরণ আমাদের আয়ের অন্যতম উৎস। একে গতিশীল রেখে আমাদের জাতীয় অর্থনৈতিক উন্নয়নের ধারাকে আরো বেগবান করতে হবে।
মনে রাখতে হবে, সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও নীতিমালার আলোকে যদি শ্রমবাজার পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ করা যায় তা হলে আমাদের অগ্রযাত্রা অবশ্যম্ভাবী। মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে কর্মী প্রেরণের ক্ষেত্রে বেসরকারি প্রত্যেকটি রিক্রুটিং এজেন্ট যাতে সমান সুযোগ পেতে পারে তার পথ তৈরি করতে হবে।

x