রামুতে ‘ছেলেধরা’ সন্দেহে অপ্রকৃতিস্থ ব্যক্তির গণপিটুনিতে মৃত্যু

এক বখাটে গ্রেফতার

কক্সবাজার ও রামু প্রতিনিধি

রবিবার , ১৪ অক্টোবর, ২০১৮ at ৭:৫৩ অপরাহ্ণ
149
কক্সবাজারের রামুতে ‘ছেলেধরা’ সন্দেহে গণপিটুনির শিকার অপ্রকৃতিস্থ আবদুল হাকিম (৫০) ঘটনার চারদিনের মাথায় শনিবার কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। গত মঙ্গলবার (৯ অক্টোবর) বিকালে রামুর কাউয়ারখোপের বৈলতলী ফরেস্ট অফিসের পূর্বপাশ্বের নদীরপাড়ে ঘোরাঘুরি করার সময় একদল বখাটে তাকে নির্মমভাবে পিটিয়ে গুরুতর  আহত করে।
তার মৃত্যুর খবর পেয়ে রামু থানার একদল পুলিশ অভিযান চালিয়ে ঘটনায় জড়িত এক বখাটে যুবককে গ্রেফতার করেছে।
গ্রেফতার যুবক মো. আলম (৩০) ওই ইউনিয়নের ডিক্কুল এলাকার শফিউল আলমের ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, ঘটনার কিছুদিন আগে লোকটি এলাকায় আসে এবং উদ্দেশ্যহীন ঘোরাঘুরি করে, কোনো কিছু জিজ্ঞেস করলে উল্টাপাল্টা উত্তর দেয়। এলাকার মানুষ তাকে পাগল বলেই জানে। সে কোনো ছেলেধরা নয়।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল মনসুর জানান, একজন মানসিক বিকারগ্রস্ত ব্যক্তি গত মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে রামুর কাউয়ারখোপের বৈলতলী ফরেস্ট অফিসের পূর্বপাশ্বের নদীরপাড়ে ঘোরাঘুরি করছিল। আর এ সময়  নদীপাড়ে আড্ডারত ১০/১১ জন বখাটে যুবক অপ্রকৃতিস্থ ব্যক্তিটিকে ‘ছেলেধরা’ আখ্যা দিয়ে নির্মমভাবে গণপিটুনি দেয় এবং এরপর গুরুতর আহতাস্থায় তাকে নদীর পাড়ে ফেলে রেখে চলে যায়। পরে স্থানীয় একদল মানুষ তাকে উদ্ধার করে প্রথমে রামু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। পরে সেখান থেকে তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার মারা যায় লোকটি।
তিনি জানান, তারপর রামু থানা পুলিশ শনিবার রাতে অভিযান চালিয়ে ঘটনায় জড়িত বখাটে যুবক মো. আলমকে গ্রেফতার করে। এ ব্যাপারে গ্রেফতার যুবককে প্রধান আসামী করে মোট ১১ জনের বিরুদ্ধে রামু থানায় একটি হত্যা মামলা রুজু করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত বাকী আসামীদেরও গ্রেফতার করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
ওসি জানান, নিহত ব্যক্তিটি মৃত্যুর আগে নিজেকে নাটোরের কবিরাজের ছেলে হাকিম (৫০) বলে পরিচয় দিয়েছে। এর বেশি আর কিছু বলেনি। খোঁজ নিয়ে লোকটির কোনো আত্মীয়স্বজনকেও বের করা যায়নি। ফলে রবিবার বিকালে লাশটি বেওয়ারিশ হিসাবে দাফনের জন্য কক্সবাজার পৌরসভাকে হস্তান্তর করা হয়েছে।
x