রাজ্জাকের রেকর্ডের দিনে উজ্জ্বল দক্ষিণাঞ্চল

সাদমান-মজিদের সেঞ্চুরিতে মধ্যাঞ্চলের রান উৎসব

ক্রীড়া প্রতিবেদক

বুধবার , ২৫ এপ্রিল, ২০১৮ at ৫:৩৫ পূর্বাহ্ণ
48

আবদুর রাজ্জাকের বোলিং আর এনামুল হক ও ইমরুল কায়েসের ব্যাটিংয়ে উজ্জ্বল দক্ষিণাঞ্চল। উত্তরাঞ্চলকে দুই সেশনে গুটিয়ে দেওয়া দক্ষিণাঞ্চলকে দৃঢ় ভিত্তির ওপর দাঁড় করিয়েছেন এই দুই টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান।

রাজ্জাকের রেকর্ড বোলিংয়ের পর অপরাজিত দুই ফিফটিতে দলকে দারুণ শুরু এনে দিয়েছেন এনামুল ও ইমরুল। বিসিএলের ষষ্ঠ ও শেষ রাউন্ডের প্রথম দিনের খেলা শেষে দক্ষিণাঞ্চলের সংগ্রহ ১ উইকেটে ১১৫ রান। এনামুল ৫২ ও ইমরুল ৫১ রানে ব্যাট করছেন। অবিচ্ছিন্ন দ্বিতীয় উইকেটে দুই জনে গড়েছেন ৯৩ রানের জুটি। প্রথম ইনিংসে উত্তরাঞ্চলকে ১৮৭ রানে গুটিয়ে দেওয়া দক্ষিণাঞ্চল মাত্র ৭২ রানে পিছিয়ে। টাইফয়েডের জন্য উত্তরাঞ্চল দল নেই আগের ম্যাচের জয়ের নায়ক ইয়াসিন আরাফাত। সেই ম্যাচে তার সমান ৭ উইকেট নেওয়া আরেক পেসার ছিটকে গেছেন কুঁচকির চোটে। তাদের অভাব দারুণভাবে অনুভব করেছে জহুরুল ইসলামের দল। শফিউল ইসলাম দ্রুত ভাঙেন দক্ষিণাঞ্চলের উদ্বোধনী জুটি। এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন একটি করে ছক্কাচার হাঁকানো সৌম্য সরকারকে। বাকি সময়ে আর কোনো সাফল্য মেলেনি। দারুণ ব্যাটিংয়ে দলকে এগিয়ে নেন এনামুল ও ইমরুল। দুই জনের ব্যাটিংয়ের শুরু ছিল দুই রকম। নিজেকে গুটিয়ে রেখেছিলেন এনামুল। শুরু থেকেই শট খেলেছিলেন ইমরুল।

ইমরুলের যখন ৪৪ রান তখন এনামুল ছিলেন ৩২ রানে। চারছক্কা হাঁকিয়ে তিনিই আগে পৌঁছান ফিফটিতে। খানিক পর পঞ্চাশ পেয়ে যান ইমরুলও। ৭৯ বলে খেলা এনামুলের ৫২ রানের ইনিংসে ৩টি চারের পাশে ছক্কা দুটি। সমান বলে ৫১ রান করতে ৭টি চার ও একটি ছক্কা হাঁকান ইমরুল। এর আগে খুলনার শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি উত্তরাঞ্চলের। চার বছর পর বিসিএলে খেলতে নেমে নিজের দ্বিতীয় ওভারেই ছোবল দেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। ফিরিয়ে দেন জুনায়েদ সিদ্দিককে। প্রথম ঘণ্টায় ৭ ওভারের স্পেলে ব্যাটসম্যানদের ভোগান মাশরাফি। ছোট রান আপেও নতুন বলে যথারীতি ভীতি ছড়ান অভিজ্ঞ এই পেসার। শুরুতে এলোমেলো বোলিং করা কামরুল ইসলাম রাব্বির জায়গায় বোলিংয়ে এসে নিজের দ্বিতীয় ওভারেই উইকেট পান সাকলাইন সজীব। বাঁহাতি এই স্পিনারের লাফিয়ে উঠা বলে পুল করতে গিয়ে মিড অনে রাব্বির হাতে ধরা পড়েন মিজানুর। ১৯তম ওভারে আক্রমণে আসেন রাজ্জাক। বোলিংয়ে দেরিতে এলেও সাফল্য পেতে মোটেও দেরি হয়নি তার। জহুরুল ইসলামকে বোল্ড করে উইকেট মেডেন দিয়ে শুরু করেন। পরের ওভারে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন ধীমান ঘোষকে। দুই বাঁহাতি স্পিনার রাজ্জাক ও সাকলাইনের দারুণ বোলিংয়ে ৭৬ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ফেলে উত্তরাঞ্চল। সেখান থেকে আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি তারা। দ্বিতীয় সেশনের প্রথম ওভারেই আঘাত হানেন রাজ্জাক। ছক্কা হাঁকিয়ে রানের খাতা খোলা আরিফুল হককে বোল্ড করে দেন তিনি। এক প্রান্তে আগলে রাখা নাজমুল হোসেন শান্ত পঞ্চাশ স্পর্শ করেন রাব্বির বলে চারে। তরুণ টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান পরের বলেই কট বিহাইন্ড হয়ে ফিরে যান। এরপর দলকে প্রায় একাই টানেন সোহরাওয়ার্দী শুভ। তাকে খানিকটা সহায়তা করেন ১১ নম্বর ব্যাটসম্যান শফিউল ইসলাম। দশম উইকেট দুই জনে গড়েন ৪২ রানের জুটি। প্রথম ইনিংসে এটাই উত্তরাঞ্চলের সেরা জুটি। মাথা ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়ানো এই জুটি ভাঙেন এক প্রান্তে টানা ২০.৩ ওভারের স্পেল করা রাজ্জাক। শফিউলকে ফিরিয়ে নেন নিজের পঞ্চম উইকেট। এই উইকেটে নিয়ে এনামুল হক জুনিয়রকে পিছনে ফেলেন তিনি। একার করে নেন বাংলাদেশের বোলার হিসেবে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে সবচেয়ে বেশিবার ৫ উইকেট নেওয়ার রেকর্ড। ৫৩ রানে ৫ উইকেট নিয়ে দক্ষিণাঞ্চলের সেরা বোলার রাজ্জাক। এ নিয়ে ৩৩ বার পাঁচ উইকেট নিলেন তিনি। এনামুল জুনিয়র নিয়েছেন ৩২ বার।

এদিকে সাদমান, মজিদের সেঞ্চুরিতে এক দিনেই মধ্যাঞ্চলের রান হয়েছে চারশ প্লাস। আগের সাত ম্যাচে সেঞ্চুরি না থাকলেও শেষ ম্যাচে আব্দুল মজিদ যেন স্ট্রোকের ছটায় আড়াল করলো আগের সব হতাশা। দ্যুতিময় ইনিংসে ছাড়িয়ে গেলেন দেড়শ। দারুণ ফর্মে থাকা সাদমান ইসলাম উপহার দিলেন আরও একটি সেঞ্চুরি। প্রথম দিনেই তাদের দল ছাড়াল চারশ। শিরোপার লড়াই থেকে ছিটকে যাওয়ায় যেন উড়ে গেছে চাপও। বিসিএলের শেষ রাউন্ডের প্রথম দিনে মধ্যাঞ্চলের ব্যাটিংয়ে পড়ল সেই নির্ভার থাকারই প্রতিচ্ছবি। পূর্বাঞ্চলের বিপক্ষে রাজশাহীতে মঙ্গলবার প্রথম দিনেই তারা করেছে ৪ উইকেটে ৪০৬। স্ট্রোকের ফুলঝুরিতে ১৮২ বলে ১৫৯ রানে অবসর নিয়েছেন মজিদ। দেড় ডজন চারের পাশে ইনিংসে মেরেছেন আধ ডজন ছক্কা। ১১ চার ও ৩ ছক্কায় সাদমান করেছেন ১১২। মধ্যাঞ্চলের রান উৎসবের শুরু সাইফ হাসানের ব্যাটে। ৫ চারে ২১ রান করে আউট হন এই ওপেনার। সাদমান ৭ রানে বাইরে চলে যান চোট নিয়ে। মজিদ ততক্ষণে শটের পসরা সাজাতে শুরু করেছেন। ৯ চারে পঞ্চাশ করে ফেলেন ৫১ বলেই। মিডল অর্ডারে দুই অভিজ্ঞ মার্শাল আইয়ুব ও মেহরাব হোসেন জুনিয়র বড় করতে পারেননি ইনিংস। মজিদের সৌজন্যে তবু রানের চাকা ঘুরেছে তীব্র গতিতেই। পরে আবার ব্যাটিংয়ে নেমে সঙ্গত ধরেন সাদমান। ১১৪ বলে মজিদ স্পর্শ করেন প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে সপ্তম সেঞ্চুরি। পরে ১৫৯ রান করে মাঠ ছাড়েন অসুস্থ বোধ করায়। সাদমান শুরু করেছিলেন বরাবরের মতোই ধীরেসুস্থে। ১০০ বলে স্পর্শ করেন পঞ্চাশ। মজিদের বিদায়ের পর তার ব্যাটেও ওঠে ঝড়। পরের পঞ্চাশ করেন ৩৮ বলেই। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে সাদমানের এটি পঞ্চম সেঞ্চুরি।

বিসিএলে আগের ম্যাচে খেলেছিলেন ৯৩ রানের ইনিংস, তার আগের ম্যাচে করেছিলেন সেঞ্চুরি। ১১২ রানে সাদমান স্টাম্পড হন সোহাগ গাজীর বলে। তবে রানের জোয়ার ধরে রাখেন শুভাগত হোম। দিন শেষ করেছেন তিনি ৪৯ বলে অপরাজিত ৫০ রানে।

x