রাজাকারের তালিকা প্রকাশ আজ

স্বাগত মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের

ঋত্বিক নয়ন

রবিবার , ১৫ ডিসেম্বর, ২০১৯ at ৫:১৪ পূর্বাহ্ণ

বিজয়ের ৪৯ বছরে এসে আজ ১৫ ডিসেম্বর বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতাকারী রাজাকারদের তালিকা প্রকাশ করা হচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ. ক. ম মোজাম্মেল হক এই তালিকা প্রকাশ করবেন। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা সূফি আব্দুল্লাহ হিল মারুফ এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি আরও জানিয়েছেন, একই সঙ্গে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকাও (প্রথম পর্ব) প্রকাশ করা হবে।
রাজাকার বাহিনীর তালিকা প্রকাশকে স্বাগত জানিয়েছেন ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির নেত্রী শহীদ জায়া লেখিকা বেগম মুশতারি শফি। তিনি আজাদীকে বলেন, রাজাকারসহ ঘাতক বাহিনীর তালিকা প্রণয়ন ও প্রকাশের জন্য আমরা দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছি। দেরিতে হলেও সেই দাবি বাস্তবায়ন হচ্ছে। এটি ইতিবাচক। তবে এখানে থেমে থাকলে হবে না। এই উদ্যোগ অব্যাহত রাখতে হবে। তিনি আরও বলেন, পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সমরাধিনায়ক নিয়াজি তার বইয়ে লিখেছেন, রাজাকার বাহিনীতে তারা ৫০ হাজার সদস্য নিয়োগ করেছিলেন। তাদের বেতন-ভাতা দেওয়া হতো। তাই আমরা ধরে নিচ্ছি, মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অন্তত ৫০ হাজার রাজাকার নৃশংস ভূমিকা রেখেছে। এখন তাদের চিহ্নিত করতে হবে। যখনই কোনো রাজাকারের নাম-পরিচয় পাওয়া যাবে, সে ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়ার পর মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে যুক্ত করতে হবে। একইভাবে পিস কমিটির সদস্যসহ আলবদর ও আলশামস বাহিনীর সদস্যদের তালিকাও প্রকাশ করা উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে অতীতে সংগ্রহ করা একাত্তরের রাজাকার বাহিনীর সদস্য হিসেবে যারা ভাতা নিয়েছে বা যাদের নামে অস্ত্র এসেছে, তাদের নাম-পরিচয়, ভূমিকাসহ যেসব তথ্য স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের গোয়েন্দা সংস্থার কাছে ছিল সেই তথ্য ধরে করা তালিকাই তিনি আবার প্রকাশ করবেন। এরপর পর্যায়ক্রমে অন্য ঘাতক বাহিনীর সদস্যদের তালিকাও প্রকাশ করা হবে বলে মন্ত্রীর দফতর সূত্রে জানা গেছে। রাজাকারদের তালিকার প্রথম পর্ব প্রকাশ করা হবে আজ। পর্যায়ক্রমে রাজাকারদের আরও তালিকা প্রকাশ করা হবে।
জানা গেছে, প্রথম দিন প্রকাশের জন্য মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তান সরকারের বেতনভোগী ৩৯৯ জন এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাওয়া ১০ হাজারের বেশি নাম নিয়ে তালিকা তৈরি করা হয়েছে। বেতন নেয়নি কিন্তু একাত্তরে খুন, ধর্ষণ, নির্যাতন ও লুণ্ঠনে যেসব বাঙালি পাকিস্তানি বাহিনীকে সহায়তা করেছে তাদের নামও ধাপে ধাপে প্রকাশ করা হবে।
জানা যায়, ১৯৭১ সালের এপ্রিলে অনানুষ্ঠানিকভাবে রাজাকার বাহিনী গঠন করা হয়। সেপ্টেম্বরে পাকিস্তানি বাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে এটা প্রকাশ করে। ওই সময় গ্রামে-গঞ্জে মেম্বারদের রাজাকার বাহিনীতে লোক সংগ্রহ করতে বলা হয়েছিল। গ্রামের এসব মেম্বার এবং বিভিন্ন দলসহ যেমন: জামায়াতে ইসলামী, নেজামে ইসলাম, মুসলিম লীগ, জামাতে ওলামা, কনভেনশন মুসলিম লীগ তথা পাকিস্তানের সমর্থক এমন অনেক দল ওই রাজাকার বাহিনীতে যোগ দেয়। এসব দলের নেতারা রাজাকার বাহিনীর পৃষ্ঠপোষক ছিল। রাজাকার বাহিনী তৈরির পেছনে ছিল পাকিস্তানের গোয়েন্দা বাহিনী এবং তাদের জেনারেলরা। ওই সব বেতনভুক্ত রাজাকার এবং স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে যাদের বিরুদ্ধে দালাল আইনে মামলা হয়েছিল তাদের নিয়েই রাজাকারের তালিকা চূড়ান্ত করবে সরকার।

x