রাজবন বিহারের কঠিন চীবর দানোৎসবে লাখো পুণ্যার্থী

রাঙামাটি প্রতিনিধি

শনিবার , ৯ নভেম্বর, ২০১৯ at ৮:৩০ পূর্বাহ্ণ
34

লাখো পুণ্যার্থীর অংশগ্রহণে রাঙামাটি রাজবন বিহারে শেষ হলো বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের সর্বোচ্চ ধর্মীয় উৎসব কঠিন চীবর দান। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে বেইন ঘরে সুতা কাটার মাধ্যমে চীবর বানানোর কাজ শুরু হয়। গতকাল শুক্রবার বিকালে চীবর প্রদানের মাধ্যমে উৎসবের সমাপ্তি ঘটে।
এতে তিন পার্বত্য জেলা ছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা যোগ দেয়। এ উৎসব ঘিরে বিহারের আশেপাশে রকমারি জিনিসপত্রের দোকান, নাগর দোলা ও খাবার দোকান বসানো হয়। উৎসবকে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেয়া হয় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
গতকাল বিকেলে চাকমা সার্কেল চিফ ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায় চীবর বনভান্তের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করেন। ধর্মীয় দেশনা দেন বনভান্তের প্রধান শিষ্য প্রজ্ঞালংকার মহাস্থবির। ধর্মসভায় বক্তব্য দেন বিহারের উপাসক উপাসিকা পরিষদের সিনিয়র সহসভাপতি গৌতম দেওয়ান। এ সময় সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য বাসন্তি চাকমা, পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বৃষকেতু চাকমা, রাঙামাটি সেনা রিজিয়ন কমান্ডার বিগ্রেডিয়ার জেনারেল মাইনুর রহমান ও জেলা প্রশাসক একেএম মামুনর রশীদ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, গৌতম বুদ্ধের সময় বিশাখা নামে এক পুণ্যবতী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তৈরি চীবর দান করেন। এ রীতি অনুসরণ করে ১৯৭৪ সাল থেকে পার্বত্য চট্টগ্রামে কঠিন চীবর দানোৎসব হয়ে আসছে। বুদ্ধ ভিক্ষুদের তিন মাসের বর্ষাব্রত শেষে প্রবারণা পূর্ণিমার দিন থেকে এ উৎসব শুরু হয়।

x