রাঙ্গুনিয়ায় দুই ভাইয়ের চোখে এসিড ঢেলে দেয়া মামলায় রায় কাল

দু’পক্ষের বক্তব্য শুনেছেন বিচারক

আজাদী প্রতিবেদন

বুধবার , ২৫ এপ্রিল, ২০১৮ at ১২:০৫ অপরাহ্ণ
104

রাঙ্গুনিয়ায় মুক্তিযোদ্ধা সোবহানের দুই ছেলের চোখে খেজুর কাঁটা দিয়ে খুচিয়ে এসিড ঢেলে দেয়ার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় উভয়পক্ষে আবারো যুক্তিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত সোমবার পঞ্চম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ স্বপন কুমার সরকারের আদালতে চাঞ্চল্যকর এ মামলার বিচারকাজ অনুষ্ঠিত হয়। মামলার কার্যক্রম পরিচালনা শেষে আদালতের বিচারক আগামীকাল ২৬ এপ্রিল রায় ঘোষণার তারিখ ধার্য রেখেছেন।

এদিকে গত সোমবার এ মামলার অন্যতম আসামি সালাম বাহিনীর প্রধান আবদুস সালাম ও আবদুল হক আদালতে উপস্থিত হননি। তারা আইনজীবীর মাধ্যমে সময়ের আবেদন করেছেন আদালতে। এ বিষয়ে ভিকটিমের ভাই ওয়াকিল আহমেদ বলেন, আসামিরা একের পর এক পলাতক হয়ে যাচ্ছে। আমার পরিবারের বাকি সদস্যদেরকেও প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয়া হচ্ছে। কিন্তু আদালতের তরফে তাদেরকে কাস্টডিতে নেয়া হচ্ছে না।

তিনি আরো বলেন, ২৭ বছর আগে বাপ ভাইকে হারিয়েছি। একভাই এসিডের যন্ত্রণায় প্রতিনিয়ত ছটফট করছে। এখন বিচার চাইতে গিয়েই আসামিরা পরিবারের বাকি সদস্যদেরকে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে।

জানা গেছে, দীর্ঘ ২৭ বছর আগের এই ঘটনায় গত ১৮ এপ্রিল প্রথম দফা রায় ঘোষণার দিন ধার্য ছিল। কিন্তু আদালতের বিচারক দু’পক্ষের বক্তব্য শোনার জন্য সোমবার দিন ধার্য রেখেছিলেন।

এ উপলক্ষে রাষ্ট্রপক্ষের কৌসুলী অতিরিক্ত পিপি এডভোকেট লোকমান হোসেন বলেন, গত সোমবার দুই পক্ষকে শুনেছেন আদালতের বিচারক। এরপর আগামীকাল ২৬ এপ্রিল আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণার দিন ধার্য রেখেছেন বিচারক। বিচার পাওয়ার বিষয়ে তিনি আরো বলেন, এ মামলায় আসামিদের সাজার ব্যাপারে আমরা একশ’ ভাগ আশাবাদী। কারণ এসব আসামিরা শুধু একটা দুইটা হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত তা নয়। তারা একেরপর এক হত্যাকাণ্ড ঘটানোর কারণে থানায় মামলা হয়েছে।

জানা গেছে, রাঙ্গুনিয়ায় মুক্তিযোদ্ধা সোবহানের দুই ছেলের চোখে খেজুর কাঁটা দিয়ে খুচিয়ে এসিড ঢেলে দেয়ার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় যুক্তিতর্ক সম্পন্ন হয় এর আগে। মামলাটি ৩ মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হাইকোর্ট থেকে আদেশ হওয়ার পর মামলার কার্যক্রম দ্রুত হয়।

প্রসঙ্গত: গত ২৫ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টের তরফে মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তির আদেশ হয়। বিচারপতি হাবিবুল গনির নেতুত্বে একটি বেঞ্চ এ আদেশ দিয়েছিলেন।

জানা গেছে, পার্শ্ববর্তী হাশেমের সাথে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে ১৯৯১ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি রাঙ্গুনিয়ার পশ্চিম নিশিন্তাপুর এলাকার বাসিন্দা মুক্তিযোদ্ধা (হত্যাকাণ্ডের শিকার) আবদুস সোবহানের দুই ছেলেকে আইয়ুব বাহিনীর সদস্যরা (আইয়ুবের নেতৃত্বে) হাতপা বেঁধে ফেলে। এরপর খেজুর কাঁটা দিয়ে খুচিয়ে তাদের চোখ উপড়ে ফেলে। এরপর দু’জনের চোখে এসিড ঢেলে দেয়। এ ঘটনায় দুই ভাইয়ের মধ্যে কবির আহমেদ এসিড যন্ত্রণা নিয়ে ইতোমধ্যে মারা গেছেন। তবে এখনো প্রাণে বেঁচে থাকা সবুর আহমেদের অবস্থায়ও বেশ খারাপ।

মামলার বাদী মোহাম্মদ ফরিদুল আলম জানান, আইয়ুব বাহিনীর হাতে পিতা ও এক ভাইকে হারিয়েছি। এসিডে ঝলছে দেয়া আরেক ভাইও মৃত্যু যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন।

আলোচিত এ মামলাটি তদন্ত করে আইয়ুবসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয়া হয়। এরপর মধ্যে ৩ জন মারা যাওয়ায় তারা মামলার দায় থেকে অব্যাহতি পায় আইনগতভাবেই। আর ১০ আসামির মধ্যে আইয়ুব বাহিনীর আইয়ুবসহ ৫ জন বর্তমানে জামিনে আছেন। এর মধ্যে তিনজন আদালতে উপস্থিত হচ্ছেন না। শুধু আইয়ুব ও সোলায়মান গত সোমবার বিচারিক কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন। এদিকে দুই ছেলের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসীদের এসিড সহিংসতার বিচার চাইতে গিয়ে মুক্তিযোদ্ধা সোবহানও টার্গেটে পরিণত হয়েছিলেন। একই বছর ১ নভেম্বরে রাণিরহাট বাজার থেকে বাড়িতে ফেরার পথে তাকে জীপ থেকে নামিয়ে ফেলেন আসামিরা। এরপর শিশুতল নামক পাহাড়ি স্থানে নিয়ে গিয়ে নিজের হাতে কবর খুড়িয়ে হাত কেটে সোবহানকেও হত্যা করা হয় বলে এ সংক্রান্ত দায়ের করা মামলার এজাহারে উল্লেখ রয়েছে। ঘটনার এক সপ্তাহ পর সোবহানের হাড়গোড় উদ্ধার করে পুলিশ। এ নিয়ে দেশব্যাপী তুমুল সমালোচনার মধ্যে বাঁশখালী থেকে আইয়ুব বাহিনীর প্রধান আইয়ুব আলীকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর এ মামলায় ফৌজদারি কার্যবিধি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে ঘটনার সাথে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে নেন আইয়ুব আলী। এ মামলায় ইতোমধ্যে আইয়ুব আলীসহ অন্যান্য আসামিদের সাজা হয়েছে আদালতে।

ভিকটিমের ভাই ওয়াকিল আহমেদ অভিযোগ করে বলেন, আসামি সালামের ভাই আদালতের রেকর্ড রুমের কর্মচারী মামলার শুনানি চলার সময় বিচারিক আদালতে পিয়নদের পাশে বসে ছিলেন গত সোমবারও। সবসময় এ ধরনের কাজ হয়। এ মামলায় ন্যায় বিচার পাব কিনা সংশয়ে আছি।

x